সময় কলকাতা ডেস্ক:- আগামী ৩০ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ার দিন দীঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন। তার আগে দিঘাকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দীঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পরিষদ। অনিয়ম ঠেকাতে তাই দীঘাকে একাধিক জোনে ভাগ করে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের। তবে শুধুমাত্র সমুদ্রতট বা সংলগ্ন বাজার ঢেলে সাজানোই নয়, দিঘার হোটেল ও টোটো ভাড়া, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট, আলো, ড্রেনেজ, রাস্তা জবরদখল, সব কিছুকে একটা সুনির্দিষ্ট নিয়মে নিয়ে আসতে চাইছে পর্ষদ। পাশাপাশি দীঘা শহরকে ১০টি জোনে ভাগ করে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে উন্নয়ন পর্ষদ।
দীঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের ওয়েবসাইটে দেওয়া নম্বরে এবার সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন পর্যটকরা
পর্যটকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ দীঘায় মান অনুযায়ী, পরিষেবা অনুযায়ী, হোটেল ভাড়া সুনির্দিষ্ট নেই। যখন যেমন তখন তেমন ইচ্ছা অনুযায়ী হোটেল মালিকেরা ভাড়া নিয়ে থাকে। এ বিষয়ে হাজার হাজার অভিযোগ জমা পড়ে দীঘা শংকরপুর উন্নয়ন পরিষদের ওয়েবসাইটে। অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া কিংবা হোটেলের পরিষেবা নিয়ে পর্যটকদের অভিযোগ কে গুরুত্ব দিয়ে দীঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের ওয়েবসাইটে দেওয়া নম্বরে এবার সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন পর্যটকরা। পর্ষদের একটি বিশেষ টিম এবার থেকে হোটেলগুলিতে সারপ্রাইজ ভিজিট চালাবে নিয়মিত। বাস ভাড়া ও টোটো ভাড়ার ক্ষেত্রেও অতি শীঘ্র সুনির্দিষ্ট নীতি গ্রহণ করা হবে।
সাধারণ মধ্যবিত্ত বাঙালির কাছে স্বল্প খরচায় কয়েকদিনের বিনোদন মানেই দীঘা। কিন্তু এবার জগন্নাথ দেবের মন্দির কে কেন্দ্র করে দীঘায় হয়ে উঠবে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র। আর তাই হোটেল মালিক থেকে টোটো, ভ্যান রিক্সা মালিকরা যাতে খামখেয়ালিপনা করতে না পারে সে কারণে সুনির্দিষ্ট নীতি গ্রহণ করতে চাইছে দীঘা শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদ।সমগ্র দীঘা উপর নজরদারি বাড়াতে, দীঘাকে দশটি জোনে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে থাকছেন পর্ষদের কর্মীরা। পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দা কোনও সমস্যায় পড়লে বা পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ থাকলে সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পর্ষদের হিসেব অনুসারে
বিশেষ বিশেষ দিন ছাড়া অন্য দিনগুলিতে দীঘায় প্রতিদিন গড়ে ৩-৪ হাজার মানুষ বেড়াতে আসে। জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের সময় থেকে এই সংখ্যাটা প্রায় দুই-তিন গুন বেড়ে যাবে বলে মনে করছে পর্ষদ। পর্যটকদের ব্যাপক ভিড়ের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে দীঘার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থারও সংস্কার শুরু করেছে প্রশাসন। দিঘার হোটেল নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ভিড়ের দিনগুলিতে ৪০০ টাকার রুম ভাড়া বেড়ে ৮০০ টাকা বা তার বেশি। ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে হোটেলের ভাড়া। যা ভারতের কোন পর্যটন কেন্দ্রে দেখা যায় না। একই ভাবে ভ্যান চালক থেকে টোটো চালকেরাও মর্জিমতো ভাড়া দাবি করে বসেন।
এই অভিযোগ কে গুরুত্ব দিয়ে পর্ষদ ও পুলিশ প্রশাসন একাধিকরার বৈঠক করছে হোটেল মালিক থেকে যানবাহনের মালিক চালকদের সঙ্গে। তবে আগে যে খুব একটা পরিস্থিতির বদল হতো এমনটা নয়। তাই এবার এ বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে উন্নয়ন পর্ষদ। অন্তত এমনটাই দাবি দীঘা শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের। এখন দেখার আগামী দিনে কথার সঙ্গে কাজের কতটা মিল পাওয়া যায়।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি