সময় কলকাতা ডেস্ক, ৭ এপ্রিল :লোকসভা ভোটের আগে সহসা পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগর সরগরম। কিন্তু খতিয়ে দেখলে দেখা যাবে ভূপতিনগর বিস্ফোরণের বারুদ যেমন ধীরে ধীরে জমা হয়েছে তেমন করেই তৃণমূল এনআইএ সংঘাতের পারদও বেড়েছে দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে । শুক্রবার থেকে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ভূপতিনগর কাণ্ডের তলায় ও গভীরে চলতে থাকা বিভিন্ন আবহের। শুক্রবার এনআইএ-র আধিকারিকদের আক্রান্ত হবার অভিযোগ বা এনআই-এর হাতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ের গভীরে রয়েছে বেশ কিছু সমীকরণ এবং ঘটনা পরম্পরা। ভূপতিনগর কান্ড সহসা উদ্ভূত কোনও বিষয় নয়।
শুক্রবার থেকে চলছে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতা। শুক্রবার ভূপতিনগরে আক্রান্ত হয় কেন্দ্রীয় এজেন্সি এনআইএ। এরপরে রাজ্যের প্রশাসনিক রিপোর্ট তলব করে নির্বাচন কমিশন। এনআইয়ের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় হস্তক্ষেপ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ঘটনার পরে তৃণমূলের বলাই মাইতি ও মনোব্রত জানাকে গ্রেফতার করা হয় । অন্যদিকে, এই বিষয়ে এনআই-য়ের বিরুদ্ধে সরব হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার এনিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক বাদ- বিবাদ তুঙ্গে ওঠে। রবিবাসরীয় সকাল থেকে ভূপতিনগর কাণ্ড নয়া মোড় নিয়েছে।রবিবার সেখানে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সেখানে যাবেন কুনাল ঘোষ, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য প্রমুখ তৃণমূলের মুখপাত্র -নেতা -নেত্রীরা। তবে এই বিষয়ে আরেকটি নতুন দিক সামনে এসেছে মনোব্রত জানার স্ত্রী এনআইয়ের বিরুদ্ধে তল্লাশির নামে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছেন।
কিন্তু গভীরে রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন। মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট বা আদর্শ নির্বাচন বিধি চালু থাকা সত্ত্বেও তার মধ্যেই এনআইএ কী করে আক্রান্ত হল তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ফলে এই বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যে পূর্বপরিকল্পনা ছিল তা মনে করছে বিজেপি সহ বিরোধীরা। ভোট আসন্ন। ফলে কাঁথি সহ রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রভাব ফেলতে পারে ভূপতিনগর কান্ড । তেমনটাই মনে করে লোকসভা ভোটের আগে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে পর্যায় ব্যস্ত তৃণমূল এবং ভারতীয় জনতা পার্টি। তবুও ভূপতিনগর কান্ড অঙ্কুরিত হয়েছে ধীরে ধীরে । গভীরে যেতে হলে ফিরে যেতে হবে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে।
অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির প্রতিবাদে দিনভর উপবাস করবেন আপের নেতা কর্মীরা
১৬ মাস আগে, ডিসেম্বর মাসের ২ তারিখ অর্জুননগরের নাড়ুয়াবিলায় তৃণমূল নেতা রাজকুমার মান্নার বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ হয় যে বিস্ফোরণে প্রথমে ২ জন প্রাণ হারান। পরে বিস্ফোরণে আহত স্বয়ং রাজকুমার মান্না ও মারা যান। আর এই বিস্ফোরণের পরে এলাকায় আরও শক্তি বৃদ্ধি করে তৃণমূল। প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন তৃণমূলের মনোব্রত জানা। বিস্ফোরণ কান্ডের তদন্তে নেমে এনআইএ মনোব্রত জানা সহ আটজনকে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু এনআইএ দুবার তলব করলেও সেই তলবে সাড়া দেননি কেউই। পাশাপাশি, সন্দেশখালি ইডি আক্রান্ত হওয়ার মডেলে গণ-প্রতিরোধের রূপ দেখিয়ে এনআইএকে প্রতিহত করার ব্লু প্রিন্ট তৈরি করা হয় নি একথা ভাবার কোনও কারণ নেই। অতঃকিম? কী হতে চলেছে? রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে সাধারণ মানুষ অনেকের কাছেই ভূপতিনগর কান্ড ঘটিত প্রভাব কী পড়তে পারে তা অনেকটাই সুস্পষ্ট। কী মনে করছেন তাঁরা?

লোকসভা ভোট চলে এসেছে। এরকমই এক সন্ধিক্ষণে আক্রান্ত হয়েছেন এনআইএ আধিকারিকরা। এবার তৃণমূল প্রতিনিধিদল যাবে এলাকায়। শুভেন্দু অধিকারী বা বিরোধী নেতারা পাল্টা বক্তব্য রাখতে থাকবেন।রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়তে থাকবে । একদিকে,জমা পড়বে রাজ্যের প্রশাসনিক রিপোর্ট। অন্যদিকে, চলতে থাকবে রাজনৈতিক চাপানউতোর। চাপা পড়ে যাবে সাধারণ মানুষের দাবিদাওয়া। ইহা-ই এখন ভূপতিনগরের ভবিতব্য।
#latestbengalinews
রাজস্থান : ধর্ষণের অভিযোগের জবানবন্দি দিতে আসা মহিলাকে বিবস্ত্র হওয়ার নির্দেশ ম্যাজিস্ট্রেটের


More Stories
জন্মদিনে সোনার মেয়ে লাভলিনার সাফল্য
সেলিংয়ে ঐতিহাসিক রুপো
অনায়াসে ৪০৬, আর কত বড় টার্গেট চাই টিম ইন্ডিয়ার?