Home » ধস ও লাগাতার বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে, বন্ধ দার্জিলিং-কালিম্পং সড়ক

ধস ও লাগাতার বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে, বন্ধ দার্জিলিং-কালিম্পং সড়ক

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২ জুলাইঃ ধস ও লাগাতার বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে। রবিবার থেকে একনাগাড়ে বৃষ্টির জেরে একের পর এক নদী ফুঁসছে। ধস ও লাগাতার বৃষ্টির জেরে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে তিস্তার জল। পাহাড়ের একাধিক এলাকায় ধস নেমেছে বলে খবর। উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী করোনেশন সেতুর উপর দিয়ে বইছে জলোচ্ছ্বাস। ভারী বর্ষনের জেরে বন্ধ ১০ নং জাতীয় সড়ক। একইসঙ্গে তিস্তা থেকে দার্জিলিং যাওায়ার প্রধান রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও যান চলাচল নিষিদ্ধ কালিম্পং ও পাবনা সড়কেও। গোরুবাথান থেকে মংপং সড়কের পরিস্থিতিও যথেষ্ট খারাপ। যে কোনও সময় রাস্তাটি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা। জোড়বাংলো-তিস্তা রোডে ৩ মাইল থেকে ৬ মাইলের মধ্যেও ভূমিধসের খবর পাওয়া গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে অস্বাভাবিক বৃষ্টির কথা বলা হলেও, ঠিক মতো রাস্তা মেরামতি না হওয়ার ফল ভুগতে হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই। সাউথ লোনাক লেক বিপর্যয়ের পর ৯ মাস অতিক্রম হলেও ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক কেন ঠিক করা হল না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুন   Mohun Bagan Signs Tom Aldred : ইস্টবেঙ্গলের নজরে থাকা বিদেশি ডিফেন্ডারকে দলে নিয়ে চমক দিল মোহনবাগান

এদিকে আবহাওয়া দফতর সূত্রে মঙ্গলবার ও পাহাড়ে বৃষ্টির পুর্বাভাস রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, কালিম্পং পাহাড়ি অঞ্চলে অত্যধিক বৃষ্টির ফলে ডুয়ার্সের সমতল অঞ্চলে নদীর গতি তীব্র থেকে তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মালে। জানা গিয়েছে,মালবাজার ব্লকের লিস নদী ভাঙ্গনে চান্দা কোম্পানি গ্রাম সহ ওয়াসাবাড়ি চা বাগানের বহু অংশ জলে প্লাবিত। যার জেরে একাধিক বাড়ি ও গাড়ি জলের তলায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকার মানুষ উদ্ধার কার্যে নামলেও জলের গতি এতই বেশি যে দর্শক হিসেবে দেখা ছাড়া তাঁদের আর কিছুই করার নেই। পাশাপাশি বন্যার পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, ভারতীয় সেনাবাহিনীকে নামাতে হয় উদ্ধারকার্যে। দুদিন আগেই একনাগাড়ে বৃষ্টির জেরে লিখুভিরের কাছে ধস নামে। পাহাড় বেয়ে বিশাল পাথর জাতীয় সড়কের উপর পড়ছে। এর জেরে সেই রাস্তা বন্ধ হয়ে রয়েছে। জাতীয় সড়কের দুই ধারেই গাড়ির লম্বা লাইন পড়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই জাতীয় সড়ক থেকে ধস সরানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। এদিকে, তিস্তার জল বাড়তে শুরু করায় তিস্তা বাজার থেকে দার্জিলিংগামী রাস্তা প্রশাসনের তরফে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে,মহানন্দা নদীর জলস্তরও বেড়েছে। জাতীয় সড়ক না খোলা পর্যন্ত পর্যটকদের গাড়িগুলিকে লাভা গোরুবাথান রুট হয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং সহ একাধিক জেলায় বিগত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। সিকিমও প্রবল বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত। ফুঁসছে তিস্তা নদী। ধসের কারণে অবরুদ্ধ একাধিক রাস্তাঘাট। গাড়ি চলাচল বন্ধ তো হয়েছেই, আটকে পড়েছেন বহু পর্যটকও। ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে সিকিমের বাকি এলাকা থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে মঙ্গন, গেইথাং, নামপাথাং। ধসে গেইথাং, নামপাথাং এলাকাতেও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ। জানা গিয়েছে, বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় আটকে রয়েছেন কয়েক হাজার পর্যটক।

#Latestbengalinews

#Darjeeling-Kalimpongroadclosed

About Post Author