Home » গ্রেফতার হতেই দল থেকে ছ’বছরের জন্য সাসপেন্ড শেখ শাহজাহান

গ্রেফতার হতেই দল থেকে ছ’বছরের জন্য সাসপেন্ড শেখ শাহজাহান

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ ফেব্রুয়ারি: গ্রেফতারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেখ শাহজাহানকে দল থেকে ছ’বছরের জন্য সাসপেন্ড করল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানান, সন্দেশখালির তৃণমূল নেতাকে ছয় বছরের জন্য দল থেকে সাসপেন্ড করা হল। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ব্রাত্য বলেন, ‘ দলের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তৃণমূল যে পদক্ষেপ করে, এটাই তার আসল প্রমাণ। যদিও তৃণমূলের কাছে এটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু বিজেপি তো আর তৃণমূল নয়! আমরা প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করছি, শুভেন্দু অধিকারী, হিমন্ত বিশ্বশর্মা বা নারায়ণ রাণেকে সাসপেন্ড করে দেখাক উনি।‘ এদিকে, সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহানের গ্রেফতারির মামলার তদন্তভার ইতিমধ্যেই গিয়েছে সিআইডি-র হাতে। এবার থেকে এই মামলা তদন্ত করবে সিআইডি। শাহজাহানকে আজ বসিরহাট থেকে সোজা নিয়ে আসা হয় ভবানী-ভবনে। আগামী দশ দিন তাঁকে সেখানে রাখা হবে বলেই জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন  শেখ শাহজাহান গ্রেফতার হতেই তদন্তভার নিল সিআইডি, নিয়ে আসা হল ভবানী ভবনে

প্রসঙ্গত, সন্দেশখালিকাণ্ডে দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে ৫৬ দিনের মাথায় গ্রেফতার করা হয়েছে সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহানকে। বুধবার রাতে মিনাখাঁর বামনপুকুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। মিনাখাঁ থানায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর এদিনই শাহজাহানকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। আদালত শেখ শাহজাহানের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। ইতিমধ্যেই সন্দেশখালির মূল মাস্টারমাইন্ড শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ১১টি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তার মধ্যে যেমন রয়েছে জামিন অযোগ্য ধারা, তেমনই রয়েছে মানবপাচার ও দেহব্যবসার মতো গুরুতর অভিযোগ। জানা গিয়েছে, মিনাখাঁ থানার পুলিশ শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ১৪৭/ ১৪৮/ ১৪৯/ ৩৪১/ ১৮৬/ ৩৫৩/ ৩২৩/ ৪২৭/ ৩৭০/ ৫০৬/৩৪- মোট ১১ টি জামিন অযোগ্য ধারায় মামলার রুজু করে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পাঠিয়েছে। এদিন পুলিশ শাহজাহানের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়েছিল। তবে বসিরহাট মহকুমা আদালত শেখ শাহজাহানের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এদিন সাদা কুর্তা পাজামা পরে আদালতে হাজির হতে দেখা গিয়েছে সন্দেশখালির ‘বাঘ’কে। গোটা আদালত চত্বরজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন ছিল অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। পাশাপাশি শাহহাজানের বাড়িতেও প্রচুর পুলিশ ও RAF মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে সন্দেশখালির ২৩ জায়াগায় ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।

এদিন, শাহজাহানের মামলাটি ‘স্পেশাল কেস’ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। এজলাসে এদিন শেখ শাহজাহান জেরায় তাঁর নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন। রাজ্য পুলিশ আদালতে সেই নথিই জমা দিয়েছে। আদালতে জমা পুলিশের নথিতে শাহজাহানের স্বীকারোক্তির উল্লেখ রয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে একাধিক প্রমাণ পেয়েছে। পুলিশ শাহজাহানের জামিনের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। পুলিশের কাছে সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহানের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি, অর্থাৎ যেদিন রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডি আধিকারিকরা তল্লাশি চালিয়েছিলেন, সেদিন ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন শেখ শাহজাহান। ইডি আধিকারিকরা সিআরপিএফ জওয়ান নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর মনে হয়েছিল, ইডি তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে। ইডি-র হাতে গ্রেফতারির আশঙ্কায় তিনি অনুগামীদের হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকী তাঁদের জিনিসপত্রও লুঠের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে পুলিশি জেরায় শেখ শাহজাহান স্বীকার করে নিয়েছেন।

About Post Author