সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৮ ডিসেম্বর: সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতারির পর মঙ্গলবার জোকা ইএসআই-তে স্বাস্থ্যপরীক্ষা হয়েছে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র বা ‘কালীঘাটের কাকু’র। তারপর সিবিআইয়ের দফতর নিজাম ল্যালেসে কাটল গোটা রাত। সূত্রের খবর, সেখানে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসবাদ করছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন: ধর্মতলায় ধরনার অনুমতি খারিজ করল কমিশনার, চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে জুনিয়র চিকিৎসকরা
সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে সুজয়কৃষ্ণর আইনজীবীর পেশ করা আগাম জামিনের আর্জি খারিজ হয়েছে। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্সি জেল থেকে তাঁকে বিচারভবনে বিশেষ সিবিআই আদালতে ভারচুয়াল পদ্ধতিতে হাজির করা হয়। তখনই সিবিআই আদালত জানায়, তদন্ত ঠিক পথে চালনা করতে ‘কালীঘাটের কাকু’কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। তাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুপক্ষের বক্তব্য শুনে আদালতের নির্দেশ দেয়, প্রেসিডেন্সি জেলের হাসপাতাল থেকে সুজয়কৃষ্ণকে কেন্দ্রীয় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হবে। আদালতের পর্ব মিটতেই রাত সাড়ে নটা নাগাদ কালীঘাটের কাকুকে নিয়ে প্রেসিডেন্সি জেলে পৌঁছয় সিবিআই। এর পর রাত প্রায় সোয়া বারোটা নাগাদ তাঁকে জোকার ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় নিজাম প্যালেসে। গোটা রাত সেখানেই কেটেছে সুজয়কৃষ্ণের।
আরও পড়ুন: আরও এক ধাপ এগিয়ে জেপিসিতে গেল ‘এক দেশ, এক ভোট’ বিল
প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত বছর ৩০ মে ইডির হাতে গ্রেফতার হন কালীঘাটের কাকু। নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডের তদন্তে নেমে কালীঘাটের কাকুর বেহালার বাড়ি, অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। যেদিন এই তল্লাশি চলছিল, সেদিন আবার নিজাম প্যালেসে হাজিরা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কালীঘাটের কাকুর বাড়ি ও অফিস থেকে ইডি বেরিয়েছিল ১৬ ঘণ্টা পর। জানা গিয়েছিল, প্রচুর নথি নাকি নিয়ে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, সেই নথির ভিত্তিতেই কালীঘাটের কাকুকে তলব করেছিল ইডি দফতরে। শেষ পর্যন্ত টানা ১১ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ছিলেন অভিষেকের অফিসের কর্মচারী। ইডি সূত্রে এও জানা গিয়েছিল কালীঘাটের কাকু একাধিক কোম্পানির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। লিপস অ্যান্ড বাউন্স প্রাইভেট লিমিটেড-এর এএমডি পোস্টে ছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কোম্পানিরই ডিরেক্টরস বোর্ডের একটি তালিকায় নাম ছিল সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের। কিন্তু,লোকসভা ভোটের আগেই এই কোম্পানি থেকে ইস্তফা দেন কালীঘাটের কাকু। প্রাথমিক তদন্তে ইডি-র অনুমান ছিল, কালীঘাটের কাকু একাধিক কোম্পানির মাধ্যমে ঘুরপথে কালো টাকা সাদা করত।


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা