দীপ সেন ও পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ১২ ফেব্রুয়ারি : শেষরক্ষা হল না। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে থাকা নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত তরুণী নার্স শেষ পর্যন্ত ঢলে পড়লেন হার মানলেন। মাসাধিক কাল তিনি ভর্তি ছিলেন বারাসাত বেসরকারি হাসপাতালে। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসায় সাড়া দিলেও গত কয়েকদিন ধরে তাঁর অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তার প্রবলভাবে হৃদরোগ আক্রান্ত হন । তাঁকে বাঁচানোর মরিয়া প্রয়াস হিসেবে সবরকম চেষ্টা করেছিলেন চিকিৎসকরা।এদিন দুপুরের পরে ওই নার্সের মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, প্রকাশিত এবং প্রাপ্ত তথ্যমতে -এবার বঙ্গে নিপার হানার প্রথম শিকার ছিলেন দুজন নার্স, তাঁদের একজন এদিন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন । দুজনেই গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় একিউট এনকেফ্যালাইটিস সিন্ড্রোম নিয়ে ভর্তি হন হাসপাতালে। অন্য হাসপাতালে প্রথমে ভর্তি হলেও পরে তাদের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বারাসাতের নারায়ানা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেসময় জানা গিয়েছিল আক্রান্তদের একজনের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানে, অন্যজনের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। অধিকতর নিশ্চিন্ত হতে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে তাঁদের নমুনা পাঠানো হয় পুণের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ভায়রোলজিতে যার ফল হাতে আসতেই স্বাস্থ্য দফতর নিশ্চিত হয়ে যায় যে, তাঁরা নিপা আক্রান্ত।
উল্লেখ্য, নিপা ভাইরাস মারণ ব্যাধি এবং মৃত্যুর হার অন্তত ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ। জ্বর, বমি, স্নায়বিক ও শ্বাসযন্ত্রগত সমস্যা সহ একাধিক উপসর্গ নিয়ে রোগের সূচনা হলেও দ্রুত রোগী চলে যেতে পারেন কোমায়। বাদুর ও শূকরের থেকে রোগ দেখা দিতে পারে। রোগের অন্যতম উৎস বলা হয় বাদুড়ের লালাকে। খেজুরের রস থেকে এই রোগ ছড়াতে পারে বলে মনে করা হয়। খেজুরের রসের সঙ্গে বাদুড়ের লালা ও প্রস্রাব মানবদেহে বাহিত হতে পারে বলে কারণ হিসেবে দেখানো হয়। এই রোগের টিকা নেই।
More Stories
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
কেন পদত্যাগ করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস?