Home » মায়ের বকুনির জেরেই আত্মঘাতী ১১ বছরের বালক, ছোটদের মধ্যে কেন বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা?

মায়ের বকুনির জেরেই আত্মঘাতী ১১ বছরের বালক, ছোটদের মধ্যে কেন বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা?

সময় কলকাতা ডেস্ক, অর্পণ ঘোষ, ২৩ অক্টোবর: ভুল মোবাইল নম্বরে রিচার্জ করায় একটু বকাবকি করেছিলেন মা। যার জেরেই আত্মঘাতী পঞ্চম শ্রেণীর পড়ুয়া শিশু। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট থানার শীতলগ্রামে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল শিশুটির মা তার হাতে টাকা দিয়ে বলেছিল নির্দিষ্ট একটি নম্বরে রিচার্জ করতে। তবে দোকানে গিয়ে সে ভুল নম্বরে রিচার্জ করে ফেলে। বাড়ি ফিরে সেই বিষয়ে জানতে পারলে ছেলেকে বকাবকি করেন মা। একটুকুতেই ধৈর্য হারিয়ে মৃত্যুর পথ বেছে নেয় বছর এগারোর বালক। গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে সে। ছেলের মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন পরিবার। 

আরও পড়ুন: Bangalore Building Collapse: বেঙ্গালুরুতে ভেঙে পড়ল বহুতল, ইতিমধ্যে মৃত পাঁচ, উদ্ধারকার্য চলছে

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম সৌম্যদীপ দত্ত। মা রেখা দত্ত মঙ্গলকোট পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যা। ছেলেকে হারিয়ে মর্মাহত অবস্থা রেখার। প্রতিবেশী সূত্রে জানা গিয়েছে, রেখাদেবী সোমবার সন্ধ্যার ছেলেকে ৩০০ টাকা দিয়ে গ্রামের একটি দোকানে মোবাইল ফোনের রিচার্জ করতে পাঠিয়েছিলেন। ওই দোকানে রিচার্জের টাকা মিটিয়ে বাড়ি ফিরে আসে সৌম্যদীপ। কিন্তু বেশকিছুক্ষণ পেরিয়ে গেলেও রেখাদেবী দেখেন তাঁর মোবাইলে রিচার্জের মেসেজ আসেনি। দোকানে গিয়ে জানতে পারেন ছেলে ওই দোকানদারকে মোবাইল নম্বর বলতে ভুল করেছিল। ফলে অন্য এক নম্বরে সেই টাকার রিচার্জ হয়ে গিয়েছে। বাড়ি ফিরে এসে ছেলেকে বকাবকি শুরু করেন মা। এরপর বাড়িতে ছেলেকে একা রেখে, মেয়েকে নিয়ে বাইরে যান রেখাদেবী। কিছুক্ষণ পর বাড়িতে ফিরে দিদি ও মা দেখে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছার ফাঁস দিয়ে ঝুলছে তাঁদের একমাত্র ছেলে। তৎক্ষণাৎ পড়শীদের ডেকে ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার জানিয়ে দেন বাড়িতেই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রাতেই হাসপাতাল থেকে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কাটোয়া হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

পূর্ব বর্ধমানের এই ঘটনা চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছে গোটা এলাকায়। ওই টুকু শিশু এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত কেন নিল উত্তর নেই কারও কাছে। বাচ্চাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা আজকাল কেন এত বাড়ছে জানতে চাইলে, বিশিষ্ট মনবিদ হিরন্ময় সাহা সময় কলকাতাকে জানালেন, “মানসিক অবসাদ বড়, ছোট সবার মধ্যেই থাকে। ডাক্তারি পরিভাষায় আত্মহত্যার দুটি মূল কারণ ‘গ্রস রিগ্রেসিভ ইলনেস’ ও ‘ইম্পলসিভ বিহেভিওর’। কিছু কিছু বাচ্চা, যাদের ছোট থেকেই বাড়িতে সবসময় বকাবকি শুনতে হয়, অথবা বাবা-মায়ের থেকে অবহেলা পায় তাঁদের এই সমস্যা হতে পারে। এই বাচ্ছাটা ভুল নম্বরে রিচার্জ করার জন্য আগে থেকেই মানসিক ভাবে কষ্ট পেয়েছে। ফলে তাঁর মধ্যে একটা ডিপ্রেশনের প্রবণতা আসতে পারে। এটা ছোট থেকে বড় সবার ক্ষেত্রেই হয়। ছোটরা বড়দেরই ক্ষুদ্র সংস্করন। তবে আমার মনে হয় বাচ্ছাদের মধ্যে এই আত্মহত্যার প্রবনতা বাড়ছে কারণ এমন অনেক আচরণ তারা দেখছে চারিদিকে যা আগে ছিল না। ছোটদের ওপর সেগুলির প্রভাব পড়ছে। এই মর্মে সমাজের কাছে আমার অনুরোধ এমন কোনও কথা বাচ্ছাদের না বলাই ভালো যাতে তারা মনে আঘাত পায়।”

About Post Author