সময় কলকাতা ডেস্ক , ২৪ আগস্ট : আরজিকর হাসপাতাল কাণ্ডে প্রতিবাদ উঠছে দিকে দিকে। দলমত নির্বিশেষে প্রতিবাদে সামিল রাজ্য ও দেশ।প্রতিবাদ কেবল অরাজনৈতিক স্তরেই দাঁড়িয়ে নেই, রাজনৈতিক স্তরেও প্রতিবাদ হচ্ছে। বাম বা বিজেপি যেমন প্রতিবাদ মিছিল করে নির্যাতিতার সুবিচার চেয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে প্রতিবাদ মিছিলে হেঁটেছেন, ব্লকে ব্লকে প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত করার কথা বলেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন, উত্তর ২৪ পরগনার তৃণমূলের শীর্ষ নেত্রী তথা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত করেছেন। অথচ উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে বিজেপির প্রতিবাদ সভা “বানচাল” করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের এক নেতার বিরুদ্ধে যিনি এক পুলিশ কর্মীও বটে । সৌমেন ওরফে গোপাল কাঞ্জিলাল স্বঘোষিত তৃণমূল নেতা শুধু নয়, তাঁকে দীর্ঘদিনের তৃণমূল কর্মী বলেই এলাকার লোকজন জানেন । একাধিকবার বিভিন্ন বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। এবার তিনি মদ্যপ অবস্থায় দত্তপুকুর স্টেশন চত্বরে বিজেপির প্রতিবাদ সভায় “হামলা” করেন বলে অভিযোগ ওঠে এবং ভিডিও ভাইরাল হয় ।সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই তৃণমূল এবার সৌমেন কাঞ্জিলাল ওরফে গোপাল কাঞ্জিলালের বিষয়ে দায় ঝেড়ে ফেলেছে। ভাইরাল ভিডিওতে দিন তিনেক,আগে, তিনি দত্তপুকুর স্টেশনে মাইক কেড়ে বিজেপি নেতা প্রতীপ চট্টোপাধ্যায়ের ঘাড়ে হাত রেখে হুমকির সুরে পরামর্শ দিচ্ছেন দেখা যায়। এই বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হতেই এ প্রসঙ্গে সৌমেন কাঞ্জিলাল বলেন, বিজেপি তাদের প্রতিবাদ সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী নামে কুৎসা করছিল তাতেই তাঁর আপত্তি থাকায় পাল্টা প্রতিবাদ তিনি জানিয়েছিলেন। কিন্তু একজন পুলিশ আধিকারিক হয়েও কি করে তৃণমূলের সক্রিয় সদস্য? প্রশ্ন উঠতেই গোপাল কাঞ্জিলালের বিষয়ে দায় ঝেড়ে ফেলছে। গোপাল কাঞ্জিলাল দলের কেউ নয় , তিনি আইএনটিটিইউসিরও কেউ নয় এমনটাই দাবি করছে তৃণমূল।এ প্রসঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনা সাংগঠনিক জেলা আইএনটিটিইউসি সভাপতি সোমনাথ শ্যাম জানান, ‘উনি পুলিশকর্মী। নিজে মুখ বললেও উনি আইএনটিটিইউসি কোনও পদে নেই।’
তৃণমূল যাই বলুক না কেন,পুলিশ এএসআই সৌমেন কাঞ্জিলাল বলছেন তিনি দুই বৃন্তেই আছেন। একই সঙ্গে দুটি দল ও সরকারি চাকরি প্রশ্নের তাঁর জবাব, ‘সরকারি নথিপত্রে আমার নাম সৌমেন কাঞ্জিলাল। এই নামে আমি পুলিসে চাকরি করি। আর আমার ডাকনাম গোপাল। আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করি গোপাল পরিচয়েই। গোপাল কাঞ্জিলাল হিসেবেই আমডাঙা বিধানসভা কেন্দ্রের আইএনটিটিইউসি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি আমি।’
প্রতীক চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিজেপির প্রতিবাদ সভা বানচাল করার চেষ্টার পরে বিতর্কের মধ্যমণি হয়ে ওঠায় গোপাল কাঞ্জিলাল বা সৌমেন কাঞ্জিলালকে যে ঝেড়ে ফেলতে চাইছে তৃণমূল তা আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে আইএনটিটিইউসির রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য থেকে । শুধু তাই নয়, তিনি যে পুলিশে কাজ করেন কিনা তা ও প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে।”সৌমেন কাঞ্জিলাল ওরফে গোপাল আমডাঙা বিধানসভা কেন্দ্রের আইএনটিটিইউসি সভাপতি পদে নেই। এই নামের কোনও ব্যক্তির সঙ্গে যোগ নেই তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের। শুক্রবার স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সৌমেন দাবি করেছেন, তিনি পুলিসে চাকরি করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতেও রাজ্য পুলিসের ডিজি এবং কলকাতার পুলিস কমিশনারকে চিঠি পাঠাচ্ছেন ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় । পুলিসের শীর্ষকর্তার কাছে আবেদন করা হতে চলেছে , সৌমেন কাঞ্জিলাল নামের ওই ব্যক্তি আদৌ পুলিসে চাকরি করেন কি না তা বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখা হোক । উক্ত ব্যক্তির সঙ্গে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের কোনও সম্পর্ক নেই। ফলে ওই ব্যক্তি কী করে পুলিস ও দলীয় পদ এক করে কাজ করছেন, তা পর্যবেক্ষণ করা হোক। এছাড়াও তৃণমূলের উত্তর ২৪ পরগনার শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি সোমনাথ শ্যাম বলেছেন, জেলার সব নেতাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সৌমেনের সঙ্গে দলীয় বিষয়ে কেউ যোগাযোগ রাখবেন না। যদিও এব্যাপারে সৌমেন ওরফে গোপাল কাঞ্জিলাল জানিয়েছেন তৃণমূল বা পুলিশ কোন দিক থেকে তার কাছে কোনও নির্দেশ শুক্রবার রাত পর্যন্ত আসেনি। তবে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বে বক্তব্য ও পদক্ষেপ থেকে পরিষ্কার, একাধিকবার বিভিন্ন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা দত্তপুকুরের তৃণমূল নেতা ও পুলিশ আধিকারিক গোপাল কাঞ্জিলালের সঙ্গে আপাতত সবরকম সংস্রব ছিন্ন করা হতে চলেছে।


More Stories
অভয়া কাণ্ডের তদন্তের আওতায় আসতে পারেন মমতা
অবাঞ্ছিত স্পর্শ! চলন্ত গাড়িতে যৌন হয়রানির অভিযোগের ভিডিও ভাইরাল, মধ্যবয়সী পুরুষ বেছে নিলেন চরম পথ, গ্রেফতার ১
মেসিকাণ্ড ঘিরে “কুৎসা”, ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন সৌরভ