Home » বাংলায় বিজেপির ২৫টি সাংগঠনিক জেলার নতুন সভাপতিদের নাম ঘোষণা

বাংলায় বিজেপির ২৫টি সাংগঠনিক জেলার নতুন সভাপতিদের নাম ঘোষণা

সময় কলকাতা ডেস্ক:- শুক্রবার দোলের দিনে বাংলায় বিজেপির ২৫টি সাংগঠনিক জেলার নতুন সভাপতিদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সেই তালিকায় দলের ‘আদি’-দের উপস্থিতি নজরকাড়া। যাঁদের নাম তালিকায় রয়েছে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত। উল্লেখ্য, বিজেপির ৪৩টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। এখনও ১৮ জনের নাম ঘোষণা বাকি।

জেলা সভাপতিদের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৬০ বছর নির্ধারিত করা হয়েছে

কোনও বিধায়ককেই সাংগঠনিক জেলা সভাপতি করা হয়নি, এই সিদ্ধান্ত রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের। এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর রয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। পাশাপাশি জেলা সভাপতিদের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৬০ বছর নির্ধারিত করা হয়েছে। আর এই নিয়োগের ক্ষেত্রে দায়িত্ব ছিল বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল, বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) সতীশ ধন্ড এবং রাজ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক অমিত মালব্যের উপরে।

পুরনো মুখের পরিবর্তন

নতুন জেলা সভাপতি তালিকা নজর রাখলে দেখা যাচ্ছে, কোচবিহার থেকে বিধায়ক সুকুমার রায়কে সরানো হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে আনা হয়েছে অভিজিৎ বর্মনকে। জলপাইগুড়িতে পাঁচ বছরের বেশি সময় জেলা সভাপতি ছিলেন বাপি গোস্বামী। তাঁর জায়গায় আনা হয়েছে শ্যামল রায়কে। শিলিগুড়ি জেলায় ফের অরুণ মণ্ডলের উপরেই ভরসা রেখেছে দল। মালদা উত্তর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পদ থেকে সরানো হয়েছে উজ্জ্বল দত্তকে। তাঁর পরিবর্তে আনা হয়েছে প্রতাপ সিংহকে।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সমস্ত আসনগুলির উপরে বিশেষ নজর বঙ্গ রাজনৈতিক মহলের। স্বাভাবিক ভাবেই সেখানে বিজেপির সাংগঠনিক জেলাগুলির দায়িত্ব কারা পাবেন, তা নিয়ে কৌতুহল ছিলই। সম্প্রতি বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তাপসী মণ্ডল যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। সেই জায়গায় মলয় সিনহাকে আনা হবে তা একপ্রকার স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে তাঁর নামেই সিলমোহর পড়েছে। এছাড়াও কাঁথির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সোমনাথ রায়কে।

অন্যদিকে, উত্তর কলকাতায় সংগঠনের দায়িত্ব রাখা হয়েছে তমোঘ্ন ঘোষের হাতেই। তৃণমূলের ছাত্র সংগঠন করা এই নেতা ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে বিজেপিতে যোগ দেন। এর পর ২০২২ সালে কল্যাণ চৌবেকে সরিয়ে তাঁকে উত্তর কলকাতায় সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শোনা যাচ্ছিল, হয়তো এই পদে অন্য কোনও নতুন মুখ আনা হতে পারে। বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের নামও ভাসছিল বিভিন্ন মহলে। কিন্তু শেষমেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তমোঘ্নকেই উত্তর কলকাতার দায়িত্ব দিল দল। দক্ষিণ কলকাতায় বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পদে বহাল রাখা হয়েছে অনুপম ভট্টাচার্যকে।

বছর ঘুরলেই বঙ্গে বিধানসভা ভোট। এই সময়ে বিজেপির মধ্যে চলা সাংগঠনিক নির্বাচন পর্বে নজর ছিল রাজ্য রাজনৈতিক মহলের। তালিকায় দলের ‘আদি’-দের উপস্থিতি নজরকাড়া। সম্প্রতি বিজেপিতে আদি-নব্য দ্বন্দ্ব একাধিক বার প্রকাশ্যে এসেছে। ‘দলবদলু’-দের দলে যোগ দেওয়া মাত্রই পদ বা টিকিট দেওয়া নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে একাধিক পুরোনো নেতা। সেই জায়গায় বিজেপি নেতৃত্বের সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পদে দলের পুরনো কর্মীদের প্রাধান্য দেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

About Post Author