Home » ১০৫ বছর বয়স! চিকিৎসকের বুকে বসল পেসমেকার

১০৫ বছর বয়স! চিকিৎসকের বুকে বসল পেসমেকার

সময় কলকাতা ডেস্ক:- বয়স ১০৫ বছর, ডাক্তারবাবু এখন অশক্ত ঠিকই, কিন্তু বয়সের ভারে ন্যুব্জ নন। শুধু হার্টের ব্যামোর কারণে একটি পেসমেকার বসানোর দরকার হয়ে পড়েছিল। তাঁর বয়সের কথা ভেবেই প্রথমে কিছুটা সংশয়ে ছিলেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ডাক্তার স্মৃতিকণা রায়-এর ১০৫ বছর বয়সে অবশেষে বসানো হলো পেসমেকার। ঝুঁকি একটা ছিলই। যদিও স্মৃতিকণার বুকে সফল ভাবে পেসমেকার বসালেন ইন্টারভেনশনাল কার্ডিয়োলজিস্ট সুনীলবরণ রায়। বিরল এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হাসপাতাল, খুশি রোগিণীও।

জানা গিয়েছে, গত শনিবার তাঁর বুকে পেসমেকার বসানো হয়। চিকিৎসক সুনীল বরণ রায় জানান, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। আগে তাঁর একটু মাথা ঘুরত, কিছুটা দুর্বলও হয়ে পড়ছিলেন। কিন্তু সে সবকে তোয়াক্কা করেননি স্মৃতিকণা। নিজের ডাক্তারি সিদ্ধান্তের উপর ভরসা রেখেই কার্ডিয়োলজিস্টকেও সাহস জুগিয়েছেন তিনি। তাই পেসমেকার বসানোর সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধায় পড়তে হয়নি ডাক্তার সুনীলবরণ রায় কে। পেসমেকার বসানোর পর অফুরান প্রাণশক্তিতে ভরপুর স্মৃতিকণা জানিয়েছেন, ‘চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে ভরসা রেখেছি। আমার প্রাণশক্তির উৎস নিরন্তর কাজ করে যাওয়া এবং অন্যের উপকার করা। সে কারণে এই বয়সেও সুস্থ আছি।’

পরাধীন ভারতে ১৯১৯ সালে বালিগঞ্জে জন্ম স্মৃতিকণার। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকেই এমবিবিএস এবং পরে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। পেশায় প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন তিনি। সুদীর্ঘ এই জীবনে বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করার সময়ে অন্তত হাজার তিনেক নবজাতক প্রসব করিয়েছেন তিনি। এখনও বয়সের ভার তাঁর শরীর বা মনকে ঝোঁকাতে পারেনি। তাই ১০৫ বছরেও হাসিমুখে সয়েছেন পেসমেকার ইমপ্লান্টেশন প্রসিডিয়োর। আলিপুরের উডল্যান্ডস হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছে, ভর্তি থাকাকালীন কয়েক দিনে তিনি চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যেও দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন নিজের স্নিগ্ধ স্বভাবের জন্য।

About Post Author