Home » রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্র : জগন্নাথ সরকারের কাঁটার মুকুট হতে পারে সিএএ

রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্র : জগন্নাথ সরকারের কাঁটার মুকুট হতে পারে সিএএ

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ১২ মে :2024 Lok Sabha Elections    রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্র  নিয়ে রাজনৈতিক মহলের বেশ আগ্রহ ।চতুর্থ দফার ভোট শুরু হওয়ার দুদিন আগে তৃণমূল প্রার্থী মুকুটমণি অধিকারীর স্ত্রী বিজেপিতে যোগদান করেছেন বলে নয় রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের ভোট নিয়ে আগ্রহ অন্য কারণে। বনগাঁর ভোট ২০ তারিখে। তার আগেই রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের ভোট চতুর্থ দফায়। বনগাঁর মত সরাসরি মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রভাব থাকা এই কেন্দ্রের ভোটে মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট কোন দিকে যায় তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ৪ জুন পর্যন্ত। তবে সিএএ তত্ত্ব বঙ্গ বিজেপিকে সুবিধা দেবে নাকি সমস্যায় ফেলে দেবে তাও বোঝার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ফলে এই কেন্দ্রের অন্য ইস্যু গুলি রসাতলে গিয়ে ভোটের সমীকরণ পুরোপুরি দাঁড়িয়ে আছে সিএএ ও মতুয়া ভোটের ওপরে। রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে রয়েছে ৪৮ শতাংশ মতুয়া ভোটার তাঁরাই রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের ফলের নির্ধারক হতে চলেছেন এনিয়ে চতুর্থ দফার ভোটের আগে কোনও সন্দেহ নেই। চোখ রাখা যাক রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের বর্তমান এবং এই কেন্দ্রের ভূগোল ও ইতিহাসে।

রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্র ২০০৯ সালের ডিলিমিটেশনের পরে গড়ে উঠেছে। এটি সংরক্ষিত আসন। যে সাতটি বিধানসভা রয়েছে রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে সেগুলি হল নবদ্বীপ, রানাঘাট উত্তরপশ্চিম, রানাঘাট উত্তরপূর্ব, রানাঘাট দক্ষিণ, চাকদহ, কৃষ্ণগঞ্জ এবং শান্তিপুর। এরমধ্যে দুটির বিধায়ক তৃণমূলের, পাঁচটির বিধায়ক বিজেপির। ২০০৯ ও ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল এই কেন্দ্রে জয় পেলেও ২০১৯ সালে রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে রুপালি বিশ্বাসকে ২ লক্ষ ৩৪ হাজার ভোটে জয়ী হন বিজেপির জগন্নাথ সরকার। এবারও ভোটে তিনি লড়ছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তার একসময়ের রাজনৈতিক সতীর্থ ও বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী। পেশায় চিকিৎসক মুকুটমণি এবার ক্ষুব্ধ হয়েই বিজেপি ছাড়েন কারণ ২০১৭ সালের ভোটে একদা তাঁরই সংসদীয় নির্বাচনে লড়ার কথা ছিল এই কেন্দ্র থেকে। নিজে সরে দাঁড়ান সেসময়। পরে বিধায়ক হলেও তার নজর ছিল সংসদ পদের দিকে। এবার তৃণমূলের টিকিটে হাওয়া তৃণমূলের দিকে ঘোরাতে আত্মবিশ্বাসী তিনি। তিনি দাবি করে থাকেন এই কেন্দ্রকে তাঁর মত নিবিড়ভাবে খুব কম লোকই চেনেন এবং তৃণমূলের মত তাঁরও আত্মবিশ্বাসের কারণ সিএএ। চাকা ঘুরবে বলছেন মুকুটমণি অধিকারী।

আর তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জগন্নাথ সরকারের ও চিন্তা সিএএ নিয়ে। মতুয়া ভোট অক্ষত থাকে কিনা তা নিয়ে। ২০১৯ এর মত সাবলীল ভাবে দু আড়াই লাখে ভোটের মত পরিস্থিতি আছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও জগন্নাথ সরকার দাবি করছেন জিততে সমস্যা হবে না।

তবে সিএএ নিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ বিজেপি সরকারের উপর যে বেশ ক্ষুব্ধ তার আঁচ মিলছে বিভিন্নভাবে। গুড বাক্য তার কতটা প্রতিফলন করে তা সময় বলবে তবে এই এই পরিস্থিতিতে ফ্যাক্টর হয়ে উঠতেই পারেন অলকেশ দাস। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী, তবে ২০১৯ সালে বামেদের ভোটেকানে সাত শতাংশের নিচে নেমে আসায় কতটা ভোট তিনি বামেদের দিকে ঘোরাতে পারবেন তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।

তবে বামেদের ভোট বাড়লে এবং কেন্দ্রের সিএএ নীতি মতুয়া সম্প্রদায়কে কেন্দ্রের প্রতি অতিমাত্রায় বিরূপ করে তুললে বিজেপির সমস্যা দেখা দিতেই পারে।ফলে সিএএ ও মতুয়া সম্প্রদায়ের আনুকূল্য ঘিরেই ঘুরপাক খাচ্ছে রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের ভোটের জয় পরাজয়ের সমীকরণ। ফলে অন্য জ্বলন্ত ইস্যু যেমন নদীর ভাঙ্গন অথবা তাঁত চাষীদের সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না কেউই, ভোটের বৈতরণী পার হতে রানাঘাট কেন্দ্রে রক্ষাকর্তারা  ৪৮ শতাংশের মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁরা কার প্রতি সদয় হন এখন সেটাই দেখার।।

About Post Author