সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩০ সেপ্টেম্বরঃ বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরই মধ্যে সোমবার সপ্তাহের প্রথম দিনে ১২ ঘণ্টার বনধের ডাক দিল চা শ্রমিক সংগঠনগুলি। বনধের ডাক দিয়েছে চা শ্রমিকদের আটটি ট্রেড ইউনিয়ন। সোমবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই বনধ পালিত হচ্ছে দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং মিরিকে। আর এই বনধের জেরে চরম হয়রানির শিকার পর্যটক ও নিত্যযাত্রীরা। পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় বন্ধের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছে ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা। এছাড়াও ভারতীয় জনতা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা এই বন্ধকে সমর্থন করেছে। সকাল থেকে কিছু গাড়ি পাহাড়ে গেলেও সেগুলিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়ি থেকে কোনও গাড়ি দার্জিলিং, কার্শিয়াং যাচ্ছে না। অশান্তি এড়ানোর জন্য পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন Manchester United: ব্রুনোর লালকার্ড, ঘরের মাঠে লজ্জার হার ইউনাইটেডের
শ্রমিকদের দাবি, ২০ শতাংশ হারে দিতে হবে পুজোর বোনাস। আর মালিকপক্ষের সিদ্ধান্ত, ২০ নয়, ১৩ শতাংশ বোনাস দেওয়া হবে। যদিও বোনাসের জন্য আগেও একাধিকবার আলোচনা হয়েছে উভয়পক্ষের। তবে, দুজনেই নিজ নিজ দাবিতে অনড়। দাবি আদায়ে তাই এবার কাজকর্ম বন্ধ রেখে ১২ ঘণ্টা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে চা শ্রমিক সংগঠনগুলি। যার জেরে সকাল থেকে চা বাগানের দরজা পর্যন্ত খোলেনি। দার্জিলিংয়ের জনবহুল ম্যাল একেবারে ফাঁকা। চা শ্রমিকদের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে অনীত থাপার দল ভারতীয় গোর্খা গণতান্ত্রিক মোর্চা। এদিকে চা শ্রমিকদের এই ধর্মঘটের জেরে সমস্যায় পড়েছেন পর্যটকরা। বেড়াতে গিয়ে আটকে পড়েছেন। পাহাড়ে থেকে সমতলে কোনও গাড়ি ওঠানামা করছে না। কোনও কোনও জায়গায় রাস্তা অবরোধ করছেন শ্রমিকরা।

তবে পাহাড়ে ধর্মঘট হলেও কালিম্পংয়ে এতটা প্রভাব পড়েনি। বেলার দিকে এখানকার দোকানপাট খুলতে শুরু করে। স্কুল, কলেজও স্বাভাবিক। সকাল থেকে কালিম্পং বাস টার্মিনাস এলাকায় বাস, গাড়ির জন্য হাঁকাহাঁকির চেনা ছবিটা দেখা গেল এদিন। ইতিমধ্যেই কার্শিয়াঙে বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা ঘটে। বনধ হঠাতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় বনধ সমর্থকদের। পাহাড়ে ওঠার রাস্তা রোহিনী থেকে শুরু হয়, সেই রাস্তা বন্ধ। আটটি শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। রবিবার শিলিগুড়িতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার তাঁর ফেরার কথা। তবে তাঁর সফরের মাঝেই চা শ্রমিকদের ধর্মঘট পালন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
#DarjeelingTeaWorkersUnion #Hillstrike #TeaGardenBonusIssue #Latestbengalinews


More Stories
মমতা -অভিষেককে ৩০ হাজার করে ভোটে হারাতে না পারলে নাকখত দেবেন হুমায়ুন কবীর
ভাষা-সন্ত্রাস : মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিজেপি
আইনশৃঙ্খলার পাঠ : বিহারের কাছে কি পশ্চিমবঙ্গকে শিখতে হবে ?