সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ মার্চঃ গার্ডেনরিচে বহুতল বিপর্যয়ের ঘটনায় এবার মেয়রের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করল কলকাতা পুরনিগম। এই তদন্ত কমিটি তদন্ত করে দেখবে যে জমিটি কার নামে ছিল, কোনও হস্তান্তর করা হয়েছিল কিনা, যে মাপের বহুতল তৈরি করা হচ্ছিল সেটি এই জমির জন্য যথেষ্ট ছিল কিনা। বিল্ডিং প্ল্যান কে অনুমোদন দিয়েছিল, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে দমকল, সিইএসসি, কলকাতা পুরসভা সহ যে জায়গাগুলি থেকে বিল্ডিং প্ল্যান পাওয়ার কথা সেখান থেকে অনুমোদন পেয়েছিল কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। সূত্রের খবর, মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নির্দেশে গঠিত এই তদন্ত কমিটিতে সাতজন সদস্য রয়েছেন। কমিটির চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন কলকাতা পুরসভার যুগ্ম কমিশনার। তাঁর নেতৃত্বে মোট ছয় জন প্রতিনিধি এই বহুতল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করবেন। এই ৬ জন প্রতিনিধি হলেন-সিভিল বিভাগের ডিজি, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার, ঐতিহ্য এবং পরিবেশ বিভাগের ডিজি, কলকাতা পুলিশের একজন শীর্ষ কর্তা, কলকাতার বি এল আর ও, কলকাতা পুরসভার বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের আধিকারিক মুগ্ধা চক্রবর্তী। তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে মেয়রকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই গার্ডেনরিচে বহুতল বিপর্যয়ের ঘটনায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। এদিন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন। গার্ডেনরিচের ঘটনায় আক্রান্তদের পুনর্বাসনের জন্য কী পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য? অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেই বা কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? সেসব রিপোর্ট আকারে জানাতে নির্দেশ দিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। একইসঙ্গে উপযুক্ত ব্যবস্থা, আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, বিপজ্জনকভাবে আবাসনগুলি গায়ে গায়ে তৈরি হচ্ছে এই এলাকায়। সংবাদমাধ্যম সূত্রে তা জানার পর এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ কী করবে? এদের অবস্থা অনেকটা সৈনিকদের সামান্য রাইফেল নিয়ে বর্ডারে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার মতো।” আগামী ৪ এপ্রিল ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে।
এদিকে, গার্ডেনরিচে বহুতলের বিপর্যয়ের ঘটনায় আরও তৎপর হয়েছে পুরসভা। ইতিমধ্যেই নয়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের জন্য। কলকতা পুরসভা সূত্রে খবর, বিল্ডিং বিভাগের সাব অ্যাসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়াররা এবার থেকে কাজের শুরুতে নিজেরা নিজেদের ওয়ার্ডে ঘুরবেন। কোথায়-কোথায় বেআইনি নির্মাণ হচ্ছে তা খতিয়ে দেখবেন। এরপর সেই অনুযায়ী রিপোর্ট তৈরি করে বোরোতে জমা দেওয়ার নির্দেশ পুরসভার। এরপর পুরসভায় ফিরে আসবেন ইঞ্জিনিয়ররা। তারপর নথি সংক্রান্ত কাজ করবেন। প্রতিদিন ওয়ার্ডে যাচ্ছেন কি না নজরদারি করবেন এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ররা। এমনটাই নির্দেশ কলকাতা পুরসভার। গার্ডেনরিচের বাড়ি ভেঙে পড়ার পর বারবার প্রশ্ন উঠছিল ওই বাড়ি তৈরির জন্য আদৌ কি অনুমতি ছিল? সব নিয়ম মেনে কি তৈরি হচ্ছিল ৫ তলা বাড়ি? নির্মাণটি বেআইনি কি না, সেই প্রশ্ন উঠছিল। মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজেও স্বীকার করে নিয়েছিলেন যে বাড়িটি তৈরির ক্ষেত্রে অনুমোদন ছিল না।
#GardenReachBuildingCollapse
#latestbengalinews


More Stories
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
বঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভালোবাসায় মুগ্ধতার বিশেষ প্রয়াস