সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩০ সেপ্টেম্বর: আইএএস অফিসারের স্ত্রী’কে যৌন নির্যাতনের মামলায় লেক থানার পরিষেবা নিয়ে বিতর্ক এবার তুঙ্গে। এতদিন বিষয়টি নির্যাতিতা, পুলিশ এবং আদালতের মধ্যে থেমে থাকলেও এবার চাপানউতর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলেও। পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে রবিবার লেক থানার সামনে বিক্ষোভ দেখাল দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেস। কলকাতা হাইকোর্ট এই বিষয়ে লেক থানার ওসি-সহ ৬ পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বলেছিল। লালবাজারের ডিসি পদমর্যাদার এক মহিলা অফিসারকে দিয়ে তদন্ত করার নির্দেশও দিয়েছিল উচ্চ আদালত। দুর্বল তথ্য প্রমাণের জেরে ঘটনায় অভিযুক্ত প্রথমে জামিন পেয়ে গেলেও ফের হাইকোর্টের শুনানিতে তাঁর জামিন খারিজ করেছিলেন বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ।

আরও পড়ুন: Manchester United: ব্রুনোর লালকার্ড, ঘরের মাঠে লজ্জার হার ইউনাইটেডের
ঘটনায় লেক থানার গাফিলতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে দোষিকে আড়াল করার চেষ্টা বলে অভিযোগ অনেকের। এ বিষয় দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সভাপতি প্রদীপ প্রসাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “লেক থানার চরম গাফিলতি, উদাসীনতা। প্রভাবশালী অভিযুক্তকে বাঁচাতে মামলার দফারফা করা হয়েছে পুলিশ।” আরজি কর ঘটনার পর থেকেই নারী সুরক্ষার প্রশ্নে রাজ্যকে কাঠগড়ায় তুলেছে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা থেকে সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে ফের পুলিশের এই ধরনের আচরণে ফুঁসে উঠেছে কংগ্রেস। এদিন প্রদীপ আরও যোগ করেছেন, “আদালত নির্দেশ দেওয়ার পরেও, এখনও ব্যবস্থা নেয়নি কলকাতা পুলিশ।” অভিযোগপত্র বিকৃত করেছে, লঘু ধারায় মামলা দায়ের করেছে, নির্যাতিতা তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে বললে সেই আর্জিও উড়িয়ে দিয়েছে লেক থানা।” এদিনের বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন হাত শিবিরের সুবীর চৌধুরী, জাহিদ হোসেনের মত আরও কিছু নেতা।
আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গে মমতার সফরের মাঝেই বোনাসের দাবিতে ১২ ঘণ্টার বনধের ডাক চা শ্রমিকদের
প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুলাই লেক থানা এলাকায় আইএএস অফিসারের স্ত্রীকে ফাঁকা বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল এক ব্যক্তি। এই নিয়ে অভিযোগ জানাতে থানায় গিয়েছিল ওই নির্মযাতিতা মহিলা। তাঁর অভিযোগ পুলিশ ধর্ষণের চেষ্টার মত গুরুতর অপরাধের পরিবর্তে লঘু ধারায় মামলা রুজু করেছিল। এমনকী মহিলার বয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটিও বাদ দিয়ে তা আদালতে পেশ করেছিল পুলিশ। যে কারণেই উপযুক্ত প্রমানের অভাবে গ্রেফতারের পরদিনই আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি। মামলায় ফের উচ্চ আদালতে আবেদন জানান নির্যাতিতা। ঘটনা বিবেচনা করে লেক থানা পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছিল উচ্চ আদালত। সঙ্গে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে আদালতের নির্দেশ পেয়েও কাজ করছে না লেক থানা, এই অভিযোগে এবার থানার সামনে বিক্ষোভ দেখালো দক্ষিণ কলকাতার জেলা কংগ্রেস।


More Stories
গ্রেফতার সুশান্ত ঘোষ
ডিমথেরাপিতে গ্রেফতার ২, কথা রাখলেন পথপ্রদর্শক কুণাল!
কার্যত ভুল স্বীকার করে নিলেন অভিষেক, সুর নরম কল্যাণের, অভিষেক – কল্যাণ বিবাদ মিটল!