সময় কলকাতা ডেস্ক:- বাংলায় তোলপাড় ফেলে ভূতুড়ে ভোটার ইস্যু এবার দিল্লিতে। চাপ বাড়াতে নির্বাচন কমিশনে বিজেপি-তৃণমূল কংগ্রেস। ভুয়ো ভোটার নিয়ে বিজেপি-কমিশনকে একযোগে আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল। তার পাল্টা সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে গেল রাজ্য বিজেপি। কার পাল্লা ভারী ? বোঝাতে বাংলায় তোলপাড় ফেলে, এবার ভূতুড়ে ভোটার ইস্যু এবার দিল্লিতে।ইস্যু এক। নালিশও এক। অথচ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল ও বিজেপি। নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় ভোটার লিস্টে কারচুপি করে দিল্লি, মহারাষ্ট্রের মতো বিজেপি বাংলা দখল করতে চাইছে বলে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নেতাজি ইনডোরের সভা থেকে অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভূতুড়ে ভোটার ধরতে ইতিমধ্যে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভায় বুথ ধরে ধরে কর্মীদের ভোটার লিস্ট খতিয়ে দেখার নির্দেশও পৌঁছেছে তৃণমূল ভবন থেকে। তবে এরই পাল্টা হিসেবে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই ভোটার লিস্টে কারচুপির অভিযোগে বারবার সরব হয়েছে পদ্ম শিবির। বাংলায় ১৭ লক্ষের কাছাকাছি ভুয়ো ভোটারের তালিকা রয়েছে, দাবি করেছিল রাজ্য বিজেপি।
কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল ও বিজেপি
মঙ্গলবার এই ভূতুড়ে ভোটার ইস্যুতেই দিল্লিতে এক ঘণ্টার ব্যবধানে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল ও বিজেপি। প্রথমে যায় বঙ্গ বিজেপির ১০ জনের এক প্রতিনিধি দল। নিজেদের অভিযোগের স্বপক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে মঙ্গলবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয় বিজেপি। দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, সাংসদ অভিজিত্ গঙ্গোপাধ্যায়, জয়ন্ত রায়, মনোজ টিগ্গা, খগেন মুর্মু সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও ব্রায়েনের মতো সিনিয়র সাংসদরা ছিলেন। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, নির্বাচন কমিশনের ২৮ নম্বর রুলে উল্লেখ আছে, একটা এপিক নম্বরে একজনই ব্যক্তি থাকবে। অথচ একই এপিক নম্বরে একাধিক ব্যক্তির নাম।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই এই তথ্য সামনে এনেছেন। তারপরও কমিশন এ বিষয়ে কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি।আক্ষেপের সুরে কল্যাণ এও বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা উচিত। অথচ তাঁরা মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছেন। এটা দুর্ভাগ্যের। তৃণমূল সাংসদদের দাবি, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলের আগেই বিজেপির প্রতিনিধিদল কমিশনের দ্বারস্থ হয়। সুকান্ত মজুমদার, অমিত মালব্যদের নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধিদলের দাবি, বাংলায় ভুয়ো ভোটারের আমদানি তৃণমূল জমানাতেই। অভিযোগ, বাংলায় ১৩ লক্ষের বেশি ভুয়ো ভোটার আছে। এই ভোটের জোরেই তৃণমূল ক্ষমতায় টিকে আছে। জেলা ধরে ধরে কমিশনকে ভুয়ো ভোটারের তালিকা তুলে দেওয়া হয়েছে।
কমিশনে নালিশ জানান সুকান্ত মজুমদার
ভুতূড়ে ভোটার ইস্যু, হিংসা ইস্যু সহ একাধিক অভিযোগ নিয়ে কমিশনে নালিশ জানান সুকান্ত মজুমদার। পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, শাস্তি কাকে দেওয়া হবে ? ভোটার তালিকা কারা তৈরি করে ? সিইও তৈরি করে। সিইও-র অফিস নির্বাচনের সময় বাদ দিয়ে, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে নয়। পদ্ম শিবির বারবার অভিযোগ তুলেছে, রাজ্যে মুসলিম অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে সাম্প্রতিক অতীতে অস্বাভাবিক হারে ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে।
উল্টো দিকে অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় ভোটার বৃদ্ধির হার সব থেকে কম। বিজেপির অভিযোগ, শেষ ৬ বছরে রাজ্যে গড় ভোটার বৃদ্ধির হার ৮.৬৯ শতাংশ। সেখানে ১৩৬টি বিধানসভা আসনে রাজ্যের গড়ের চেয়ে অস্বাভাবিক হারে ভোটার বৃদ্ধি হয়েছে। এর মধ্যে ৮২টি বিধানসভা মুসলিম অধ্যুষিত। যদিও, তৃণমূলের অভিযোগ, একই এপিক নম্বরে বাইরের ভোটারদের নাম ঢুকিয়ে দিল্লি, মহারাষ্ট্রের কায়দায় বাংলা দখল করতে চাইছে পদ্ম শিবির। তাই বিজেপির অভিযোগ মঙ্গলবার কমিশনের বাইরে দাঁড়িয়েও নস্যাৎ করেছেন তৃণমূল।রীতিমতো সম্মুখ সমরে নামতে চলেছে বাংলার শাসক-বিরোধী দুই শিবিরই। দু’তরফের অভিযোগ, ভূতুড়ে ভোটার নিয়ে। অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে কমিশন। সময় বলবে, বাংলা থেকে সত্যি ভূতুড়ে ভোটার নির্মূল হবে কিনা।


More Stories
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?
দেগঙ্গায় জিতবেন কে? বিদেশ নাকি মিন্টু সাহাজি?