Home » রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলার জের, এবার নয়া নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রকের

রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলার জের, এবার নয়া নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রকের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ জানুয়ারিঃ রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। বছরের শুরু থেকেই রেশন দুর্নীতির তদন্তে তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে ইডি। রেশন দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন শাসক দলের তাবড় তাবড় নেতারা। এহেন পরিস্থিতিতে এবার নয়া নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রক। এই মর্মে ইতিমধ্যেই নয়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, গ্রাহকের মৃত্যুর পরে কার্ড বাতিল হলে বা নতুন গ্রাহকের নামে কার্ড তৈরি হলে তা কেন্দ্রকে দ্রুত জানাতে হবে। এক জন গ্রাহক দেশের যে কোনও জায়গায় গিয়ে নিজের আধার নম্বরের বায়োমেট্রিক যাচা‌ই করিয়ে যে কোনও রেশন দোকান থেকে তাঁর বরাদ্দ পেতে পারেন। কোনও রেশন ডিলার ‘এক দেশ, এক রেশন কার্ড’ ব্যবস্থায় গ্রাহককে খাদ্যসামগ্রী দিতে অস্বীকার করতে পারবেন না।

আরও পড়ুন    সুপার কাপের ফাইনালে ওড়িশার মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল

এর জন্য যাতে রেশনের দোকানে পর্যাপ্ত সামগ্রী সব সময় মজুত থাকে, তা-ও রাজ্য সরকারকে নিশ্চিত করার কথা জানানো হয়েছে। নতুন এই নির্দেশে রেশনের দোকানের কাজকর্ম নিয়েও নিয়মিত রিপোর্ট পাঠানোর কথাও জানানো হয়েছে। অনলাইনে কেন্দ্রকে এই তথ্য পাঠাবে সব রাজ্য। শুধু বাংলাতেই নয়, দেশ জুড়েই এই ব্যবস্থা চালু করার কথা নির্দেশে জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, রেশন ব্যবস্থায় নজরদারি কঠোর করতেই এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ জানুয়ারি মন্ত্রকের জারি করা ‘কন্ট্রোল অর্ডার’-এ জানানো হয়েছে, কোন রেশন ডিলারকে কতটা খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে ও তার কতটা বণ্টন হয়েছে, তা-ও জানাতে বাধ্য থাকবে খাদ্য দপ্তর। এ প্রসঙ্গে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ বলেন, ‘বর্তমানে রাজ্যের খাদ্য বণ্টন ব্যবস্থা পুরোপুরি অনলাইনে পরিচালিত এবং স্বচ্ছ। কেউ চাইলেই তা দেখে নিতে পারেন। এটা আলাদা করে জানানোর কিছু নয়। তবে অনেক রাজ্যেই এই ব্যবস্থা নেই। তাই হয়তো কেন্দ্র এই নির্দেশ জারি করেছে।’

এদিকে, রেশন দুর্নীতির তদন্তে শংকর আঢ্যর আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য পেতে ইতিমধ্যেই কলকাতা ও সল্টলেকের ৪ জায়গায় তল্লাশি চালান ইডি। তার মধ্যে যেমন রয়েছে রেশন দুর্নীতি মামলায় ধৃত শঙ্কর আঢ্যর অফিস, তেমনই রয়েছে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে তাঁর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অরবিন্দ সিংয়ের অফিসও। তাঁর কলকাতার বাড়ি, অফিসে চিরুনি তল্লাশি চালানোর পর উদ্ধার হয় প্রচুর বাংলাদেশি মুদ্রা। ভারতীয় টাকায় যা প্রায় ৮ লক্ষের কাছাকাছি। রেশনে মোট ১০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলেই জানিয়েছে ইডির আইনজীবী। যার মধ্যে ২৭০০ কোটি টাকা পাচার হয়েছিল দুবাইয়ে। বিগত প্রায় এক দশক ধরে এই কারবার চলছে। শঙ্কর আঢ্যর সংস্থার মাধ্যমেই ওই বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার করা হয় বলে দাবি ইডির। উল্লেখ্য, টানা ১৭ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর অবশেষে গত ৫ জানুয়ারি রাত ১২টা নাগাদ রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যকে গ্রেফতার করে ইডি। এদিন রাতেই তাঁকে নিয়ে আসা হয় সিজিও কমপ্লেক্স। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে,শঙ্করের বাড়ি থেকে রেশন দুর্নীতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়া গিয়েছে। উদ্ধার হয়েছে নগদ প্রায় সাড়ে আট লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, শঙ্করের শ্বশুরবাড়িতে তল্লাশি অভিযানের পর লাখ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে। সূত্রের খবর, সব মিলিয়ে নগদে প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। জানা গিয়েছে, বাড়ির একটি আলমারিতে রাখা ছিল এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, যার মধ্যে বেশিরভাগই ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল।

About Post Author