স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২৪ মার্চ: জয় দিয়েই এ বারের আইপিএল অভিযান শুরু করল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেনে তারা ৪ রানে হারিয়ে দিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২০৮ রান তোলে নাইটরা। নাইটের হয়ে জোড়া অর্ধশতরান আসে ফিল সল্ট ও আন্দ্রে রাসেলের ব্যাট থেকে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দুরন্ত লড়াই করে নিজামের শহরের দল। ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন হেনরিখ ক্লাসেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। নির্ধারিত ২০ ওভারে হায়দরাবাদকে থামতে হয় ৭ উইকেটে ২০৪ রানে। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের ফয়সলা হয় শেষ ওভারে। নাটকীয় সেই ওভারে নাইটরা জয় পায় হর্ষিত রানার সৌজন্যে।

দিল্লি ক্যাপিটালে আইপিএল অভিষেক হয়েছিল। কিন্তু সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দলের ভরসা অর্জন করতে পারেননি। তার সঙ্গে চুক্তি পুনর্নবীকরণ করেনি দিল্লির ফ্র্যাঞ্চাইজি দল। এই মরশুমের আইপিএল নিলামে যখন কোটি কোটি টাকা দিয়ে ক্রিকেটার কিনেছে দলগুলি। তার দিকে কেউ ফিরেও তাকায়নি। ইংল্যান্ডের হয়ে যুগ্মভাবে দ্রুততম শতরানের মালিক নিলামে রয়ে গিয়েছিলেন অবিক্রিত। অবশেষে তার দেশের আর এক ক্রিকেটারের সৌজন্যেই তার সামনে আইপিএলের দরজা খুলে যায়। তিনি ফিল সল্ট। জেসন রায়ের বদলে কলকাতা নাইট রাইডার্সে সুযোগ পেয়েই নজর কাড়লেন তিনি। টসে হেরে প্রথমে নাইটদের ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন হায়দরাবাদ অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বজয়ী অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করলেন বোলাররা। প্রথম আট ওভারের মধ্যে ৫১ রানে ৪ উইকেট হারায় নাইটরা। সবাইকে চমক দিয়ে এই ম্যাচে সল্টের সঙ্গে ওপেন করেন সুনীল নারিন। কিন্তু তাকে ব্যাট করতে পাঠানোর সিদ্ধান্তে যে চমক ছিল তা দেখা যায়নি তার ব্যাটে। ২ রান করে আউট হন তিনি। চতুর্থ ওভারে নাইট শিবিরকে জোড়া ধাক্কা দেন নটরজন। দু’বলের ব্যবধানে ফেরান ভেঙ্কটেশ আয়ার (৭) ও শ্রেয়স আয়ারকে (০)। একদিকে ক্রমাগত উইকেট পড়তে থাকলেও অন্যদিকে একা লড়াই করছিলেন সল্ট। সাবলীল ব্যাটিং করেন তিনি। তার প্রতিটি শটে ঝড়ে পড়ছিল আত্মবিশ্বাস। এর মধ্যেই ধাক্কা খায় নাইট শিবির। মার্কেণ্ডের বলে নিজের উইকেট প্রায় ছুঁড়ে দিয়ে এলেন গতবারের অধিনায়ক নীতিশ রানা (৯)। পঞ্চম উইকেটে সল্টের সঙ্গে জুটি বাঁধলেন রমনদীপ সিং। এই সময়ে দ্রুত রান তুলছিল নাইটরা। সল্ট ও রমনদীপ দুজনেই বড় শট খেলেন। তাদের ৫৪ রানের জুটি নাইটদের স্কোরবোর্ডকে কিছুটা অক্সিজেন দেয়। প্রথম ম্যাচে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন সল্ট। রমনদীপ ফেরেন ১৭ বলে ৩৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে। পরের ওভারে সল্টকে (৫৪) ফেরান মার্কেণ্ডে। দু’ওভারের ব্যবধানে দুটি উইকেট হারালেও চাপে পড়েনি নাইট শিবির। কারণ সল্ট ফিরতে দলের হাল ধরেন আন্দ্রে রাসেল। তাকে সঙ্গ দেন রিঙ্কু সিং। প্রথমে সেট হতে কিছুটা সময় নিচ্ছিলেন ক্যারাবিয়ান অলরাউন্ডার। তারপর স্পিনাররা বল করতে আসতিই রুদ্রমূর্তি ধারণ করলেন দ্রা রাস। একের পর এক বল পাঠালেন মাঠের বাইরে। মার্কেণ্ডের এক ওভারে হাঁকালেন তিনটি বিশাল ছক্কা। রাসেল নামক অকাল কালবৈশাখীর আঁচ করতে পারেনি হায়দরাবাদের বোলাররা। ১৯ তম ওভারে ভুবনেশ্বরকে ছয় মেরে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন রাসেল। উল্টোদিকে পিছিয়ে ছিলেন না রিঙ্কুও। তবে এদিন তিনি নিজে যত না খেললেন তার থেকেও রাসেলকে সঙ্গ দিলেন বেশি। তাদের ৮১ রানের জুটির সৌজন্যে ২০০ রানের গণ্ডি পেরোতে সমস্যা হয়নি নাইটদের। বক্সের মধ্যে দলের ব্যাটারদের ব্যাটিং তাণ্ডব উপভোগল করতে দেখা গেল দলের অন্যতম কর্ণধার তথা বলিউডের কিং শাহরুখ খানকে। নাইটদের ইনিংস শেষ হল ২০৮ রানে।
Harshit Rana's remarkable last over seals the deal for #KKR who start their #TATAIPL campaign with narrow victory ????
Scorecard ▶️ https://t.co/xjNjyPa8V4 #KKRvSRH pic.twitter.com/WKKVha9adx
— IndianPremierLeague (@IPL) March 23, 2024
আরও পড়ুন: Fifa Friendly: বিস্ময় বালকের গোল, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বছর শুরু ব্রাজিলের
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খারাপ করেনি হায়দরাবাদও। প্রথম পাওয়ার প্লে-তে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তাদের দুই ওপেনার মায়াঙ্ক আগারওয়াল ও অভিষেক শর্মা। ৫.৩ ওভারের মধ্যে ৬০ রান তুলে ফেলেন দু’জনে। এই পরিস্থিতিতে মায়াঙ্ককে(৩২) ফিরিয়ে নাইটদের ম্যাচে ফেরান হর্ষিত রানা। হায়দরাবাদকে দ্বিতীয় ধাক্কাটি দেন আন্দ্রে রাসেল। ফেরান অপর ওপেনার অভিষেক শর্মাকে(৩২)। নারিনের দ্বিতীয় ওভারে রাহুলের ক্যাচ বরুণ না ফস্কালে তৃতীয় উইকেটের দেখাও পেয়ে যেতে পারত নাইটরা। রাহুল ও আইডেন মার্করাম জুটি দলের রানকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করলেন বরুণ। ফেরালেন আইডেন মার্করামকে(১৮)। পরের ওভারে সেই নারিনের বলেই আউট হন রাহুল ত্রিপাঠি(২০)। সেট হওয়া দুই ব্যাটারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় হায়দরাবাদ। কিন্তু হায়দরাবাদকে নির্ভরতা দিচ্ছিলেন হেনরিখ ক্লাসেন। বিশ্ব ক্রিকেটের এই মুহূর্তের অন্যতম আগ্রাসী ব্যাটার। প্রথমে আব্দুল সামাদকে(১৫), তারপর শাহবাজ আহমেদকে(১৬) সঙ্গে নিয়ে। প্রায় একক দক্ষতায় নাইটদের সহজ ম্যাচ জয়কে কঠিন করে দিয়েছিলেন প্রোটিয়া মিডলঅর্ডার ব্যাটার। ১৮ তম ওভারে বরুণ চক্রবর্তীর এক ওভারে নিলেন ১৬ রান। ১৯ তম ওভারে প্রতিযোগিতার সব থেকে দামী বোলার মিচেল স্টার্কের ওভারে তুললেন ২৬ রান। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৩ রান। অনভিজ্ঞ হর্ষিতের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক শ্রেয়স। তখন অনেকে ধরেই নিয়েছে নাইটদের হার শুধু সময়ের অপেক্ষা। হর্ষিতের প্রথম বলেই ছয় মেরে সেই আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ক্লাসেন। সেখান থেকে ঠান্ডা মাথায় বল করে দলকে জয় এনে দিলেন হর্ষিত রানা। তৃতীয় বলে ফেরালেন শাহবাজকে। পঞ্চম বলে ফেরান ক্লাসেনকে(৬৩)। ক্লাসেনের উইকেটের ক্ষেত্রে অবদান রয়েছে সূয়শ শর্মার। পিছনে দৌড়ে দুরন্ত ক্যাচ নেন তিনি। সব মিলিয়ে হায়দরাবাদকে হারিয়ে এ বারের আইপিএল যাত্রা শুরু করল গৌতম গম্ভীর, নিশিকান্ত পণ্ডিতের ছেলেরা।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার