Home » ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ মামলার রিপোর্ট কলকাতা হাইকোর্টে জমা দিল ইডি

‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ মামলার রিপোর্ট কলকাতা হাইকোর্টে জমা দিল ইডি

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ ডিসেম্বর: কিছুদিন আগেই ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ মামলার ৫ হাজার পাতার নথি ইডি-র অফিসে জমা দিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার মুখবন্ধ খামে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ মামলার সমস্ত রিপোর্ট জমা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে ওই রিপোর্ট জমা পড়েছে। এই রিপোর্ট দেখার পরই তিনি পরবর্তী নির্দেশ জানাবেন। জানা গিয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট এদিন পেশ করেছে ইডি। বিচারপতি সিনহা জানিয়েছেন, রিপোর্ট খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে। আগামী ২০ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। ওই দিন সিবিআই-ও এই মামলায় রিপোর্ট পেশ করবে। 

আরও পড়ুন   রেশন দুর্নীতি মামলার নয়া মোড়, বালুর স্ত্রী-কন্যার ৫৮টি ফিক্সড ডিপোজিট বাজেয়াপ্ত ইডির

কিছুদিন আগেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই সময়ে অভিষেকের অফিসের একটি কম্পিউটারে ১৬টি ফাইল ডাউনলোড করেন তাঁদের মধ্যেই একজন। এই ঘটনা নিয়েই লালবাজারে অভিযোগ জানিয়েছেন লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের অ্যাকাউন্ট্যান্ট। তারপর এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে লালবাজার। সেসময় বিষয়টি নিয়ে বিচারপতি অমৃতা সিনহার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন ইডির আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের’ অফিস থেকে ডাউনলোড করা ওই ১৬টি ফাইলকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। সেই নির্দেশে বলা হয়েছে ওই ১৬টি ফাইলকে কোনওভাবে প্রামাণ্য নথি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার হিসেবরক্ষক চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাঁদের কাছে সংস্থার কম্পিউটারে ১৬টি নতুন ফাইল চলে এসেছে। এই ফাইলগুলি তাঁদের কাছে নতুন। গভীর রাতে ওই ফাইলগুলি ডাউনলোড হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ২২ আগস্ট রাত ১২টার থেকে ১২ টা ১১ মিনিটের মধ্যে ওই ফাইলগুলি ডাউনলোড করা হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীর।

 

তিনটি ডেস্কটপ ইডি খতিয়ে দেখেছে এবং একটি ডেস্কটপের হার্ডডিস্ক বাজেয়াপ্ত করেছে। বাকি দুটি ডেস্কটপ অফিসে দেখার সময়েই এই ১৬টি নতুন ফাইলের বিষয় তাঁদের নজরে আসে। ওই নথিগুলির মধ্যে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে রুজিরার অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট পাওয়া গিয়েছে। ওই একই ব্যাঙ্কে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে থাকা এলাহাবাদ শাখার অ্যাকাউন্টেরও ১৪২ পাতার স্টেটমেন্ট বাজেয়াপ্ত করেছেন ইডির আধিকারিকরা। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ওই সংস্থার ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন হিসাব নিকাশের নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এমনকী সংস্থার কর্মীদের প্রোফেশনাল ট্যাক্স সংক্রান্ত নথিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়াও আলিপুর এবং বিষ্ণুপুরে নথিভুক্ত হওয়া বেশ কিছু জমির দলিল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর পদে ছিলেন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত কালীঘাটের কাকু। তাঁরই সংস্থা এসডি কনসালটেন্সি। ইডির চার্জশিটে আগেই বলা হয়েছে, বিভিন্ন দফায় এসডি কনসালটেন্সির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস-এর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত মোট ৯৫ লাখ ১ হাজার টাকা সেই অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে বলেই সূত্রের খবর।

About Post Author