সময় কলকাতা ডেস্ক:- নজরে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট। তার আগে ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে শনিবার মেগা বৈঠকে বসেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই আইপ্যাক নিয়ে বড় বার্তা দিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। আইপ্যাকের নাম করে টাকা তোলার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন অভিষেক। তৃণমূল সেনাপতি এ নিয়ে একটি ফোন নম্বরও দিয়ে দেন। স্পষ্ট জানান, আইপ্যাকের নাম করে পদ পাইয়ে দেব বলে টাকা চাওয়া হচ্ছে। যদি এমন ফোন কেউ পান, তাহলে তা যেন সংশ্লিষ্ট নম্বরে ফোন করে যাচাই করে নেবেন। সম্প্রতি আই প্যাক নিয়ে বড় অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্ররা। যা নিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নেতাজি ইনডোরের সভা থেকে মদন, কল্যাণদের নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, আই-প্যাককে নিয়ে এই সব উল্টোপাল্টা কথা বন্ধ করতে হবে।
কোন ব্যক্তি আই-প্যাকের নয় কিনা যাচাই করার জন্য দিলেন নাম্বার
এবার পরোক্ষে সেই বার্তা দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সঙ্গে এও স্বীকার করে নিলেন, বদনাম করতে কে বা কারা আইপ্যাকের নাম ব্যবহার করছে। ভূতুড়ে ভোটার প্রসঙ্গে এদিন দলের সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধি এবং নেতাদের নিয়ে শনিবার ভার্চুয়াল বৈঠক ডেকেছিলেন অভিষেক। সেখান থেকেই তিনি জানিয়ে দেন, তাঁর অফিসের ও আইপ্যাকের নাম করে পদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। অনেক অভিযোগ এসেছে। অনেক গ্রেফতার হয়েছে। অভিষেক নম্বর দিয়ে দেন। যদি কেউ বলে আইপ্যাক থেকে এসেছে, তাহলে ৮১৪২৬৮১৪২৬ – এই নাম্বারে ভেরিফাই করে নিতে বলেন অভিষেক।
আই-প্যাক বাদ দিয়ে ভোট লড়া সম্ভব নয়
অভিষেক এও মনে করিয়ে দেন, তাঁর অফিস থেকে গেলে আগাম বার্তা যাবে জেলা সভাপতির কাছে। না হলে তাকে এন্টারটেন যেন কেউ না করেন। অভিষেকের অফিসে রিপোর্ট করার কথাও বলেন তিনি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগে মদন মিত্রও আই-প্যাকের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছিলেন। তাঁরও অভিযোগ ছিল, আই-প্যাক টাকা তোলে। তবে পরে মদন মিত্র দিদির কাছে চিঠি লিখে ক্ষমা চান। তবে অনেকের দাবি, এঁরা দুজনেই নন, দলের অনেক প্রবীণ নেতাই আই প্যাকের নামে মমতার কান ভাঙিয়েছিলেন। দলের একাংশ সেই প্রবীণ নেতার অসন্তোষ প্রশমিত করতে মমতাও এক সময়ে প্যাক প্যাক মানি না গোছের মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু জানা গিয়েছে, পরে মমতার সঙ্গে বৈঠকে অভিষেক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আই-প্যাককে বাদ দিয়ে ভোট লড়া সম্ভব নয়।
নিচুতলায় তথা তৃণমূলস্তরে নিরপেক্ষ সমীক্ষার জন্য এরকম একটি এজেন্সি প্রয়োজন। আই-প্যাকের কাজের জন্য যাঁদের সমস্যা হচ্ছে তাঁরাই ফোঁস করছেন। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে একটা রফা সূত্র বেরিয়েছে। আই প্যাকের কেউ কোনও নেতাকে ফোন করে কিছু বলবেন না। কোনও নির্দেশ বা পরামর্শ দেবেন না। তাঁরা সমীক্ষার কাজ ও প্রচার কৌশল নির্ধারনের কাজটাই করবেন। এবার অভিষেকও জানিয়ে দিলেন, আই-প্যাক সংক্রান্ত কারও কাছে ফোন গেলে তাঁরা যে সংশ্লিষ্ট নম্বরে ফোন করে যাচাই করে নেন।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?