সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৩ অক্টোবর: “বরণ শেষে সিঁদুর খেলা, আসছে মনে বিদায় বেলা” গানের লাইনটা কানে গেলেই চোখটা কেমন ঝাপসা হয়ে আসে। গলায় কাছে জমাট বাঁধে কান্না। হ্যাঁ খুব আবেগী বাঙালি। নিজেদের মেয়ে উমাকে নিয়ে বাঁধভাঙা আবেগ তাঁদের। দশমীর দিন ঠাকুর বরণ, সিঁদুর খেলা, মিষ্টি মুখ এসবের মধ্যে দিয়ে মানুষ বিদায় জানায় মা দুর্গাকে। ব্যাস, তারপরের দিন সকাল থেকেই আবার অপেক্ষা শুরু এই পাঁচটা দিনের। বিশ্বাস করা হয়, বিজয়া দশমীর এই পবিত্র তিথিতেও মা দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাশে স্বামীর কাছে ফিরে যান। উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যে দিনটি পালিত হয় দশেরা রূপে। তবে এই দিনটাকে কেন ‘বিজয়া দশমী’ বলা হয় জানেন? ‘দশরা’ হিসাবেই বা কেন পালিত হয় দিনটি? জেনে নিন বিস্তরে …
কেন বলা হয় ‘বিজয়া দশমী’?
রীতি অনুযায়ী দুর্গাপুজা শেষ হয় ‘বিজয়া দশমীর’ দিন। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতে বাপের বাড়ি ছেড়ে কৈলাসে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন দেবী দুর্গা। সেই কারণে এই তিথিকে ‘বিজয় দশমী’ বলা হয়। এবার বলি দশমীর আগে ‘বিজয়া’ যোগ করার কারণ। এর পেছনেও রয়েছে পৌরাণিক গল্প। কথিত আছে, মহিষাসুরের সঙ্গে টানা নয় দিন নয় রাত্রি যুদ্ধ করার পর দশম দিনে তাঁকে বধ করেছিলেন দেবী দুর্গা। কার্যত নারী শক্তির সেই জয়লাভকেই বিজয়া বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

‘দশেরা’ হিসাবে কেন পালিত হয় দিনটি?
উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে দশমীকে ‘দশেরা’ বলা হয়। দেশজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় দশেরা পালিত হয়। এই দিনে প্রতিকী রামচন্দ্র সেজে কোনও এক ব্যক্তি তীরের ফলায় আগুন নিয়ে ছুঁড়ে মারেন প্রতিকী রাবনের মূর্তিতে। আগুনের স্পর্শে যখন রাবনের মূর্তি পুড়ে ছাই হয়ে যায়, বিশ্বাস করা হয় তখন গ্রহের সমস্ত অশুভ শক্তিও ভস্মে পরিণত হয়। বাল্মীকি রচিত রামায়ণে কথিত আছে, আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের দশমী তিথিতে রাবণ বধ করেছিলেন রাম। রাবণ বধের পর ৩০তম দিনে অযোধ্যা প্রত্যাবর্তন করেন শ্রী রামচন্দ্র। তাই এই দিনটিকে দশেরা হিসেবে পালন করা হয়।

“আসবে আবার মা বছর পরে, চোখটা তবু হায় জলে ভরে”, বিসর্জনমুখী উমা। দেশের বেশকিছু জায়গায় গতকাল বিসর্জন হলেও, রবিবার সিংহভাগ পুজো মণ্ডপগুলি প্রতিমা নিরঞ্জন করবে। অর্থাৎ কাল সকাল থেকেই আবার দিন গোনা শুরু।


More Stories
নেতাজি ইস্যু : অনন্ত মহারাজকে উন্মাদ আখ্যা দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত!
মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে টালা ব্রিজের ল্যাম্প পোস্টের মাথায় কসরৎ
মৌলবাদের ভ্রূকুটি পেছনে ফেলে কলকাতায় তসলিমা নাসরিন