সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ ডিসেম্বর: বেশ কয়েকজন মিলে গণ পিটুনি দিয়ে খুন করেছিল এক ব্যক্তিকে। ২০১১ সালে বর্ধমানের এই ঘটনায় নয়জনকে যাবজ্জীবনের এই সাজা ঘোষণা করল বর্ধমান আদালত। এক সঙ্গে নয়জনকে এই সাজা শোনানোর ঘটনা যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ। এমনই মনে করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভিন দেশের আইনকেই হাতে তুলে নিল ক্ষিপ্ত প্রেমিকা! বিদায় জানাতে এসে পুরুষাঙ্গ খোয়াল প্রেমিক
মর্মান্তিক ওই ঘটনা ঘটেছিল ২০১১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। মেমারি থানার করণদা গ্রামে খুন হয়েছিলেন ভূতনাথ মালিক নামে এক ব্যক্তি। গ্রামেরই কিছু বাসিন্দা তাঁকে বেধড়ক মারধর করেছিল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার কিছু দিন আগে ওই গ্রামে নবান্ন উৎসব হয়েছিল। সেখানে ওই ব্যক্তি কিছু কটুক্তি করেছিলেন বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার জন্য গ্রামে শালিসি সভা বসানোর কথা বলা হয়েছিল। ওই ব্যক্তিকে ডাকা হলেও তিনি যাননি।
আরও পড়ুন: সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন পার্থর জামাই কল্যাণময়
সেই ঘটনায় আরও ক্ষোভ বেড়েছিল। ঘটনার দিন বিকেলে ভুতনাথ মালিককে ফুলপুকুর পুকুরের পারে দেখতে পেয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। তারপর তাঁকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামেরই একটি ক্লাবঘরে। সেখানে শালিসি সভা করার জন্য লোকজন জড়ো হয়েছিলেন। তবে সেদিন আর শালিসি সভা হয়নি। তার বদলে সেখানে আবার তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। সেই মারধরেই প্রাণ হারান ওই ব্যক্তি। রাত পৌনে এগারোটা নাগাদ পুলিশ সেখানে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। মৃতের ভাই গণেশ মালিক ওই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে একাধিক গ্রামবাসীকে গ্রেপ্তার করে। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের পঞ্চম কোর্টে বিচারক দেবশ্রী হালদারের এজলাসে এই মামলার শুনানি চলছিল। পুলিশ ২৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয়। এক দশকের বেশি সময় ধরে এই মামলার বিচার চলে। আজ সোমবার বিচারক তিন মহিলা সহ নয় জনকে যাবজ্জীবন সাজা শোনান। বাকিদের বেকসুর খালাস করা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তরা হল অজয় পণ্ডিত, রাজু পণ্ডিত, মোহন পণ্ডিত, কবিতা পণ্ডিত, মদন দুর্লভ, আলো বাগ, ছবি বাগ, হাবল মালিক ও মিলন বাগ।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী