সময় কলকাতা ডেস্ক, ২১ জুলাইঃ লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে আশাতীত সাফল্যের পর প্রথম একুশে জুলাই। ধর্মতলায় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাকে কেন্দ্র দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। এই উৎসাহ-উদ্দীপনাকে কাজে লাগিয়ে ২০২৬-এর প্রস্তুতি শুরু করে দিল ঘাসফুল শিবির। সভামঞ্চ থেকে নিচুতলার নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিলেন দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, গাছাড়া মনোভাব দল কোনওভাবে বরদাস্ত করবে না। বড় নেতাদের ঘনিষ্ট হলেও তাদের দল রেয়াত করবে না বলেও জানিয়েছেন অভিষেক।

লোকসভা নির্বাচনের পর দীর্ঘদিন দলীয় কর্মসূচিতে দেখা যায়নি দলের সেনাপতিকে। চিকিৎসা করাতে দেশের বাইরে গিয়েছিলেন। একুশে জুলাইয়ের প্রাক্কালে ফের দেশে ফিরে আসেন। রবিবারও সভা শুরুর দশ মিনিট আগেই সভাস্থলে পৌঁছে যান অভিষেক। দলের প্রবীণ ও নবীন নেতাদের অনেকের সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে দেখা যায় তাঁকে। মঞ্চে এদিনের সভার সভাপতি সুব্রত বক্সীর পাশেই বসে অন্য বক্তাদের বক্তব্য শুনতে দেখা যায় তাঁকে। রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশের ধারণা এবারের লোকসভা নির্বাচনে দলের জয়ের প্রধান কারিগর অভিষেকই। তিনি যদিও শুরুতেই দলের সাফল্যকে দলনেত্রীর পায়ে অর্পণ করেন। অভিষেকের ২৪ মিনিটের বক্তব্যে বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। তার মধ্যে অন্যতম হল দলের অন্দরে আত্মশুদ্ধি।
গত নির্বাচনের আগে প্রচারে বেরিয়ে স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মানুষের অনেক অভিযোগ শুনতে হয়েছে তৃণমূল হাইকমান্ডকে। সেটা যে দল ভালভাবে দেখে নি এদিনের সভায় স্পষ্ট করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “পঞ্চায়েত বা পুরসভার জনপ্রতিনিধিদের নিজের কথা ভাবলে চলবে না। কর্মীদের আগে গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পঞ্চায়েত বা পুরসভা নির্বাচনে নিজেদের উজাড় করে দেন। কিন্তু লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনে তাঁদের সেই মনোভাব দেখা যায় না। অনেকেই গাছাড়া মনোভাব দেখান। এই ধরনের আচারণ করলে দল সেই নেতাকে রেয়াত করবে না। শাস্তি পেতে হবে। তিনি যত বড় নেতার ঘনিষ্ঠ হোক।” পাশাপাশি লোকসভা নির্বাচনের ফল নিয়ে তিনি বলেন, “আত্মতুষ্টির কোনও স্থান নেই। আমাদের আরও বিনম্র ও শৃঙ্খলাপরায়ণ হতে হবে। ছাব্বিশে আমরা আরও বড় ব্যবধানে জিতব। ২০১৬ ও ২০২১ সালের জয়কেও আমরা ছাপিয়ে যাব। সেই শপথ নিয়ে একুশের সভা থেকে ফিরতে হবে।”
আরও পড়ুনঃ বিজেপিতে নতুন, নিয়মকানুন জানেন না : শুভেন্দুকে তুলোধোনা জামাল সিদ্দিকী
এর সঙ্গে দলবদলু নেতাদের উদ্দেশ্যেও কড়া হুঁশিয়ারি দিতে শোনা যায় অভিষেককে। তিনি বলেন, “একুশের আগে অনেকে দল ছেড়েছিলেন। পরে কয়েকজনকে দলে ফেরত নিয়েছি। কিন্তু কথা দিয়েছিলাম দলের কর্মীদের উপর কাউকে ছরি ঘোরাতে দেব না। সেই কথা রেখেছি।” আগামীদিনেও দলবদলুদের দল যে বিশেষ গুরুত্ব দেবেনা স্পষ্ট করে দেন অভিষেক । তিনি জানিয়েছেন গত দেড় মাস বিরতিতে থাকার সময় নির্বাচনে কে, কী দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি তা পর্যালোচনা করেছেন। এবার পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূলের সেনাপতি ।


More Stories
ঋতব্রতদের সম্পর্কে কুণাল ঘোষের বক্তব্য কেন তাৎপর্যপূর্ণ?
গ্রেফতারির ভয়ে আগাম জামিনের আবেদন অরূপ বিশ্বাসের
বঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন