Home » কাকদ্বীপে রেশনের খাদ্য সামগ্রিক সরবরাহে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে, সাসপেন্ড ডিস্ট্রিবিউটর

কাকদ্বীপে রেশনের খাদ্য সামগ্রিক সরবরাহে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে, সাসপেন্ড ডিস্ট্রিবিউটর

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১০ ডিসেম্বর: রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রেশন দুর্নীতির তদন্তে একাধিক নতুন তথ্য উঠে এসেছে ইডির হাতে। রেশন বণ্টন দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। এই নিয়ে চর্চার মাঝেই এবার রেশনের ১৫ হাজার কুইন্ট্যাল চাল পাচারের অভিযোগ উঠল কাকদ্বীপের এক রেশন ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে। দিনের পর দিন রেশনের খাদ্য সামগ্রিক সরবরাহে ব্যাপক দুর্নীতি করে ফুলে ফেঁপে উঠেছিল ব্যবসা। খাদ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে গোডাউনে হানা দেওয়ার পর থেকে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে চলে আসে। জেলাশাসকের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত শুরু করে জেলা খাদ্য দপ্তর। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে।

আরও পড়ুন   ফের জঙ্গি হামলায় উত্তপ্ত জম্মু-কাশ্মীর, গুলিবিদ্ধ পুলিশকর্মী

জেলাশাসকের নির্দেশে ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত রেশন ডিস্ট্রিবিউটরকে শো-কজ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওই রেশন ডিস্ট্রিবিউটারের নাম অমিত কুমার ভগত। মূলত কাকদ্বীপ ও নামখানা ব্লকের বিভিন্ন রেশন ডিলারদের রেশনের খাদ্য সামগ্রিক সরবরাহ করত। যদিও ঘটনার পর থেকে বেপাত্তা অভিযুক্ত। খাদ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি ডিসেম্বর মাসের ২ তারিখ খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা কাকদ্বীপে রেশন দোকানগুলি পরিদর্শনে আসেন। অভিযোগ, কয়েকজন ডিলারের থেকে তাঁরা জানতে পারেন, এলাকার ডিস্ট্রিবিউটর অর্ধেকের বেশি দোকানে রেশন সামগ্রী সময় মতো পৌঁছে দেন না। ফলে সঠিক সময়ে গ্রাহকেরা রেশন পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি শোনার পরেই খাদ্য দফতরের আধিকারিকেরা ডিস্ট্রিবিউটরের গোডাউনে পৌঁছে যান। সে সময়ে বেশ কিছু গরমিল ধরা পড়ে বলেই প্রশাসন সূত্রের খবর।

 

দেখা যায়, ওই ডিস্ট্রিবিউটরের গোডাউনে ৪ লক্ষ ২০ হাজার কেজি চাল মজুত থাকার কথা, কিন্তু তা মজুত নেই। ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে আধিকারিকেরা জানতে চান, কেন চাল গোডাউনে মজুত নেই। অমিত জানান, ‘অন্য গোডাউনে মাল আছে, তা ডিলারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।’ কিন্তু ৫ ডিসেম্বর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ৩০ জনের বেশি ডিলার রেশন সামগ্রী পাননি বলে অভিযোগ। খবর পেয়েই খাদ্য দফতরের আধিকারিকেরা ওই ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে খাদ্য দফতরে রিপোর্ট জমা দেন। এরপরই অমিতকে শো-কজ করা হয়। কেন এই গরমিল, তা আগামী সাত দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে। উত্তর সন্তোষজনক না হলে ডিস্ট্রিবিউটরের লাইসেন্স বালিত হতে পারে বলে দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। নামখানা ও কাকদ্বীপ ব্লকের সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই অন্য ডিস্ট্রিবিউটরের হাতে এই দায়িত্বভার তুলে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

About Post Author