সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ ডিসেম্বর: বর্ধমান স্টেশনে জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ার ঘটনা থেকে শিক্ষা পেয়ে এবার পূর্ব রেলের প্রত্যেক স্টেশন এবং প্ল্যাটফর্মে থাকা মোট ৬০টি জলের ট্যাঙ্ক ভাঙার সিদ্ধান্ত নিল পূর্ব রেল। পানীয় জলের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে নতুন করে স্টেশন চত্বরের বাইরে অন্যত্র জলাধার তৈরি করা হবে বলেই জানানো হয়েছে।যাত্রী নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই পূর্ব রেলের এই সিদ্ধান্ত। পূর্ব রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া, আসানসোল, মালদহ-সহ ৪টি ডিভিশনের প্ল্যাটফর্মে থাকা মোট ১২টি পুরনো জলাধারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলি ভেঙে ফেলা হবে। এছাড়া শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে থাকা ৭টি, আসানসোলের ২৩টি, হাওড়ার ১৪টি এবং মালদহের ৪টি ট্যাঙ্ক ভেঙে ফেলা হবে। তবে, এই কাজ চলাকালীন যাত্রী পরিষেবা যাতে বিঘ্নিত না হয় সে বিষয়ে পূর্ব রেলের তরফে নজর রাখা হবে বলেও জানা গিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র জানান, ‘পূর্ব রেলের অধীনে বিভিন্ন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে থাকা পুরনো জলাধারগুলি ভেঙে ফেলার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামী এক বছরের মধ্যে স্টেশন চত্বরে থাকা জলাধারগুলিও ভেঙে ফেলার কাজ শেষ হবে।’ প্রসঙ্গত, গত বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ বর্ধমান স্টেশনের ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মাঝে জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ে আহত হয়েছেন ৩২ জন। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে নামে বর্ধমানের জিআরপি ও আরপিএফ এবং বর্ধমান থানার পুলিশ। গোটা ঘটনায় স্টেশন চত্বরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, এই ঘটনার জেরে বর্ধমান স্টেশনের দুই এবং তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। বাকি প্ল্যাটফর্মগুলি থেকে ধীর গতিতে চলছিল ট্রেন।
আরও পড়ুন UEFA Champions League: প্রকাশিত হল উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর সূচি, কঠিন লড়াই বার্সেলোনার
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান স্টেশনের ২ এবং ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের উপরে ১৫ হাজার ৮০০ গ্যালনের বিশাল জলের ট্যাঙ্কটি রাখা ছিল। আচমকাই সেটি ভেঙে পড়ে ঘটে যায় বিপত্তি। প্ল্যাটফর্মে সেই সময় বেশ কয়েকজন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের গায়ের উপরই গিয়ে ভেঙে পড়ে ট্যাঙ্কটি। প্ল্যাটফর্মে থাকা বাকি রেলের প্যাসেঞ্জাররা সেখানে ছুটে আসেন। ঘটনার খবর পেয়েই ছুটে আসেন রেলপুলিশ ও দমকল কর্মীরা। স্টেশন চত্বরে তুমুল হৈ হট্টগোল শুরু হয়। যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে তারা উদ্ধার কাজে হাত লাগান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিনজনের। ধ্বংসস্তুপের ভিতরে বেশ কয়েকজন আটকে ছিল। আহতদের তড়িঘড়ি উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যালে কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় যাত্রীরা রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও এই ঘটনা বড় আকার নিয়েছে বলে দাবি করছেন বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূলের বিধায়ক খোকন দাস।


More Stories
প্রাক্তন বিধায়ক রফিকুরের ভাই আনিস গ্রেফতার
তৃণমূলের শ্বাসকষ্টের আরেক শিকার অভিষেক ঘনিষ্ঠ শুভ্রকান্তির পদত্যাগ
দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে বিপদ,সৌগত রায়কে লক্ষ্য করে উড়ে এল পচা ডিম