সময় কলকাতা ডেস্ক, ১ জানুয়ারিঃ নতুন বছরের শুরুতেই ঊর্ধ্বমুখী করোনা গ্রাফ। ক্রমশ মাথাচাড়া দিচ্ছে করোনার নয়া ভ্যারিয়েন্ট জেএন.১। শীতের মরশুমে সাধারণ মানুষকে গ্রাস করছে করোনা আতঙ্ক! করোনার চোখ রাঙ্গানিতে কাবু গোটা দেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সব রাজ্যের কাছে চিঠিও পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ভারতেও হু হু করে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। বছরের প্রথম দিনও ভয় ধরাচ্ছে করোনা। নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আনন্দের মাঝেই দেশে সর্বাধিক দৈনিক সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪০ জন। ভারতের সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ৪৩৯৮। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে তিন জন আক্রান্তের। উৎসবের আনন্দের মাঝেই করোনার চোখ রাঙানি নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষও।
আরও পড়ুন প্রাক্তন অলিম্পিয়াড সেমিফাইনালিস্টের অস্বাভাবিক মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ
এহেন পরিস্থিতিতে একাধিক জনবহুল এলাকাগুলি করোনার হটস্পট হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে। রবিবারই ৮০০-র গণ্ডি পার করেছে দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত করোনার এই সাব ভ্যারিয়েন্টে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। এখনও পর্যন্ত নয়টি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা সংক্রমণ। কেরল, মহারাষ্ট্র, গোয়া- এই তিন রাজ্যে জেএন.১-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। কেরলে সাতজন করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলিকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে কোভিড পরিস্থিতির উপর নজরদারির যে গাইডলাইন রয়েছে, তা মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে। ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো কোনও অসুস্থতা বা শ্বাসজনিত কোনও অসুস্থতার উপর জেলাস্তরে নজরদারি আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই তথ্য নিয়মিতভাবে ইন্টিগ্রেটেড হেল্থ ইনফরমেশন পোর্টালে তোলার জন্য বলা হয়েছে। জেলাস্তরে যাতে নির্দিষ্ট অনুমাতে আরটি-পিসিআর ও অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়, সেই পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। বিশেষ জোর দিতে বলা হয়েছে আরটিপিসিআর পরীক্ষার উপর। কোনও নমুনায় করোনার সংক্রমণ ধরা পড়লে, সেটি সঙ্গে সঙ্গে জিনোম সিকোয়েন্সিং-এর জন্য বলা হয়েছে। যাতে কোনও নতুন ভ্যারিয়েন্ট ঢুকে পড়েছে কি না, তা আগে ভাগে শনাক্ত করা যায়। প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে কি না, তাও দেখে নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়ানোর পরামর্শও দিয়েছে কেন্দ্র।


More Stories
চিকিৎসক বিরুপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা সরকারের
স্বাস্থ্য পরিষেবায় আধুনিকীকরণে জোর দেবেন নরেশ রায়
বারাসাতে নিপায় আক্রান্ত নার্সের মৃত্যু