সময় কলকাতা, অর্কজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরন্দর চক্রবর্তী, ১৫ ডিসেম্বর: আদর্শগত বিরোধ যাই থাকুক না কেন, চিন্তনে হিন্দুত্ব রক্ষার ভাবনা। আর সেই ভাবনার অনুসারী হয়ে একই মঞ্চ থেকে এক স্বাধীনতা সংগ্রামী ও অপর এক দলীয় রাজনৈতিক নেতার জন্মদিন পালন বিজেপির। একদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর জন্মদিন। অন্যদিকে একই দিনে জন্মদিন শুভেন্দু অধিকারীর ‘রাজনৈতিক গুরু’ তথা অবিভক্ত তাম্রলিপ্তর জাতীয় সরকারের প্রধান ও স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীশ চন্দ্র সামন্তের। সেই উপলক্ষে উত্তর ২৪ পরগণার হৃদয়পুর প্রনবকণ্যা আশ্রমের আবাসিক শিশুদের- সহ মোট ১৫০ জনকে মধ্যাহ্নভোজ এবং শীতবস্ত্র প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বারাসাত বিজেপির পক্ষ থেকে। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
আরও পড়ুন রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে এবার রাজ্য পুলিশের ডিজিকে চিঠি ইডির
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ‘দেশ ছাড়ো’ আন্দোলনের ডাক দিয়ে কারাগারে বন্দী মহাত্মা গান্ধি। দেশের স্বাধীনতার স্বার্থে বিদেশে দৌড়ে বেড়াচ্ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে রাস্তায় নামলেন দেশবাসী। ছোট ছোট আকারে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে সেই আন্দোলন। একাধিক জায়গায় স্বাধীন জাতীয় সরকার গঠিত হয়। তারমধ্যে অন্যতম অবিভক্ত তাম্রলিপ্ত বা অধুনা তমলুক। অবিভক্ত তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠিত হয়েছিল ১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর। ওই সরকারের পুরোধা ছিলেন সতীশচন্দ্র সামন্ত, সুশীল ধারা, অজয় মুখোপাধ্যায়। তিনজনেই ছিলেন মেদিনীপুরের কংগ্রেস নেতা। ওই সময়ে একাধিক কংগ্রেস নেতাকে নির্বিচারে গ্রেফতার করা হয়। গা ঢাকা দেন এই তিন নেতা।

তখন অবিভক্ত বাংলায় ছিল ফজলুল হকের সরকার। যে সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়। জনসংঘের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিরোধের কথাও শোনা যায় তম্রলিপ্তের স্বাধীন সরকারের নেতৃত্বের। সেই তাম্রলিপ্ত সরকারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সতীশ চন্দ্র সামন্তের জন্মদিন পালন করল বারাসাত বিজেপি। শুধু তাই নয় বিজেপি নেতা দীপ্ত কুমার লস্করের গলায় শোনা গেল সতীশ সামন্তের ভূয়সী প্রশংসা। তিনি বলেন, “আদর্শগত বিরোধ তখন ছিল। তবে স্বাধীনতার প্রায় ৭০ বছর পর দেখা গিয়েছে তাঁরা নিজ নিজ চিন্তনে বাঙালি জাতি ও হিন্দুত্বকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। এই পশ্চিমবঙ্গ তারই ফলশ্রুতি।” ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল বিপক্ষের নেতা ভাঙিয়ে আনার। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল বা বিরোধী দল সিপিএম বা কংগ্রেস প্রায়ই দাবি করে বঙ্গে বিজেপির নিজস্ব নেতা নেই। এবার কংগ্রেসের আদর্শে আজীবন রাজনীতি করা সতীশ সামন্তের জন্মদিন পালন করায় ফের বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে পড়তে হল বিজেপিকে। তাদের দাবি নেতার পর এবার কংগ্রেসের আদর্শকে পাথেয় করছে বিজেপি।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?