সময় কলকাতা ডেস্ক:- পাকিস্তানের তরফে ভারতে লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টার পর এবার পাল্টা জবাবে নৌ সামরিক অভিযানে নামল ভারত। জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোররাতে আরব সাগরে পাকিস্তানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ভারতীয় নৌবাহিনী অভিযান শুরু করেছে। পহেলগাঁও হামলার ৫ দিন পরে, ২৭ এপ্রিলই আরব সাগরে যুদ্ধের মহড়া দিচ্ছিল ভারতীয় নৌসেনা। বাহিনীর একাধিক রণতরী আরব সাগরে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ অনুশীলন করছিল। দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে ভারতের যুদ্ধজাহাজগুলি কতটা সক্ষম, তা ঝালিয়ে নেওয়া হয়।
সেদিনও অবশ্য কেউ জানত না, এক সপ্তাহের মধ্যে যে বড় প্রত্যাঘাতের পরিকল্পনা করছে ভারত, এই মহড়া তারই প্রস্তুতি। বুধবার গভীর রাতে ভারতের অপারেশন সিঁদুর-এর পরে বৃহস্পতিবার জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করে পাকিস্তান। টার্গেট করা হয়েছিল জম্মু শহর ছাড়াও আরএস পুরা, আরনিয়া, সাম্বা এবং হীরানগর অঞ্চলকে। তবে ভারতের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সমস্ত ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত হয়। পাশাপাশি রাজস্থানের জয়সলমীরে ড্রোন হামলার চেষ্টা হলে সেগুলিও ধ্বংস করা হয়। এই পরিস্থিতিতে চণ্ডীগড়, মোহালি ও শ্রীনগরের মতো একাধিক শহরে নিরাপত্তার স্বার্থে ব্ল্যাকআউট কার্যকর করা হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানায়, ভারত তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত এবং দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাওয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন ভারতীয় পর্যটক নিহত হওয়ার পর ভারত বুধবার মাঝরাতে শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’। পাকিস্তানের মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদের ঘাঁটি-সহ মোট ৯ টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। পাল্টা জবাবে পাকিস্তান বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের ১৫টি ঘাঁটিতে হামলা চালানোর চেষ্টা করে, যদিও সফল হয়নি।
ভারত সেই হামলার পাল্টা জবাবে পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর হামলা চালায় এবং লাহোরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ধ্বংসও করে দেয়। সন্ধ্যায় ফের পাকিস্তান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টা করে। তবে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সেগুলি আবারও ব্যর্থ হয়। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ফের উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। ভারতের উপরে হামলা চালায় পাকিস্তান। পাল্টা জবাব দিয়েছে ভারতও। এস-৪০০ সুদর্শন চক্র ভেদ করে পাকিস্তানি ড্রোন ঢুকতেই পারেনি। আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে সব ড্রোন-মিসাইল। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর লাগাতার সংঘর্ষ চলছে। পাকিস্তানের ছোড়া গুলি-মর্টার-শেলের যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারত। রাতেই সমুদ্রে নামে ভারতীয় নৌসেনার রণতরীও।
আইএনএস বিক্রান্ত অভিযানে নামে। হামলা করে করাচি বন্দরে। প্রসঙ্গত, শেষবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের রণতরী হামলা করেছিল এই করাচি বন্দরেই। সেই সময় এক সপ্তাহ ধরে জ্বলেছিল করাচি বন্দর। আরব সাগরে ভারতীয় নৌসেনা নামিয়েছে পি-৮১ এয়ারক্রাফ্টও। এটি অ্যান্টি-সাবমেরিন এয়ারক্রাফ্ট। পাকিস্তান সাবমেরিন হামলা চালাতে পারে, সেই হামলা ঠেকাতেই এয়ারক্রাফ্ট নামানো হয়েছে। অন্যদিকে ২৬ টি রণতরীও এগোচ্ছে পাকিস্তানের দিকে। বায়ুসেনার পর এবার বড় অভিযানে ভারতীয় নৌসনা। ১৯৭১-র পর ফের একবার ভারতের আঘাতে জ্বলছে পাকিস্তান। এবার নৌসেনার যুদ্ধজাহাজ এগোচ্ছে। সামনে টিকতে পারবে তো পাকিস্তান?


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?