সময় কলকাতা ডেস্ক , ২৬ আগস্ট: পরপর দশদিন! রবিবার দিনভর বাড়িতে সিবিআই তল্লাশির পরদিনই সোমবার ফের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিলেন আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। একটি হলুদ রংয়ের ফাইল হাতে সিবিআই দফতরে ঢুকতে দেখা যায় তাঁকে। আরজিকর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরই হাসপাতালের একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। আরজিকরের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনা ছাড়াও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও তদন্ত করছে সিবিআই। প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। হাইকোর্টের নির্দেশের পরেই আরজিকরে দুর্নীতির তদন্তে এফআইআর করে সিবিআই। জোরকদমে শুরু হয়ে যায় তল্লাশি। সেই সূত্রেই আদালতের নির্দেশে রবিবার প্রায় ১২ ঘণ্টা প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বাড়িতে তল্লাশি চালায় সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। সেখান থেকে বেশ কিছু নথিপত্র হাতে রাত সাড়ে আটটা নাগাদ বেরতে দেখা যায় তদন্তকারীদের। আর ঠিক তার পরদিনই ফের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হল সন্দীপকে।
অন্যদিকে, আরজিকরের আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দীপ ঘোষ ছাড়াও এদিন হাসপাতালের প্রাক্তন সুপার সঞ্জয় বশিষ্ঠ, আরজিকর হাসপাতালের ফরেন্সিক কর্তা দেবাশিস সোমকেও তলব করা হয়। হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে যে তাঁরা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, তাই মনে করছে সিবিআই আধিকারিকরা। ইতিমধ্যেই আরজিকর হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি জানিয়েছেন, সঞ্জয় বশিষ্ঠের নেতৃত্বেই ডাক্তারির পড়ুয়াদের হেনস্থা করা হত, তাঁদের থেকে টাকা তোলা হত। জানা গিয়েছে, সন্দীপ ঘোষের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত এই সঞ্জয় বশিষ্ঠ। তিনি সত্যিই এই দুর্নীতি সম্পর্কে জানতেন কি না, দুর্নীতিতে তিনিও জড়িত কিনা, তা তদন্ত করে দেখতেই আজ তলব করা হয়েছে সঞ্জয় বশিষ্ঠকে।

প্রসঙ্গত, আরজিকর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরই হাসপাতালের একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। হাইকোর্টের নির্দেশের পরেই আরজিকরে দুর্নীতির তদন্তে এফআইআর করে সিবিআই। জোরকদমে শুরু হয়ে যায় তল্লাশি। সেই সূত্রেই আদালতের নির্দেশে রবিবার সকাল থেকে শহরজুড়ে অভিযানে নেমেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। অভিযোগ, স্বাস্থ্যভবন ও কলেজ কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়াই ফুড স্টল, কাফে, ক্যান্টিন, সুলভ কমপ্লেক্স তৈরির জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়। তিনজন বিশেষ ব্যবসায়ীই এই প্রত্যেকটি ‘বেআইনি’ টেন্ডার পান। তাঁদের একেকজনকে কয়েক কোটি টাকার বরাত দেওয়া হয়। ফিনান্স ও অ্যাকাউন্ট অফিসারদের কিছু না জানিয়েই এই বরাতগুলি দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ ও অন্যান্য কাজ করানো হয় পূর্ত দফতরকে না জানিয়েই। ডাক্তারি শিক্ষার তহবিল নয়ছয়ের অভিযোগও উঠেছে।অভিযোগ, পুরসভার বদলে হাসপাতালের কর্তারা পার্কিং থেকে টাকা আদায় করে তা সরিয়ে দেন। চুক্তির ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি হয়েছে।
এক স্বাস্থ্যকর্তার বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে চাহিদামতো রদবদলেরও অভিযোগ উঠেছে। বিক্রেতাদের কাছ থেকেও কুড়ি শতাংশ টাকা তোলা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। করোনার সময়ে কোভিডের জন্য আসা রাজ্য সরকারের তহবিল থেকে আরামদায়ক চেয়ার, সোফা, ডাইনিং টেবিল, ফ্রিজ ও আরও অনেক কিছু কেনা হয়। সরকারি টাকায় কেনা বহু জিনিসও এমন নার্সিংহোমে যেত, যার আসল মালিক স্বাস্থ্যকর্তা। এমনকী, ভেন্ডারদের সাহায্যে এক স্বাস্থ্যকর্তার বাগানবাড়ি সাজানো হত ও তা না করলে তাঁরা হুমকির মুখে পড়তেন এমনও অভিযোগ উঠে এসেছে। এখানেই শেষ নয়, একদিন অন্তর হাসপাতালের ব্যবহার হয়ে যাওয়া সিরিঞ্জ, স্যালাইনের বোতল, রবার গ্লাভস, হ্যান্ড গ্লাভস মিলিয়ে কয়েকশো বর্জ্য বের হতো। তাতেও নাকি দুর্নীতি করতেন সন্দীপ। একটা ব়্যাকেট বানিয়ে ফেলেছিলেন, তাতে যুক্ত ছিলেন দু’জন বাংলাদেশিও। এসব দুর্নীতির নথিই দ্রুত সংগ্রহ করতে চাইছে সিবিআই। কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তারও পর্দাফাঁস করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
#CGOcomplex
#RGKarHospitalfinancialcorruptioncase
#RGkarHospital
#RGkarPrincipalSandeepGhosh
#RGKARDoctorDeath
#Latestbengalinews


More Stories
জার্সিতে যৌন অপরাধে প্রাক্তন শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
পাশের ঘরে বাবা-মা তবুও ১২ ঘন্টা ধরে চলেছে যৌন নির্যাতন! ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারীর ১০ দিনের পুলিশি হেফাজত
সুপ্রিম রায় : বিবাহিতা মহিলাদের বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ টিকবে না