Home » ভোটার তালিকায় ‘ভূত’ ধরতে আরও কড়া অভিষেক , ৫ দিনের মধ্যে জেলাভিত্তিক কমিটি গঠনের নির্দেশ

ভোটার তালিকায় ‘ভূত’ ধরতে আরও কড়া অভিষেক , ৫ দিনের মধ্যে জেলাভিত্তিক কমিটি গঠনের নির্দেশ

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে জেলায় জেলায় ভূতুড়ে ভোটার খুঁজে বের করতে তৎপর তৃণমূল। শনিবার তৃণমূলের সব স্তরের নেতাদের সঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভার্চুয়ালি বৈঠকে সেই তৎপরতার ছবিই ধরা পড়ল। শনিবার ভার্চুয়াল বৈঠকে ভূতুড়ে ভোটার খুঁজতে জেলাভিত্তিক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন অভিষেক। কমিটি গঠনের জন্য সময়সীমাও বেঁধে দেন তিনি। বৈঠক থেকে অভিষেক জানিয়ে দেন, ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখার জন্য আগামী ৫ দিনের মধ্যে জেলাভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে। এবং ২১ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে ব্লকে ব্লকে কমিটি গঠন করা হবে। ২৮ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে অঞ্চল ও ওয়ার্ড কমিটি তৈরি করে দেওয়া হবে। দলের তরফে ইলেক্টোরাল রোল সুপারভাইজার নিয়োগ করা হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নথি পরীক্ষার কাজ চলবে। সন্দেহ হলেই নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীকে তার তথ্য দিতে হবে। পঞ্চায়েত স্তরে এই কমিটির নাম হবে পঞ্চায়েত ইলেক্টোরাল রোল সুপারভাইজার। টাউন কমিটির নাম টাউন ইলেক্টোরাল রোল সুপারভাইজার। ব্লক কমিটির সভাপতিকে স্ক্রুটিনির দায়িত্ব নিতে হবে না।

ভূতুড়ে ভোটার খুঁজতে তৃণমূলের ব্লক স্তরে ‘ব্লক ইলেক্টোরাল রোল সুপার ভাইজার’ নামে পদও তৈরি করছে তৃণমূল। অর্থাৎ ভোটার তালিকায় একটি ভূতুড়ে ভোটারও যেন না থেকে যায়, এটা নিশ্চিত করতে চাইছেন অভিষেক। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নেতাজি ইনডোরে তৃণমূলের বর্ধিত কর্মিসভার বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, কমিশনকে কাজে লাগিয়ে ভোটার লিস্টে ভূতুড়ে ভোটার ঢুকিয়ে দিচ্ছে পদ্ম শিবির। এভাবেই দিল্লি, মহারাষ্ট্রের ক্ষমতা বিজেপি দখল করেছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন নেত্রী।

ভোটার তালিকার স্কুটিনির জন্য নতুন করে কমিটি গঠন করা হবে

সেই সব ভূত ঝাড়াই বাছাইয়ের জন্য রাজ্যস্তরে একটি স্ক্রুটিনি কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কমিটিতে ছিলেন সুব্রত বক্সি, অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিমরা। কমিটিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও রাখা হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকেই অভিষেক যাননি। ভূতুড়ে ভোটার খুঁজতে স্ক্রুটিনি কমিটির ওই বৈঠকে জেলাওয়াড়ি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেখা যায়, সেই জেলাওয়াড়ি কমিটি গঠনও স্থগিত রাখার নির্দেশ আসে কালীঘাট থেকে। এর পরই অভিষেকের ডাকা বৈঠকের চেহারা বহরে বাড়তে শুরু করে। কৌতূহলও বাড়ে, জল্পনাও বাড়ে। কারণ, শনিবারের বৈঠকে শুধু কোর কমিটি নয়, অভিষেকের শনিবারের বৈঠকে ডাক পান দলের সর্বস্তরের নেতাই। ভোটার লিস্টে ভূতুড়ে কাণ্ড ধরতে যে তৎপরতা শুরু হয়েছিল, এবার তা যেন অভূতপূর্ব মোড় নিয়ে নেয়
, তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, ভোটার তালিকার স্কুটিনির জন্য নতুন করে কমিটি গঠন করা হবে।

কীভাবে সেই প্রক্রিয়া হবে

বৈঠকে শনিবার তা স্পষ্ট করে দেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। শুরুতে বৈঠকের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন অভিষেক। বছর ঘুরলেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা বোঝাতে গিয়ে বৈঠকে অভিষেক বলেন, অন্য রাজ্যে এক দফা বা দু’দফায় ভোট হলেও বাংলার ক্ষেত্রে একাধিক দফায় ভোট আগেও করেছে কমিশন। এমনকী কোভিডের সময়ও এই নিয়মে বদল ঘটেনি। গত লোকসভা ভোটেও একই ছবি দেখা গিয়েছিল। এমনকী ভোটের সময় সমগ্র রাজ্যের প্রশাসনে কার্যত অদল বদল করে একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থাকে এনে ভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়।

এদিকে, সন্দেশখালি, আরজি করের উদাহরণ টেনে দলের নেতা কর্মীদের অভিষেক বোঝাতে চান, ২৬ এর বিধানসভা ভোটের আগে ফের রাজ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করতে পারে বিরোধীরা। তাই শুধু সাংগঠনিক কাজ দেখভাল করলেই হবে না, চোখ-কানও খোলা রাখতে হবে। দেখতে হবে, কোথাও কোনও ষড়য়ন্ত্র তৈরির চেষ্টা হচ্ছে কিনা। এ ব্যাপারে নেতা, কর্মীদের আরও বেশি করে জনসংযোগ বৃদ্ধি পরামর্শও দেন তিনি। শনিবারের বৈঠকে রাজ্য কমিটি, জেলা সভাপতি, সাংসদ, বিধায়ক, জেলা পরিষদের সব সদস্য এবং কলকাতা সহ সকল পুরসভার সমস্ত কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা প্রায় সাড়ে চার হাজার। গত বছরের ২ জুনের পর চলতি বছরের ১৫ মার্চ।

২৮৫ দিনের ব্যবধানে ফের মেগা বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা ভোট-পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুব কমই সক্রিয় থাকতে দেখা গিয়েছে। বরং এও দেখা গিয়েছে যে, দলের বিধায়কদের বৈঠকে ডেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিচ্ছেন, তিনিই সংগঠন দেখবেন। তাঁর কথাই শেষ কথা। কিন্তু ইনডোরের বৈঠকের পর যেন রাতারাতি একটা বদল দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই। শনিবারের বৈঠকের পর তা আরও স্পষ্ট হয়ে গেল। অনেকের মতে, শনিবারের বৈঠককে একটি নতুন অধ্যায় বা মাইলফলক বলে হয়তো চিহ্নিত করা যেতে পারে। কারণ, ছাব্বিশের ভোটের আগে ফের যেন গুছিয়ে প্যাড-গ্লাভস পরতে দেখা যাচ্ছে অভিষেককে। বাকিটা সময় বলবে।

 

About Post Author