Home » বাচ্চাচুরির গুজব এবার চলতি ট্রেনে, মহিলার বিরুদ্ধে লুকিয়ে শিশু নিয়ে চম্পটের অভিযোগ

বাচ্চাচুরির গুজব এবার চলতি ট্রেনে, মহিলার বিরুদ্ধে লুকিয়ে শিশু নিয়ে চম্পটের অভিযোগ

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ২৬ জুন :বাচ্চা চুরি নিয়ে গুঞ্জন, গুজব, গণপিটুনি- সবকিছু মিশে গেল চলতি লোকাল ট্রেনে এক দুধের শিশুকে ঘিরে। সাধারণের চোখে সন্দেহভাজন এক মহিলা শিশুটিকে ট্রেনে করে নিয়ে যাচ্ছিল। মহিলার বেশভূষা এবং অসংলগ্ন – অবাঙালি কথাবার্তা ট্রেন চলতি মানুষের সন্দেহ বাড়ায়। রটে যায়, কাগজে মুড়ে,ব্যাগে করে বাচ্চা নিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল মহিলা। বিরাটি তে ট্রেন থামতেই উত্তেজনা চরম আকার নেয়। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়। ধস্তাধস্তি ও মহিলাকে মারধরের চেষ্টা কিছুই বাকি থাকে নি। পুলিশকে বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করতে হয়। রেলপুলিশ বাচ্চা ও মহিলাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে রেল পুলিশের আঞ্চলিক সদর বারাসাত স্টেশনে। রেলপুলিশ জানিয়েছে, সম্পূর্ণ বিষয়টি গুজবভিত্তিক। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ওই মহিলাই শিশুটির মা। মহিলা আদতে উড়িষ্যার বাসিন্দা হলেও স্টেশনের পাশেই কায়ক্লেশে দিন গুজরান করে থাকেন। তার বেশভূসা ও ভাষাগত সমস্যা থেকেই যাবতীয় বিপত্তি ও গুজব, রেল পুলিশ জানিয়েছে। তবে সূত্রের খবর, মহিলা যে শিশুটির মা তা নিয়ে একশো ভাগ নিশ্চিত হতে মেডিকেল টেস্টের  শরণাপন্ন হতে চলেছে  পুলিশ।

সদর শহর বারাসাত সহ দীর্ঘদিন ধরে উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অংশে হাওয়ায় বেশ কিছুদিন ধরে গুজব ও গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে শিশু চুরির। বারাসাত শহরে একটি ১১ বছরের শিশুকে হত্যার পরে কিছুদিন ধরেই আবহ বাচ্চা চুরি হচ্ছে এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নিয়ে ব্যবসা চলছে। পারিবারিক বিবাদের জেরে ১১ বছরের শিশুর খুন জানিয়ে পুলিশ বারংবার বাচ্চা চুরির ঘটনাকে গুজব আখ্যা দিয়ে এসেছে। গুজব ছড়ানোর অভিযোগে আইন হাতে তুলে নেওয়ায় ধরপাকড় করেছে পুলিশ। আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি জনসংযোগ বাড়াতে ও মাইকিং করতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। এরকম আবহে বুধবার সকালে দত্তপুকুর থেকে শিয়ালদাগামী লোকাল ট্রেনে দুধের শিশু ও এক মহিলাকে নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। একে চারদিকে বাচ্চাচুরির গুজব, অন্যদিকে চল্লিশ -ঊর্ধ্ব এলোমেলো পোশাকে থাকা মহিলার কাছে ফুটফুটে ফর্সা শিশুকে দেখে তাদের সম্পর্ক মেলানো যাচ্ছিল না।। সাধারণ মানুষের চোখে মহিলাকে মনে হতে থাকে ” সন্দেহভাজন “। এক মুহূর্তে তাকে বাচ্চা- চোর ঠাউরে নেয় ট্রেনের মানুষ। গণপিটুনির মত পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিরাটি স্টেশনে ট্রেন থামতেই উত্তাল হয়ে ওঠে স্টেশন চত্বর। অনেক কিছুই হতে পারত পুলিশ সঠিক সময় হস্তক্ষেপ না করলে। বারাসাত জিআরপি ওসি রূপসীনা পারভীন  জানিয়েছেন, মহিলার ষষ্ঠ সন্তান শিশুটি। উড়িষ্যার বাসিন্দা মহিলার টায়রা প্লাটফর্ম সংলগ্ন এলাকায় দিন কাটায়। ছমাসের শিশু সন্তান মুন্নার বাবার খোঁজ নেই কারণ মহিলার ছটি সন্তানের একাধিক পিতা রয়েছে। তার ভাষা কেউ না বোঝায় সমস্যা বেড়েছে জানিয়েছেন জিআরপি আধিকারিক। তবুও কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।  শিয়ালদাগামী  ট্রেনের মহিলা কামরায় প্রত্যক্ষদর্শীদের সন্দেহ যেন  কিছুতেই যাচ্ছে না।

পাঁচ মাসের শিশু , মুখে বুলি ফোটে নি। তাই রেল পুলিশ সবদিক থেকে সম্পূর্ণ নিঃসন্দেহ হতে  সব রকম বিষয় খতিয়ে দেখছে। রূপসীনা পারভিন ও রেলপুলিশের বক্তব্য মেনে নিলেও বলতে হয় এদিনের রেলে বিশৃংখলার বিশৃঙ্খলার ছবি সমাজে ছিন্নমূল মানুষদের বিপন্ন অবস্থা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে স্টেশন প্লাটফর্মের পাশে পেটের তাগিদে বাঁচার চেষ্টা করতে থাকা মহিলাদের দুরবস্থা প্রকট করেছে এদিনের চিত্র। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ছবির সত্যতা যাচাই করেনি সময় কলকাতা সংবাদ মাধ্যম।।

About Post Author