সময় কলকাতা, ১০ এপ্রিল : অভিযোগ, বিজেপি সখ্যতা ও বিজেপি সংগঠনের সঙ্গে কর্মজীবনে যোগাযোগ রেখে চলা। একটি অভিযোগের ভিত্তিতে ‘যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ‘ নিয়ে বারাসাত লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী বদলে ফেলল ফরওয়ার্ড ব্লক তথা বামফ্রন্ট। বারাসাত লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল প্রবীর ঘোষকে। তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল। ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী হিসেবে বামেদের হয়ে লোকসভা নির্বাচনে বারাসাত কেন্দ্রের প্রার্থী হলেন ফরওয়ার্ড ব্লকের সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় ।
উল্লেখ্য,সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছিল যে,কর্মজীবনে বাম প্রার্থী প্রবীর ঘোষ বিজেপি শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অতীতের একটি ছবিও দেখা যায়, যেখানে প্রবীর ঘোষ বিজেপির শিক্ষক সংগঠনের হয়ে স্মারকলিপি দিতে চলেছেন। অতঃপর ফরওয়ার্ড ব্লক নেতৃত্ব নড়েচড়ে বসে। কয়েক ঘন্টার মধ্যে এই বিষয়ে চরম অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকেলেই আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে বামফ্রন্টের পক্ষে একমত হয়ে প্রবীর ঘোষ কে প্রার্থী পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থির হয়, বারাসাত লোকসভা কেন্দ্রে ফরওয়ার্ড ব্লক দলের হয়ে লড়বেন সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় ।
ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য স্তরের শীর্ষ নেতা সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় বারাসাতের বাসিন্দা এবং আগেও তাঁকে যেমন কাউন্সিলার হিসেবে বা বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে চিরঞ্জিতের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখা গিয়েছে তেমনই সাম্প্রতিক কালে যেকোনও ইস্যুতে বামফ্রন্ট পথে নামলে উত্তর ২৪ পরগনার সদর শহর বারাসাত বা জেলায় বড় যে কোনও বড় আন্দোলনে তিনি বামফ্রন্টের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন। বামফ্রন্টের জনমুখী আন্দোলনে পথে নামার কর্মসূচি কমে গেলেও সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগের জায়গা নেই। পাশাপাশি, বঙ্গসংস্কৃতি রক্ষার জন্য তিনি প্রায়শই বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। তবে, হালে বামফ্রন্ট শক্তি বেশ কিছুটা ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ায় কাকলি ঘোষ দস্তিদার বা স্বপন মজুমদারের বিরুদ্ধে তাঁর সাফল্য নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থাকবেই। কিন্তু সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, জেতার লক্ষ্য নিয়েই তিনি লড়বেন এবং আদর্শ নীতিতে কোন আপোষ করতে তিনি রাজি নন। তাঁর মতে, মাস্টারমশাইয়ের ( পড়ুন,প্রবীর ঘোষের ) হয়ে তাঁরা আদাজল খেয়ে প্রচারে নেমে পড়েছিলেন। কিন্তু যে অভিযোগ উঠেছে তার ভিত্তিতে তাঁকে ছাড়া যে কাউকে প্রার্থী করা প্রয়োজন হয়ে উঠেছিল। নইলে ‘বড় ক্ষতি হয়ে যেত, ” জানালেন সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় । একই অভিমত বারাসাত তথা জেলার অন্যতম সিপিএম নেতা বরুণ ভট্টাচার্যের। তাঁরা জানিয়েছেন, বামফ্রন্ট জিতুক বা হারুক – তারচেয়ে বড় কথা বামফ্রন্ট প্রমাণ করে দিল আদর্শগত জায়গা থেকে, নীতিগত অবস্থানে বোঝাপড়া করতে তারা রাজি নয়।।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?