সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩১ ডিসেম্বর : বাঁকুড়ার জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এক দুঃশাসন এসেছে বাংলায়। নির্বাচন এলেই দুঃশাসন আর দুর্যোধন দেখা দেয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, শকুনি মামার চেলা দুঃশাসন এসেছে বাংলায়।
নাম না করলেও স্বাভাবিকভাবেই বঙ্গ সফরে আসা অমিত শাহকে লক্ষ্য করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে দুঃশাসন শব্দটি প্রয়োগ করেছেন তা বলাবাহুল্য। এই বক্তব্য ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া বঙ্গ বিজেপিতে। অনুপ্রবেশ তত্ত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আনা অভিযোগের ভিত্তিকে খণ্ডন করে তাঁকে মিথ্যাবাদীর তকমাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগেও দেখা গিয়েছে, বিজেপির উচ্চ নেতৃত্বের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী বহু ক্ষেত্রেই ভাষা মাধুর্যের জন্য প্রশংসিত হননি, অনেক সময়ই তিনি রেয়াত করেননি প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। বিজেপির অভিযোগ একাধিক সময় তুই, তোকারি শোনা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণে। মুখ্যমন্ত্রীর শব্দ চয়ন ও বক্তব্যকে ভাষা সন্ত্রাস আখ্যা দিয়েছে বিজেপি। কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের একাধিক নেতার ভাষা প্রয়োগ নিয়েও বার বার আপত্তি তুলেছে বিজেপি। এখন প্ৰশ্ন, বিজেপি ভাষার শালীনতা ও সংযম রক্ষায় কতটা পারদর্শী?
অন্যদিকে, বঙ্গ সফরে এসে তৃণমূল ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করার দিন অমিত শাহ বঙ্গের মনীষীদের নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে ভুল করেছেন, যে বিষয়কে বারবার বঙ্গের সংস্কৃতিতে আঘাত বলে তৃণমূল নেতৃত্ব বলে আসছে। আর বিজেপি যে ভাষা সন্ত্রাসের কথা বলছে সেই একই দোষে দুষ্ট বিজেপি- তৃণমূলের তরফে এমন অভিযোগ একাধিক। অভিযোগ, বাম আমলে বিনয় কোঙার বা অনিল বসুদের পথে হেঁটেছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বা সুকান্ত মজুমদাররা।
তৃণমূল একাধিক অভিযোগ এনেছে বিজেপির ভাষা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। মুখ্যমন্ত্রীকে বেগম মমতাজ বলায় নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন শুভেন্দু অধিকারী কে সাসপেন্ড করে নির্বাচন কমিশন। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ২০২৪ সালের মে মাসে লোকসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে প্রাক্তন বিচারপতি ও বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ ছিল, মুখ্যমন্ত্রীর দাম কত জানতে চেয়েছিলেন অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায়। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে বাঁকুড়ার ওন্দা পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা অঞ্জন নাগ চৌধুরী একটি জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ‘অশালীন’ আক্রমণ করেন, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে অঞ্জন নাক চৌধুরী দাবি করেন তাঁর বলা অলক্ষ্মী শব্দটি ব্যক্তিগত আক্রমণের অংশ ছিল না।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে “বাংলাদেশি মুখ্যমন্ত্রী” বলে সম্বোধন করেন, যাকে তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার ১০ কোটি মানুষের অপমান হিসেবে বর্ণনা করেছে। উত্তরপ্রদেশের বিজেপি বিধায়ক সুরেন্দ্র সিং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে “দানব লঙ্কিনী” এবং “দানবকূলের মাথা” বলে আক্রমণ করেছিলেন। সুকান্ত মজুমদার ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে মুখ্যমন্ত্রীর পরিধান নিয়ে কটুক্তি করে বলেই অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।
ফলে ভাষা সন্ত্রাস বা ভাষার শালীনতা রক্ষা না করা নিয়ে একের পর এক উঠে আসা অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ প্রমাণ করে রাজনীতিতে ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংযমের প্রশ্ন যেন এখন সোনার পাথরবাটি।।


More Stories
আসছে ভুতু আয়া ভাগো
মেজবাবুকে চড় মেরে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি : রেখা পাত্র
ট্রেন্ডিং ছবি! টাইম মেশিনে চেপে গন্তব্য আটের দশকে