Home » সন্দেশখালি ঢোকার আগেই রাজ্যপালকে দেখানো হল কালো পতাকা

সন্দেশখালি ঢোকার আগেই রাজ্যপালকে দেখানো হল কালো পতাকা

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ জানুয়ারি : সন্দেশখালি ঢোকার আগেই কালো পতাকা দেখানো হল রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে।কেরালা সফর কাটছাঁট করে সন্দেশখালি যাওয়ার আগেই সন্দেশখালি নিয়ে  রাজ্যের রিপোর্ট করেছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তার আগেই তিনি জানিয়েছিলেন,”ননসেন্স গেম চলছে, তা বন্ধ করতে গুন্ডারাজের কফিনে পেরেক পুঁততে হবে ৷”  শনিবার রাতে এক ভিডিয়ো বার্তায় এরকম নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ৷  কী এই “গুন্ডারাজ “? শেখ শাহজাহানের ডেরায় ইডির হানা এবং ইডি আধিকারিকদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার পরে রায়মঙ্গল, বিদ্যাধরী দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। গত কয়েকদিন একের পর এক ঘটনায়  উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সন্দেশখালি, উত্তাল হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। সন্দেশখালিতে  উপচে পড়েছে জনক্ষোভ। কার্যত জনবিস্ফোরণের চেহারা নিয়েছে সন্দেশখালি। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একের পর এক প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম নেতাদের। পুলিশ -প্রশাসন মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা বললেও আগ্নেয়গিরির চেহারা নিয়েছে সন্দেশখালি। আর এই পরিস্থিতি পরিদর্শনে সন্দেশখালি ঢোকার আগে মিনাখাঁয় কালো পতাকা দেখানো হল রাজ্যপালকে।

সোমবার ক্ষোভেবিক্ষোভে যখন উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভা তার আগেই সন্দেশখালির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান রাজ্যপাল। রাজভবন থেকে ঠিক এক সপ্তাহ আগেই  রাজ্যের মুখ্য সচিব বিপি গোপালিকাকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তারপরেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি বরং সন্দেশখালির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উত্তরোত্তর খারাপ হয়েছে। যার জেরে ১৪৪ ধারা, ইন্টারনেট বন্ধ  প্রভৃতি নির্দেশিকা বলবৎ হয়েছে। তবুও শান্ত হয়নি সন্দেশখালি। এরকম এক আবহে রাজ্যপাল রওয়না হন সন্দেশখালির উদ্দেশ্যে। আর পথের মধ্যে প্রদর্শিত হয় কালো পতাকা।

বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়েছিল ধরপাকড়। রবিবারের মধ্যেই  দেখা যায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে তৃণমূলের উত্তম সর্দার , বিজেপির বিকাশ সিংহ বা প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক নিরাপদ সর্দারকে। রবিবার থেকেই প্রশাসনিকভাবে  একদিকে যখন বিরোধী রাজনৈতিক দলের  প্রতিনিধিদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে  না সন্দেশখালিতে , ন্যাজাটে ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে ন্যাজাট থেকে এগোতে দেওয়া হচ্ছে না মীনাক্ষী সহ  বাম নেতাদের, বাসন্তী হাইওয়ে থেকে  ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিজেপি প্রতিনিধি দলকে তখন রাজ্যপাল সন্দেশখালি তে ঢোকার আগে কালো পতাকা দেখছেন। এই সন্দেহ আগেই প্রকাশ করেছিলেন দিলীপ ঘোষ সহ বিজেপির শীর্ষনেতৃত্ব।  রাজ্যপালকে মিনাখায় যতই কালো পতাকা দেখানো হোক, রাজ্যপাল যে সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে যারপরনাই উদ্বিগ্ন তাতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ সন্দেশখালিতে “নতুন সূর্যোদয়” চাইছেন না রাজ্যপাল। তিনি তো আগেই বলেছেন, গুন্ডারাজের কফিনে পেরেক পুঁততে হবে। অরাজকতা বন্ধ করার প্রক্রিয়া চালু করার আগে গ্যাস পেট্রোল ডিজেল  সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য বৃদ্ধির জন্য রাজ্যপালকে বিক্ষোভ দেখানো হল। সন্দেশখালি ঢোকার আগেই এই ক্ষোভ বিক্ষোভ যে পূর্বপরিকল্পিত তেমনটাই মনে করছে সন্দেশখালি নিয়ে ওয়াকিবহাল রাজনৈতিক মহল। শেষ পর্যন্ত সন্দেশখালি ঘুরে এসে সন্দেশখালি নিয়ে রাজ্যপাল কি বার্তা দেন এখন সেটাই দেখার।

About Post Author