Home » উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু, জলপাইগুড়ি পুলিশের অনন্য উদ্যোগ

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু, জলপাইগুড়ি পুলিশের অনন্য উদ্যোগ

সময় কলকাতা ,সানি রায় উত্তরবঙ্গ:-সমাজের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে পুলিশের একটা নেগেটিভ ছবি সর্বদা তৈরি করার একটা প্রয়াস থাকে। কখনও সেই প্রয়াস রাজনৈতিক কারণে হয় আবার কখনও কিছু পুলিশ কর্মীর গাফিলতির কারণেও তৈরি হয়। কিন্তু পুলিশের ভালো কাজকে সাধারণত তুলে ধরা হয় না সমাজের সামনে। এর কারন কিছু সামাজিক প্রেক্ষাপট রয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে মানসিক প্রেক্ষাপট। কারণ আমাদের বিভিন্ন প্রবাদের মধ্যে রয়েছে একটি প্রবাদ বাঘে ছুঁলে ১৮ ঘা আর পুলিশ ছুঁলে ৩৬ ঘা। অর্থাৎ পুলিশ সম্বন্ধে একটা নেগেটিভ চিন্তাভাবনা সমাজে চোরা স্রোত হিসেবে বইতে থাকে।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতি মুহূর্তে পুলিশ প্রশাসন তৎপরতার সঙ্গে অপরাধের মোকাবিলা করে চলেছে। রাজনৈতিক চাপে অনেক সময় পুলিশকে এমন পদক্ষেপ নিতে হয় যেটা হয়তো সাধারণ মানুষের চোখে স্বাভাবিক লাগেনা। তা সত্ত্বেও বহু পুলিশ কর্মী আছেন যারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন সমাজের উপকারে। সোমবার থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হল, সকাল থেকেই জলপাইগুড়ির বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গেল এক অনন্য দৃশ্য। জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের তরফে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বনাঞ্চল লাগোয়া এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল বন দপ্তরের গাড়ি। যে গাড়ি করে বন্যপ্রাণী করিডর এলাকাগুলিতে নিশ্চিন্তে নিরাপত্তা সহযোগে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে।

শুধুমাত্র এই নয় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে পুলিশের মানবিক মুখ দেখা গেল জলপাইগুড়িতে। শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন একজন পরীক্ষার্থী ধূপগুড়ি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে আসেন। সঙ্গে ছিল ওই পরীক্ষার্থীর মা। কিন্তু এডমিট কার্ড আনতে ভুলে গিয়েছিলেন ওই পরীক্ষার্থী। ফলে হতাশায় কান্নাকাটি শুরু করে দেন ওই পরীক্ষার্থী ,বিষয়টি নজরে আসে ধুপগুড়ি থানার এএসআই নন্দিতা সরকারের। নন্দিতা সরকার সঙ্গে সঙ্গে ফোন করেন পুলিশের হেল্প-লাইন গাড়ির চালককে। নন্দিতা সরকারের উদ্যোগে ওই পরীক্ষার্থী বাড়ি থেকে এডমিট কার্ড এনে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এই ঘটনায় সাধুবাদ জানিয়েছেন পরীক্ষার্থী, পরীক্ষার্থীর পরিবার সহ এলাকার মানুষ। পুলিশের কাজ সাধারণ মানুষের পাশে থাকা তাদের সহযোগিতা করা পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। নন্দিতা সরকারের এই তাৎক্ষণিক উদ্যোগ অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

About Post Author