Home » লাগাও সায়নী চা আর লাগাও সায়নী চায়ের দোকান

লাগাও সায়নী চা আর লাগাও সায়নী চায়ের দোকান

সানী রায়, সময় কলকাতা,২৮ এপ্রিল : বড় রাস্তার পাশে, তবে খুব জনবহুল জায়গায় নয় চায়ের দোকানটি! সেই দোকানে যে চা পরিবেশন করা হয় তার নাম  ‘লাগাও সায়নী চা ‘ ! দোকানের নামও তাই হয়ে উঠেছে লাগাও সায়নী চায়ের দোকান চমকে যাচ্ছেন তো? ঠিকই পড়ছেন, চায়ের দোকানের নাম লাগাও সায়নী। তৃণমূল তারকা প্রার্থী সায়নী ঘোষ যখন যাদবপুরে তাঁর লোকসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচার করছেন , তখন ‘  লাগাও সায়নী চা “পোস্টারে মোড়া রাস্তার পাশে দোকানে তাঁর ভক্ত চা তুলে দিচ্ছেন চা- রসিকদের হাতে। গরম চায়ের কাপে চুমুকের মতই সায়নী লাগাও চা দোকানটি সাজে-সজ্জায়, ভাবনায় আকর্ষণীয়।

লাগাও সায়নী দোকানটি দেখতে চাইলে আপনাকে যেতে হবে উত্তরবঙ্গে। দেখতে পাবেন ধূপগুড়ির কালীরহাটে রাস্তার পাশে চায়ের দোকানে জটলা। খুব ছোট দোকান নয়, আহামরি বড় দোকানও নয়। সহদেব রায় নামে এক যুবক চা ভালোই বানান। পসার রয়েছে তাঁর পাঁচটাকা বা দশটাকার চায়ের। চা যত নাম করেছে, ততই নামডাক বেড়েছে তাঁর দোকানের। ‘সায়নী লাগাও’ দোকানের নাম ছড়িয়েছে।

জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ির কালীরহাটে নেত্রী -অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের ফ্যান সায়নী ঘোষের ভাইরাল বক্তব্যের নাম ও ছবি দিয়েই চায়ের দোকান খুলেছেন।লকডাউনের পর থেকেই বেশ কয়েক বছরে বিভিন্ন সময়ে চায়ের দোকান করে ভাইরাল হয়েছেন অনেকেই। চা পান করার অভ্যেস অনেকেরই ভালোমাত্রায় রয়েছে , তবে চায়ের স্বাদ ও সুগন্ধ পেতে মরিয়া চা প্রেমীরা। সহদেব চায়ে স্বাদ ও সুগন্ধ দিচ্ছেন – চায়ের নামেও রয়েছে অভিনবত্ব।

কালীরহাট নিবাসী সহদেব রায় মাস দেড়েক আগেই এই চায়ের দোকান খুলেছেন আর তাতেই ব্যানারে সায়নী ঘোষের ছবি ও পোস্টারে লেখা “লাগাও সায়নী চা”। এভাবেই যেন আলাদা এক প্রভাব ফেলেছেন সেই যুবক।

বঙ্গ রাজনীতির সবথেকে চর্চিত নামগুলির মধ্যে একটি সায়নী ঘোষ। অভিনয় জগৎ থেকে উঠে এসে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের হাত ধরেন তিনি। আসানসোল দক্ষিনে অগ্নিমিত্র পালের কাছে হার মানলেও থেমে থাকেননি তিনি। রাজনৈতিক জীবনে একের পর এক বিতর্কে জড়ালেও তাঁর রাজনৈতিক গ্রাফ কিন্তু পড়েনি । সাম্প্রতিক অতীতে তাঁকে ও মানস ভূঁইয়াকে নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসে একটি সংলাপ, ‘সায়নী লাগাও!’রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ছেয়ে গিয়েছিল ‘সায়নী লাগাও’ শব্দবন্ধে। এর উৎস পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূলের এক জনসভা। মঞ্চে দাঁড়িয়ে দলের যুবনেত্রীকে উদ্দেশ্য করে মানস ভুঁইয়া বলে উঠেছিলেন, ‘সায়নী লাগাও!’ শুনে মুচকি হেসে অভিনেত্রী তথা যুবনেত্রী বলেছিলেন, ‘বলছে লাগাও! ঠিক বলেছে’।

অভিনেত্রীর ভক্ত সহদেব কালীরহাটের যুবক অন্যদিকে নিজের বাড়িতে দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালান। তিনি  সায়নী লাগাও চা নামটির মধ্যে অশালীন কিছু দেখছেন না। নামটি জনপ্রিয় হয়েছে, দোকানে মানুষ আসছেন এতেই তিনি খুশি। তিনি জানেন, বিখ্যাত হয়তো তিনি হতে পারেন, তিনি ভাইরাল হতে পারেন। তাঁর আনন্দ তাঁর চা ও দোকানের নামের সঙ্গে জুড়ে রয়েছেন তোমার হট ফেভারিট অভিনেত্রী সায়নী। ভাইরাল বা খ্যাত হওয়া তাঁর কাছে শেষ কথা নয়!

কত কিছুই না আজকাল বিখ্যাত হয়ে ওঠে! কত প্রবচন কত বক্তব্য! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আচমকা খ্যাত হলে আজকাল বলা হয়, ভাইরাল (Viral ) হয়েছে! অর্থাৎ কিনা প্রবলভাবে ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের মধ্যে! ভাইরাল বিষয়টি আধুনিক প্রযুক্তির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দান, এনিয়ে সন্দেহ নেই! নিজেকে প্রচারের আলোয় আনার প্রচেষ্টাকে এখন ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা বলা হয়! সেইরকম ভাবেই ‘সায়নী লাগাও’ রাজনৈতিক বক্তৃতা থেকে ‘দুই ফুলের উগ্র গন্ধে মাথা ব্যথা? বাম লাগান’ রাজনৈতিক প্রচার ভাইরাল হয়ে ওঠে । অরাজনৈতিক বিষয়ও কম তো ভাইরাল হয় না, এবার হয়তো রাজনৈতিক নেত্রীর ছোঁয়ায় দোকান এবং দোকানদার ভাইরাল হবে! সায়নী লাগাও চা – ও ভাইরাল হয়তো হবে! হয়তো, আশ্চর্য এবং তাজ্জব করার মত ভক্ত সহদেব রায়ের নাম ও   তাঁর দোকানের নাম আরও ছড়িয়ে পড়বে দিকে দিকে!

নাবালিকাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া অভিযুক্ত প্রকাশ্যে ঘুরছে, পুলিশ নির্বিকার

About Post Author