Home » পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে সাতসকালে সুজিত বসু ও তাপস রায়ের বাড়িতে ইডির হানা

পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে সাতসকালে সুজিত বসু ও তাপস রায়ের বাড়িতে ইডির হানা

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ জানুয়ারিঃ পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যত এগচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। নতুন বছরের শুরু থেকেই নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে ইডি। শুক্রবার সকাল থেকেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে ইডি। পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে এদিন সাত সকালেই রাজ্যের দমকল মন্ত্রী তথা হেভিওয়েট নেতা সুজিত বসুর লেকটাউনের বাড়িতে ইডির হানা। মন্ত্রীর বাড়ির বাইরে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর দরজা খুলে দেওয়া হয় তাদের। তারপর ভিতরে যান আধিকারিকরা। কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘিরে ফেলে মন্ত্রীর গোটা বাড়ি। সঙ্গে রয়েছে লেকটাউন থানার প্রচুর পুলিশও। তল্লাশির পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলেই খবর।   

আরও পড়ুন   রাজ্যে ক্রমশ কমছে তাপমাত্রার পারদ, বাড়তে শুরু করেছে উত্তুরে হাওয়ার দাপট

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, পাঁচ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। একইসঙ্গে এদিন সকালে তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় ও উত্তর দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবোধ চক্রবর্তীর বাড়িতেও হানা দেন ইডি অফিসাররা। জানা গিয়েছে, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত ‘মাস্টারমাইন্ড’ অয়ন শীলের এক ডায়েরির সূত্র ধরেই শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। অয়ন শীলের সল্টলেকের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়েই প্রথম পুর নিয়োগ দুর্নীতির খোঁজ পায় ইডি। সেই সময় তাঁর বাড়ি ও অফিস থেকে বেশকিছু নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। বাজেয়াপ্ত করা জিনিসের মধ্যেই ছিল একটি ডায়েরি। ইডি সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া ওই ডায়েরির পাতায় কিছু সাঙ্কেতিক কোড লেখা আছে। যা দেখে সন্দেহ হয় অফিসারদের। এরপরই শুরু হয় ম্যারাথন তল্লাশি। পুর নিয়োগ দুর্নীতির মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’ অয়ন শিলের সঙ্গে তাঁর কীভাবে পরিচয় হল সুজিত-তাপস-সুবোধদের? পুরসভায় দুর্নীতি কীভাবে হল? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতেই মরিয়া তদন্তকারীরা।

প্রসঙ্গত, এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতা থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের গ্রেফতারির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তবে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত বছর আগস্ট মাসে সুজিত বদুকে তলব করে সিবিআই। জানা গিয়েছে,পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে দক্ষিণ দমদম পুরসভার নাম জড়িয়েছে। ২০১৬ সালে দক্ষিণ দমদম পুরসভার উপপুরপ্রধান ছিলেন সুজিত বসু। সূত্রের খবর, অয়ন শীলের অফিস থেকে পাওয়া নথির ভিত্তিতে দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগে বেনিয়ম হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতেই দমকল মন্ত্রীকে তলব করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, পুর নিয়োগ দুর্নীতির কথা প্রথম সামনে আসে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অয়ন শীল গ্রেফতার হওয়ার পর। ইডি আদালতে দাবি করেছিল, তাঁর থেকে উদ্ধার হওয়া নথিতে পুর নিয়োগে দুর্নীতির হদিশ মিলেছে। একইসঙ্গে ইডি দাবি করে, উদ্ধার হওয়া নথি দেখে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ৬০টি পুরসভায় বেআইনি নিয়োগ হয়েছে। তারপরেই পৃথকভাবে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

About Post Author