Home » Kolkata Municipal Corporation: বেআইনি নির্মাণ রুখতে নয়া নিয়ম কলকাতা পুরসভার, ১৫ দিন অন্তর রিপোর্ট পেশের নির্দেশ লালবাজারের

Kolkata Municipal Corporation: বেআইনি নির্মাণ রুখতে নয়া নিয়ম কলকাতা পুরসভার, ১৫ দিন অন্তর রিপোর্ট পেশের নির্দেশ লালবাজারের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ মার্চঃ গার্ডেনরিচে নির্মীয়মান বহুতল বিপর্যয়ের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা পুরসভা ও রাজ্য প্রশাসন। সূত্রের খবর, শহরের বেআইনি নির্মাণ রুখতে ইতিমধ্যেই অনলাইন ডেটাবেস তৈরি করছে লালবাজার (Lalbazar)। বেআইনি নির্মাণ রুখতে বৃহস্পতিবারই দশটি ডিভিশনের ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিকরা থানার ওসি, সংশ্লিষ্ট বরোর পুরকর্তা ও অন্য আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। জানা গিয়েছে, শহরে যে কটি বেআইনি বাড়ি তৈরি হয়েছে তার তথ্য রাখা হবে এই তালিকাতে। তার ভিত্তিতেই পুর-প্রশাসন ও পুলিশ সংশ্লিষ্ট প্রোমোটারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে ১৫ দিন অন্তর রিপোর্ট তলব করবে কলকাতা পুরসভা এবং লালবাজার। ইতিমধ্যেই লালবাজারের কর্তারা প্রত্যেক থানাকে নিজেদের এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণ হলে তার হিসাব রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। যদি নতুন বাড়িটি অবৈধ হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট থানা বাড়িটির ঠিকানা, মালিকের পরিচয়, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা হয়েছে কি না, এসব তথ্য নির্ধারিত অ্যাপে আপলোড করতে বলা হয়েছে। এমনকী ওই অ্যাপে নির্মীয়মাণ বাড়িটির ছবিও আপলোড করতে হবে। এই সব তথ্য‌ ও ছবি খতিয়ে দেখবেন লালবাজারের কর্তারা। তারপরই উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন   Sheikh Shahjahanঃ ইডির উপর হামলার ঘটনায় ফের শেখ শাহজাহানের ১২ দিনের জেল হেফাজত

উল্লেখ্য, গার্ডেনরিচে বহুতলের বিপর্যয়ের ঘটনায় আরও তৎপর হয়েছে পুরসভা। ইতিমধ্যেই নয়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের জন্য। কলকতা পুরসভা সূত্রে খবর, বিল্ডিং বিভাগের সাব অ্যাসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়াররা এবার থেকে কাজের শুরুতে নিজেরা নিজেদের ওয়ার্ডে ঘুরবেন। কোথায়-কোথায় বেআইনি নির্মাণ হচ্ছে তা খতিয়ে দেখবেন। এরপর সেই অনুযায়ী রিপোর্ট তৈরি করে বোরোতে জমা দেওয়ার নির্দেশ পুরসভার। এরপর পুরসভায় ফিরে আসবেন ইঞ্জিনিয়ররা। তারপর নথি সংক্রান্ত কাজ করবেন। প্রতিদিন ওয়ার্ডে যাচ্ছেন কি না নজরদারি করবেন এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ররা। এমনটাই নির্দেশ কলকাতা পুরসভার। গার্ডেনরিচের বাড়ি ভেঙে পড়ার পর বারবার প্রশ্ন উঠছিল ওই বাড়ি তৈরির জন্য আদৌ কি অনুমতি ছিল? সব নিয়ম মেনে কি তৈরি হচ্ছিল ৫ তলা বাড়ি? নির্মাণটি বেআইনি কি না, সেই প্রশ্ন উঠছিল। মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজেও স্বীকার করে নিয়েছিলেন যে বাড়িটি তৈরির ক্ষেত্রে অনুমোদন ছিল না।

গার্ডেনরিচে বহুতল বিপর্যয়ের ঘটনায় ইতিমধ্যেই মেয়রের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলকাতা পুরনিগম। এই তদন্ত কমিটি তদন্ত করে দেখবে যে জমিটি কার নামে ছিল, কোনও হস্তান্তর করা হয়েছিল কিনা, যে মাপের বহুতল তৈরি করা হচ্ছিল সেটি এই জমির জন্য যথেষ্ট ছিল কিনা। বিল্ডিং প্ল্যান কে অনুমোদন দিয়েছিল, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে দমকল, সিইএসসি, কলকাতা পুরসভা সহ যে জায়গাগুলি থেকে বিল্ডিং প্ল্যান পাওয়ার কথা সেখান থেকে অনুমোদন পেয়েছিল কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। সূত্রের খবর, মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নির্দেশে গঠিত এই তদন্ত কমিটিতে সাতজন সদস্য রয়েছেন। কমিটির চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন কলকাতা পুরসভার যুগ্ম কমিশনার। তাঁর নেতৃত্বে মোট ছয় জন প্রতিনিধি এই বহুতল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করবেন।

About Post Author