Home » ট্যাক্সিচালকের স্বপ্নের সওদাগর পুত্র রেহান আহমেদ

ট্যাক্সিচালকের স্বপ্নের সওদাগর পুত্র রেহান আহমেদ

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ জানুয়ারি : ইংল্যান্ড দলের হয়ে হায়দ্রাবাদে ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে এক ছোটখাটো চেহারার স্পিনার কে বল করতে দেখেছেন ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীরা। বয়সে নবীন, চেহারায় ভারতীয় উপমহাদেশের ছাপ। নাম রেহান আহমেদ । পাকিস্তান বংশোদ্ভূত রেহান তাঁর ট্যাক্সিচালক বাবার স্বপ্নপূরণ করার যে ব্রত নিয়েছেন যে কাহিনী চলচ্চিত্রকেও হার মানাবে।

রেহান আহমেদকে ইতিমধ্যেই ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীরা চিনতে শুরু করেছেন । এবার ভারতের মাটিতে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের সদস্য ভারতে আসার আগেই রেহান আহমেদ নজির গড়েছেন সবচেয়ে কম বয়সে ইংল্যান্ড দলের হয়ে টেস্ট অভিষেক ঘটিয়ে। মাত্র ১৮ বছর ১২৬ দিনে টেস্ট অভিষেক ঘটে রেহান আহমেদের। ১৪৭ বছরের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে ইংল্যান্ডের হয়ে এত কম বয়সে কেউ টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখেননি। আর টেস্ট ক্রিকেটে আবির্ভাবেই সাড়া ফেলে দেন রেহান। করাচিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ৭ উইকেট নেন রেহান যার মধ্যে এক ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার নজির গড়েন তিনি ।২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টে রেহান টেস্ট ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করেন ফাস্ট বোলার জেমস অ্যান্ডারসনের বদলী হিসাবে। কিংবদন্তি পেসার জেমস অ্যান্ডারসনকে সেই টেস্টে বিশ্রাম দেওয়া হয়। আর করাচি টেস্টে উদীয়মান রেহান বুঝিয়ে দেন, বিশ্ব ক্রিকেটে আরেক প্রতিভাবান লেগ স্পিনারের উদয় হয়েছে।

রেহানের কাছে অভিষেকের লগ্ন ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকমের। কারণ পাকিস্তানের মাটিতেই তাঁর পূর্বপুরুষদের জন্ম। করাচি টেস্টে প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেন রেহানকে টেস্ট ক্যাপ তুলে দেন যা শুধু পাকিস্তান বংশোদ্ভুত রেহানের কাছেই নয় তার বাবা নঈম আমেদের কাছে স্বপ্নের মুহূর্ত, গৌরবের লগ্ন। নঈম আহমেদ এই সময়ের জন্য অপেক্ষা করে ছিলেন। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মীরপুরের বাসিন্দা নঈম একসময় ক্রিকেটার ছিলেন আর চুটিয়ে ক্রিকেট খেলতেন।কিন্তু ক্রিকেটার হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। ২০০১ সালে তিনি পাকিস্তান ছেড়ে ইংল্যান্ডের নটিংহ্যামে চলে যান তাঁর সন্তান ও নববিবাহিতা স্ত্রী মুশরাত হোসেন কে নিয়ে আর ট্যাক্সি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকেন। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল তাঁর তিন ছেলে রাহিম, রেহান আর ফারহানকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করা। তিন ছেলেই কালক্রমে হয়ে ওঠে ক্রিকেটার। তাঁর ছোট ছেলে
একজন অফ স্পিনার। সেও অনূর্ধ্ব ১৯ ইংল্যান্ড দলের সদস্য।গর্বিত পিতা নঈম আমেদ বলেছেন,”ফারহান এখন মাত্র ১৫ বছরের ছেলে তাই ভবিষ্যতে কী হবে তা বলা কঠিন, তবে আমি মনে করি সে ভাল ক্রিকেটার হয়ে উঠবে।আমি তাকে এটা উপভোগ করতে বলেছি, রেহান যখন তার আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল তখন আমি একই কথা বলেছিলাম”। নঈম আমেদ বলেছেন,“আমি একজন ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার হতে চেয়েছিলাম। ইংল্যান্ডে যাওয়ার আগে আমি ক্লাব লেভেল পর্যন্ত খেলেছি, কিন্তু কখনোই আমার ছেলেদের ক্রিকেট খেলার জন্য চাপ দিইনি। এখন আমাদের বাড়িটা এক অর্থে খেলার মাঠ হয়ে গিয়েছে।”

পরিবারে ইংল্যান্ডের দুজন খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও, নাঈম মনে করেন তার প্রথম সন্তান রাহিম, সবচেয়ে প্রতিভাবান এবং স্ট্রেস ফ্র্যাকচার না হলে রেহানের সাথে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলতে পারত। যাই হোক, রেহানের দিকে বিশ্বের চোখ রয়েছে। এ মুহূর্তে ইংল্যান্ড দলের ভারত সফরে হায়দ্রাবাদে প্রথম টেস্টে প্রথম একাদশে সুযোগ পান রেহান। স্পিন বলে পারদর্শী ভারতের ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে রেহান প্রথম ইনিংসে সেভাবে দাগ কাটতে না পারলেও দুটি উইকেট তুলে নেন তিনি । তবে তাঁর এখন শেখার সময় তা বলার অপেক্ষা রাখে না।কিংবদন্তি লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন ও ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর প্রথম টেস্টে শচীন তেন্ডুলকার ও রবি শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রচুর রান দিয়েছিলেন কিন্ত তার পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্বের তাবড় ব্যাটারদের আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছিলেন। ১৯ বছরের  রেহান আহমেদ আগামী দিনে ব্যাটসম্যানদের ঘুম কেড়ে নেবেন কিনা তা সময়ই বলবে।।

আরও পড়ুন সুপার কাপের ফাইনালে ওড়িশার মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল

About Post Author