সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ ডিসেম্বর: পেরিয়ে গিয়েছে ৩২২ দিন। এখনও ডিএ-র দাবিতে কলকাতার রাজপথে আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়াচ্ছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা। চলতি মাসেই রাজ্য সরকারী কর্মচারীরা ডিএ-র দাবিতে নবান্নের সামনে অবস্থান বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। এছাড়াও নতুন বছরের শুরুতেই মহা মিছিলের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। শিয়ালদহ, হাজরা, হাওড়া থেকে মিছিল হওয়ার কথা আছে। বকেয়া ডিএ-র দাবিতে রাজ্য সরকারি কর্মীরা ৩২২ দিন ধরে আন্দোলন করছেন। চলতি মাসের ১৯ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ নবান্ন বাসস্ট্যান্ডে সভা করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। কিন্তু তাদের সভার অনুমতি এখনো দেয়নি রাজ্য পুলিশ। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, গোটা বিষয়টি নিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে প্রশাসন। এরপরই আন্দোলনের জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। তারা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। প্রথমে হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত তাঁদের আবেদন ফিরিয়ে দেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন। সোমবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন বর্ধমানে জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ার ঘটনায় রেলের বিরুদ্ধে FIR দায়ের মৃতের পরিবারের
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনে নেমেছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। দীর্ঘসময় ধরে ধর্মতলার শহিদ মিনারে চলেছে তাঁদের আন্দোলন। মাস খানেক আগে তাঁরা অনশনও শুরু করেছিলেন। গত ২৪ এপ্রিলের আগে গত ১৫ মার্চ ডিএ মামলার শুনানি পিছিয়ে ২১ মার্চ সময় দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। সেসময় চূড়ান্ত শুনানির আশায় দিল্লি গিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু ওইদিনও তাঁদের আশাহত হতে হয়। সর্বোচ্চ আদালত জানায় ১১ এপ্রিল এই মামলার শুনানি হবে। এরপর ফের পিছিয়ে যায় এই মামলার শুনানি। প্রসঙ্গত, গত বছরের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের ৩১ শতাংশ হারে মহার্ঘ্য ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করেছিল। সেই মামলারই শুনানি ছিল।
রাজ্যের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে কর্মচারিদের ডিএ দিতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। যা রাজ্য সরকারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। কিন্তু রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের দাবি, ডিএ তাঁদের অধিকার। তা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। হাইকোর্টের নির্দেশের পরও রাজ্য সরকার ডিএ না দেওয়ায় সম্প্রতি আন্দোলনে নেমেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলির যৌথমঞ্চ। ধর্মতলায় শহিদ মিনারের নিচে তাঁরা অনশন আন্দোলন শুরু করেছেন। বাম-কংগ্রেস, বিজেপি-সহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল আন্দোলনকারীদের সমর্থন করছে। এরমধ্যে প্রতীকী ধর্মঘটও করেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে বারবার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় সমাধান সূত্র বের হতে দেরি হচ্ছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা