Home » EAST BENGAL: সুপার কাপের ফাইনালের আগে কুয়াদ্রাত ইস্টবেঙ্গলের হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা

EAST BENGAL: সুপার কাপের ফাইনালের আগে কুয়াদ্রাত ইস্টবেঙ্গলের হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২৮ জানুয়ারি: দীর্ঘ ১২ বছর বড় কোনও ট্রফি নেই ইস্টবেঙ্গলে। চলতি মরশুমে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে উঠলেও শেষরক্ষা হয়নি। হারতে হয়েছে চির প্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানের বিরুদ্ধে। ট্রফি জয়ের জন্য ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের প্রতীক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে। এই পরিস্থিতে রবিবার কলিঙ্গ সুপার কাপের ফাইনালে মাঠে নামতে চলেছে লাল হলুদ শিবির। প্রতিপক্ষ ওড়িশা এফসি। গতবারে বঙ্গপোসাগরের তীরে অবস্থিত এই দলের হাতে উঠেছিল সুপার কাপের ট্রফি। এবারও ট্রফি জয়ের প্রবলতম দাবিদার সের্গিও লোবেরার দল। তবে ফাইনালের আগে দলের সমর্থকদের স্বস্তি দিচ্ছেন ইস্টবেঙ্গলের হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা কার্লেস কুয়াদ্রাত।

বিগত কয়েক বছরে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গী শুধুই ব্যর্থতা। মরশুমের শুরুতে কোচ হিসেবে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম পছন্দ ছিলেন সের্গিও লোবেরা। ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম সফল এই কোচের লাল হলুদে যোগ দেওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা। তবে শেষ মুহূর্তে কলকাতার এই প্রধান ক্লাবের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন লোবেরা। যা নিয়ে সাময়িকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের একাংশ। তবে কথায় বলে কারুর জন্য কিছু থেমে থাকেনা। লোবেরার পরিবর্তে লাল হলুদ কর্তারা কোচ হিসেবে নিযুক্ত করেন আর এক স্প্যানিও কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাতকে। সাম্প্রতিক কালে যার ভারতীয় ফুটবলে সাফল্য কোনও অংশে কম নয়। ইস্টবেঙ্গল কর্তারা যে ভুল করেননি প্রমাণ করেছেন কুয়াদ্রাত। তাঁর প্রশিক্ষণে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে উঠেছিল দল। বহু বছর পর জয় পেয়েছিল কলকাতা ডার্বিতে। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রফির কাঙ্ক্ষিত ট্রফির স্বাদ পায়নি। সুপার কাপেও মোহনবাগানকে হারিয়েছে লাল হলুদ শিবির। জামশেদপুরকে হারিয়ে পৌঁছে গিয়েছে ফাইনালে। শুধু তাই নয় ভালো মানের ফুটবল উপহার দিয়েছেন ক্লেইটন সিলভারা। ফাইনালের আগে আরও শক্তি বাড়িয়েছে তারা। জাতীয় শিবির থেকে দলে যোগ দিয়েছেন মহেশ ও লালচুংনুঙ্গা। সুপার কাপে না খেললেও দুজনেই ছিলেন খেলার মধ্যে। ফলে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই ফাইনালে নামবে কুয়াদ্রাত বাহিনী। তবে ফাইনালে দলের উইনিং কম্বিনেশন ভাঙেন কিনা ইস্টবেঙ্গল কোচ সেটাই দেখার।

আরও পড়ুন: ফাইনালে শক্তি বাড়াচ্ছে ইস্টবেঙ্গল

তবে ইস্টবেঙ্গল ও ট্রফি জয়ের মধ্যে প্রধান অন্তরায় আর এক স্প্যানিও ভদ্রলোক। তিনি সের্গিও লোবেরা। ইস্টবেঙ্গলের প্রস্তাব ফিরিয়ে যিনি যোগ দিয়েছিলেন ওড়িশা এফসিতে। ফলে ওড়িশাকে হারাতে পারলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে ইস্টবেঙ্গলের। প্রথমত, দীর্ঘদিনের ট্রফি খরা কাটবে। দুই, যোগ্য জবাব দেওয়া হবে লোবেরাকে। তবে কাজটি মোটেও সহজ হবেনা। বর্তমানে ভারতীয় ফুটবলের সবথেকে দামী দল মোহনবাগানকে এএফসি কাপে তাদের ঘরের মাটিতে পাঁচ গোল মেরেছে তারা। সুপারকাপের সেমিফাইনালে হারিয়েছে শক্তিশালী মুম্বই সিটি এফসিকে। দলে মুর্তাদা ফল, আহমেদ জাহুর মতো ভারতীয় ফুটবলে পোড়খাওয়া বিদেশীরা রয়েছেন। আর রয়েছে লোবেরার মগজাস্ত্র। যিনি এদেশের সব বড় ট্রফি জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। ঘরের মাটিতে তাই ওড়িশাকে সমীহ করাটাই স্বাভাবিক। যা করছেনও লালহলুদ কোচ-ফুটবলাররা। যদিও সমর্থকরা এসব নিয়ে ভাবতে রাজী নন। কারণ তাদের ভরসা জিতে নিতে ইতিমধ্যে সক্ষম হয়েছেন তাদের হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা।

About Post Author