Home » অমরনাথ ঝা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে, ভোটে কতটা প্রভাব পড়বে তাঁর দল পরিবর্তনে?

অমরনাথ ঝা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে, ভোটে কতটা প্রভাব পড়বে তাঁর দল পরিবর্তনে?

সানী রায় সময় কলকাতা ,১১এপ্রিল : ভোট যত এগিয়ে আসছে তত পট পরিবর্তন হচ্ছে রাজনৈতিক আবহে।  বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শক্তির পরিবর্তন হচ্ছে, বিভিন্ন দল থেকে দল পরিবর্তন করে অন্য দলে ভিড়ছেন নেতা -কর্মীরা।  উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান তিনটি লোকসভা কেন্দ্রে  ভোট ১৯ এপ্রিল। আর এহেন সময় উত্তরবঙ্গের পোড়-খাওয়া  রাজনৈতিক নেতা  অমরনাথ ঝা এবার তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে। তাঁর দলবদলের প্রভাব কতটা পড়বে তা যদিও সময় বলবে তবুও রাজ্যের শাসকদলে এ এক বড় ধাক্কা তা বলাইবাহুল্য।

এ প্রসঙ্গে বলা দরকার এই দলবদলের আভাস ছিলই।ঘোষণা হয়েছিল আগেই।জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের প্রাক্তন মেন্টার অমরনাথের হাতে পদ্মপতাকা তুলে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। জলপাইগুড়ি জেলার মাল ব্লকের রথখোলা ময়দানে জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি মনোনীত প্রার্থী ডঃ জয়ন্ত কুমার রায়ের নির্বাচনী প্রচারে শোভা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই সভা স্থলেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন অমরনাথ ঝা।অমরনাথের সঙ্গে এদিন বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নাগরাকাটা ব্লক কমিটির আহ্বায়ক গৌরব দে।নাগরাকাটা ব্লক কংগ্রসের প্রাক্তন সভাপতি অমরনাথের দলত্যাগের বিষয়টি নিয়ে দিনভর চর্চা হয় তৃণমূলের অন্দরে। অমরনাথের সঙ্গে আর কেউ গেলেন কিনা বা যোগাযোগ রাখছেন কিনা, সেই বিষয়েও নজর রাখছেন দলীয় নেতৃত্ব।একটা সময়ে সিপিএমের বিরুদ্ধে একা কুম্ভ হয়ে লড়াই চালিয়ে ডুয়ার্সের কংগ্রেসের অবস্থাকে চাঙ্গা করেছেন এই অমরনাথ। এই শতকের গোড়ায় তিনি কংগ্রেস নেতা হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান। ভরা বাম আমলে তাঁর নেতৃত্বেই ২০০৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে নাগরাকাটায় কংগ্রেস ৯ টি আসনে জয়ী হয়। ২০০৮ এর পঞ্চায়েতে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১। ২০১১-র বিধানসভা ভোটে নাগরাকাটা আসন থেকে কংগ্রেস প্রার্থীর জয় কিংবা ২০১৩-র ভোটে সুলকাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড দখলেরও নেপথ্য কারিগর ছিলেন। সেবার নিজেও কংগ্রেসের টিকিটে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

অতঃপর অমরনাথ ঝা  দল বদলান।  কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে ব্লক সভাপতি হন। আঠেরো সাল থেকে মাস খানেক আগে পর্যন্তও জেলা পরিষদের মেন্টর ছিলেন। উনিশ সালে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয় শাসক দলের ব্লক সভাপতির পদ থেকে। তৃণমূলের চা শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকেও সরানো হয়েছিল আগেই।

বুধবার বিজেপিতে যোগদানের পরেই  অমরনাথ ঝা  বলেন, দল যে আমাকে ব্রাত্য করে দিয়েছে বুঝতে বাকি ছিল না। আমি রাজনীতির লোক। বসে থাকতে পারব না। বিজেপিতে থেকেই মোদিজীর সৈনিক হয়ে পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে চাই। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা হয়েছে। এদিন থেকেই দলের হয়ে নির্বাচনি প্রচারে নেমে পড়েছি। অমরনাথের সঙ্গী হিসেবেই পরিচিত ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রেম ছেত্রী বলেন, উনি ভুল সিদ্ধান্ত নিলেন। এককথায় হতাশজনক। তবে দলের ওপর একচুলও প্রভাব পড়বে না। প্রেম ছেত্রী মুখে যাই বলুন, অমরনাথ ঝায়ের প্রভাব উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বিলক্ষন রয়েছে। এখন দেখার আসন্ন ভোটে এই প্রভাব কতটা কাজ করে।।

About Post Author