Home » ‘যদি কোনও দুর্নীতি প্রমাণিত হয়, সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগ করব’ ঃ সুজিত বসু

‘যদি কোনও দুর্নীতি প্রমাণিত হয়, সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগ করব’ ঃ সুজিত বসু

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৩ জানুয়ারিঃ  পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। নতুন বছরের শুরু থেকেই পুর দুর্নীতির তদন্তে তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে ইডি। শুক্রবার সকাল থেকেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছিল ইডি। পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে এদিন সাত সকালেই রাজ্যের দমকল মন্ত্রী তথা হেভিওয়েট নেতা সুজিত বসুর লেকটাউনের বাড়িতে হানা দেয় ইডির আধিকারিকরা। এদিন টানা ১৪ ঘন্টা তল্লাশির পর দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর বাড়ি ছাড়েন ইডি আধিকারিকরা। বেশকিছু নথির পাশাপাশি মন্ত্রীর ফোনও নিয়ে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। ইডি আধিকারিকরা বেরিয়ে যাওয়ার পরই সাংবাদিক বৈঠক করেন দমকল মন্ত্রী। সাংবাদিক বৈঠকে এদিন সুজিত বসু জানান,‘ আমার ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আমি এমারজেন্সি বিভাগের মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। যদি কোনও দুর্নীতি প্রমাণিত হয়, সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগ করব।’ 

আরও পড়ুন     OPTICAL ILLUSION: ১ শতাংশ মাত্র পারবে নীচের দেওয়া ছবি দুটির মধ্যে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ৩ টি পার্থক্য খুঁজে বের করতে

অন্যদিকে, শুক্রবার সকালে তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় ও উত্তর দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবোধ চক্রবর্তীর বাড়িতেও হানা দেন ইডি অফিসাররা। প্রায় ১২ ঘণ্টা তল্লাশির পর তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায়ের বউবাজারের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান ইডি আধিকারিকরা। তারপরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাপস রায় জানান, তাঁর মোবাইল ফোন এবং কিছু নথি নিয়েছে ইডি। জিজ্ঞাসাবাদে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন বলে দাবি করেছেন তাপস রায়। এদিন সকাল পৌনে সাতটা নাগাদ বিধায়কের বউবাজারের বাড়িতে পৌঁছন ইডি আধিকারিকরা। সারাদিন চলে তল্লাশি। টানা ১২ ঘণ্টা পর সন্ধেবেলা তাঁরা বেরিয়ে যান। প্রসঙ্গত, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত ‘মাস্টারমাইন্ড’ অয়ন শীলের এক ডায়েরির সূত্র ধরেই শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়েছিল তল্লাশি অভিযান। অয়ন শীলের সল্টলেকের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়েই প্রথম পুর নিয়োগ দুর্নীতির খোঁজ পায় ইডি।

সেই সময় তাঁর বাড়ি ও অফিস থেকে বেশকিছু নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। বাজেয়াপ্ত করা জিনিসের মধ্যেই ছিল একটি ডায়েরি। ইডি সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া ওই ডায়েরির পাতায় কিছু সাঙ্কেতিক কোড লেখা আছে। যা দেখে সন্দেহ হয় অফিসারদের। এরপরই শুরু হয় ম্যারাথন তল্লাশি। পুর নিয়োগ দুর্নীতির মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’ অয়ন শিলের সঙ্গে তাঁর কীভাবে পরিচয় হল সুজিত-তাপস-সুবোধদের? পুরসভায় দুর্নীতি কীভাবে হল? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতেই মরিয়া তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতা থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের গ্রেফতারির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তবে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত বছর আগস্ট মাসে সুজিত বদুকে তলব করে সিবিআই। জানা গিয়েছে,পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে দক্ষিণ দমদম পুরসভার নাম জড়িয়েছে। ২০১৬ সালে দক্ষিণ দমদম পুরসভার উপপুরপ্রধান ছিলেন সুজিত বসু। সূত্রের খবর, অয়ন শীলের অফিস থেকে পাওয়া নথির ভিত্তিতে দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগে বেনিয়ম হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতেই দমকল মন্ত্রীকে তলব করা হয়েছিল।

About Post Author