সময় কলকাতা ডেস্ক, ১০ অক্টোবর: দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প সংস্থা টাটা গোষ্ঠীর কর্ণধার রতন টাটার প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার রাতে হর্ষ গোয়েঙ্কার টুইট থেকে রতন টাটার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতেই নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে শোক প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “শিল্প জগতে ও সমাজের জন্য রতন টাটার প্রয়াণ এক অপূরণীয় ক্ষতি।”

আরও পড়ুন: প্রয়াত ভারতীয় শিল্পজগতের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র রতন টাটা
৮৬ বছর বয়সে জীর্ণপ্রায় শরীর নিয়ে দিন কাটছিল রতন টাটার। ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছেন ভারতী শিল্প সমাজের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র তা বোঝা যাচ্ছিল। ব্যবসার প্রকৃত উদ্দেশ্যই হল মুনাফা। রতন টাটা তার ব্যতীত নয়। তবে যে মুনাফা নিয়ে দেশের আর পাঁচটা ব্যবসায়ী ধনকুবের হয়ে ওঠাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। সেই পথে হাঁটেননি টাটা গোষ্ঠীর প্রয়াত কর্ণধার। মুনাফা তিনিও করেছেন তবে তার একাংশ বিলিয়ে দিয়েছেন জনতার মধ্যে। দান নয় ভালোবাসা। অসহায়, বঞ্চিত, ক্ষুধার্থদের প্রতি ভালোবাসা। বুধবার সেই মহাপুরুষের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্ট তিনি লিখেছেন, “টাটা গোষ্ঠীর প্রাক্তন চেয়ারম্যান রতন টাটার মৃত্যুতে আমি শোকাহত। রতন টাটা ভারতীয় শিল্পের একজন অগ্রণী নেতা এবং একজন জন-উৎসাহী জনহিতৈষী মানুষ ছিলেন। তাঁর মৃত্যু ভারতীয় ব্যবসায়িক জগৎ ও সমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হবে। তার পরিবারের সকল সদস্য ও সহকর্মীদের জানাই আমার সমবেদনা।”
আরও পড়ুন: পুজোর মুখে নন্দনে জায়গা পেল না টেক্কা, বহুরূপী এবং শাস্ত্রী
শিল্পপতি রতন টাটার সঙ্গে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কের রয়েছে এক গভীর ইতিহাস। এই ইতিহাস ঘাটলে বামেদের ৩৪ বছরের ক্ষমতার যবনিকা পতন থেকে বর্তমান শাসক দল তৃণমূল সকরারের উথ্যানের গল্প জানা যায়। বাম আমলে সিঙ্গুরে বিপুল জমি দাবি করেছিল টাটা। উদ্দেশ্য ছিল ন্যানো গাড়ি তৈরির কারখানা হবে। বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্যাচার্জ অনুমতি দিলেও, তার ঘোর বিরোধিতা করেছিলেন মমতা। সেখান থেকে শুরু বাংলার সিঙ্গুর পর্ব। বঙ্গ রাজনীতির একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই সময় সিঙ্গুর থেকে টাটাকে উৎখাত করার দায় মাথায় তুলে নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এখন সেই অভিযোগ উপেক্ষা করতে দেখা যায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে। গত বছর টাটা গোষ্ঠীকে যখন ক্ষতিপূরণ যাবত ৭৬৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ বর্তেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘাড়ে। সেই সময়ও পুরানো সম্পর্ক কিছুটা টাটকা হয়ে উঠেছিল। তবে রাজনীতি কিংবা বাণিজ্যের অনেক উপরে মনুষত্ব। কার্যত, এদিন সেই মমতাই রতন টাটার প্রয়াণে শোকের বার্তা দিয়েছেন।


More Stories
আবার বাড়ল পেট্রোল, ডিজেলের দাম
সুপ্রিম রায় : বিবাহিতা মহিলাদের বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ টিকবে না
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হওয়ায় ভারতের ক্রেতা-উপভোক্তাদের কী কী সুবিধা হল? দাম কমবে কোন কোন জিনিসের?