Home » রেশন দুর্নীতি মামলার নয়া মোড়, বালুর স্ত্রী-কন্যার ৫৮টি ফিক্সড ডিপোজিট বাজেয়াপ্ত ইডির

রেশন দুর্নীতি মামলার নয়া মোড়, বালুর স্ত্রী-কন্যার ৫৮টি ফিক্সড ডিপোজিট বাজেয়াপ্ত ইডির

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ ডিসেম্বর: রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় প্রায় এক মাস ধরে জেলে বন্দি ছিলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। গত নভেম্বর মাসে তাঁকে ফের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন ব্যাঙ্কশাল কোর্ট। সেই নির্দেশের বিরোধিতা করে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন রেশন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত মন্ত্রী। তাঁর দাবি, তিনি অসুস্থ। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না তাঁর আত্মীয়রা। তাঁর কাছে যেতে পারছেন না আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আজই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, মঙ্গলবারই রেশন দুর্নীতি মামলায় ১৬২ পাতার চার্জশিট পেশ করেছে ইডি, যাতে জ্যোতিপ্রিয়র বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন   সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে খারিজ দ্রুত শুনানির আর্জি, বিরোধিতা করে প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ মহুয়া মৈত্র

ইডির পেশ করা চার্জশিট থেকে জানা গিয়েছে, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের স্ত্রী ও কন্যার নামে ৫৮টি টার্ম ডিপোজিট ছিল ব্যাঙ্কে। সেই অ্যাকাউন্টগুলিতে মোট ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ১ হাজার ৪৭৮ টাকা জমা ছিল। ইডি সূত্রে খবর, এই গোটা টাকাই বাজেয়াপ্ত করেছেন গোয়েন্দারা। তবে রেশন দুর্নীতির সঙ্গে এই টাকার যোগ রয়েছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বালুর স্ত্রী ও মেয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা দু’কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৩০ কোটি টাকা গিয়েছে বাকিবুরের কাছে। শুধু তাই নয়, ইডির চার্জশিটে বাকিবুরকে মূল চক্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে প্রায় তিরিশ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে, তাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইডির দাবি, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রভাবেই বাকিবুর দুর্নীতির পুরো টাকা ঘুরপথে পাঠাতেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীকে।

 

মঙ্গলবার রেশনবন্টন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ১২ জনের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট পেশ করে ইডি। তাতে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং রেশন ডিলার বাকিবুর রহমান ছাড়াও ১০টি সংস্থার নাম রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি বাকিবুর এবং বাকি পাঁচটি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নামে নথিভুক্ত বলে খবর। অন্যদিকে, রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই ইডির জানতে পেরেছে রাজ্যের একাধিক সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির চাবিকাঠি প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমানের হাতে। সমিতিগুলির আইডি ও পাসওয়ার্ড জানতেন বাকিবুর! এমনকী সেগুলির নিয়ন্ত্রণও ছিল এই ব্যবসায়ীর হাতে। সেই সুবিধা নিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো ভুয়ো কৃষকদের নাম ঢোকানো হত সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির তালিকায়। এই পদ্ধতিতে রেশন বণ্টনের নামে কোটি কোটি টাকা তছরূপ করেছেন বাকিবুর ও তাঁর সঙ্গীরা, এমনই অভিযোগ ইডির।

About Post Author