Home » পূর্বস্থলীর কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা কিসের অশনি সংকেত?

পূর্বস্থলীর কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা কিসের অশনি সংকেত?

সুজয় ভট্টাচার্য,পুরন্দর চক্রবর্তী ও কোয়েলী বনিক, সময় কলকাতা,৯ ডিসেম্বর : পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর কৃষক রুপ সনাতন ঘোষ শনিবার সকালে আত্মঘাতী হলেন। টানা দু-তিন দিনের বৃষ্টিতে আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কায় আত্মঘাতী হলেন তিনি। কৃষক আত্মঘাতী হওয়ার সংখ্যা পশ্চিমবঙ্গে কম হলেও দেশজুড়ে এই আত্মত্যার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সমাধান নেই তবুও বারবার প্রশ্ন ওঠে কার দোষে? কার দোষে কৃষকরা আত্মঘাতী হচ্ছেন গ্রামে গঞ্জে রাজ্যে দেশে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৩ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০২১ ও ২২ সালে প্রতিশ্রুতি কৃষক আত্মহত্যার ঘটনায় চাপা পড়ে গেছে। কৃষি ক্ষেত্রে আত্মহত্যার সংখ্যা বাড়ছে। চাষী ও ক্ষেতমজুর গত দুবছরে পাল্লা দিয়ে আত্মহত্যা করছেন। কৃষি ক্ষেত্রে নথি বদ্ধ আত্মহত্যার সংখ্যা বাড়ছে।২০২১ সালে প্রতিদিন বিরাট সংখ্যক কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। ২০২২ সালে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো ( এনসিআরবি ) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ১০৮৮১ জন কৃষক আত্মঘাতী হয়েছিলেন। ২০২১ সালে যে সংখ্যক কৃষক ও ক্ষেতমজুর আত্মঘাতী হন, ২০২২ সালে এই সংখ্যা দৈনিক ১০ জন করে বেড়েছে।

আরও পড়ুন    ডিসেম্বরে দিল্লি সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা

আত্মঘাতী কৃষকদের মধ্যে ৯০ শতাংশ বা তার চেয়েও বেশি সংখ্যা পুরুষদের। মহারাষ্ট্রে কৃষিক্ষেত্রে আত্মঘাতী হওয়ার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মহারাষ্ট্র ছাড়া বিগত কয়েক বছরে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ – এই রাজ্যগুলিতে কৃষক আত্মহত্যার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় কৃষকরা প্রায়শই আত্মঘাতী হয়ে থাকেন। পশ্চিমবঙ্গ সহ পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে কৃষকের আত্মহত্যার সংখ্যা তুলনামূলক অনেকটাই কম। এই বছরেও যদি সারা ভারতের মানচিত্রের দিকে নজর রাখা যায় তাহলে দেখা যাবে মহারাষ্ট্রের বেশিরভাগ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতে ব্যাপক পরিমাণে কৃষিতে ঘাটতি হয়েছে যার ফলে সহস্রাধিক কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা তুলনামূলকভাবে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, অন্ধপ্রদেশ রাজ্যের তুলনায় কম হলেও এবং এই সংখ্যা হাতে গোনা হলেও কৃষকরা আত্মঘাতী হয়ে থাকেন এই রাজ্যেও।

 

এবছরও এর আগেও কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গে। এবছর মার্চ মাসের শুরুতেই আলু তোলা শুরু হওয়ার সময় আত্মঘাতী হতে দেখা গেছিল একাধিক কৃষককে।জমির আলু জমিতেই পড়ে আছে। দাম নেই। দেনার জ্বালায় আলুচাষিরা আত্মহত্যার বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কালনার ইসমাইল শেখ এবং চন্দ্রকোনার তাপস রুইদাস গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন।এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সত্য স্বীকার করে নিয়ে বলেছিলেন ” আলুর দাম কম হয় চাষিরা সমস্যায় পড়ছেন। ” আলু সহায়ক মূল্য বাড়ানোর দাবি উঠেছিল। উঠেছিল সরকার এক হাজার টাকা কুইন্টাল প্রতি দাম ধার্য করুক আলুর। কী পশ্চিমবঙ্গে, কী ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার চালিত মহারাষ্ট্র রাজ্যে আত্মহত্যার ঘটনা কমেনা। তাই খানাকুলের পরে দু তিন দিনের বৃষ্টিতে আত্মহত্যা করছেন রুপ সনাতন কোষের মত চাষী। পূর্বস্থলী থানার নিমদহ পঞ্চায়েতের আপনি উত্তরপাড়া এলাকার রুপ সনাতন গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন কারণ তাঁর আশঙ্কা ছিল দুদিনের বৃষ্টিতে জল জমে থাকায় প্রবল ক্ষতি হবে তাঁর জমির আলু চাষের। জানা গিয়েছে দামি বিজ কিনে দু’বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন তিনি। পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গায় ও অন্য জেলায় কৃষকদের মধ্যে গুঞ্জন একটা জিনিসই প্রমাণ করছে রুপ সনাতন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলেও অনেকেই অর্থনৈতিক আশঙ্কায় হাসফাঁস করছেন। গত দু’দিনে খানাকুল ও পূর্বস্থলীর দুই আলু চাষির আত্মহত্যা অশনি সংকেত বয়ে আনছে।

About Post Author