Home » বঙ্গবন্ধু মুজিব ‘মুক্তিযোদ্ধা’ই নন! কী চলছে ইউনুসের বাংলাদেশে?

বঙ্গবন্ধু মুজিব ‘মুক্তিযোদ্ধা’ই নন! কী চলছে ইউনুসের বাংলাদেশে?

সময় কলকাতা ডেস্ক:- তাঁর নেতৃত্বেই স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। সেই বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান নাকি ‘মুক্তিযোদ্ধা’ই নন! বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় মঙ্গলবার রাতে বড় ধরনের পরিবর্তন করা হল। সরকারি অধ্যাদেশ জারি করে বলা হল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীনের মতো স্বাধীনতা যুদ্ধের সেনানিরা আর বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে বিবেচিত হবেন না। তাঁদের বলা হবে মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী শক্তি।

মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। অধ্যাদেশের ফলে শেখ মুজিবুর রহমান-সহ প্রায় চারশো জাতীয় পরিষদের সদস্য ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা থেকে মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী হিসাবে গন্য হবেন।

নয়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী অস্ত্র হাতে ময়দানে যুদ্ধ করেছেন যাঁরা তাঁরাই শুধু মুক্তিযোদ্ধা বলে গন্য হবেন। সেই অনুযায়ী বিএনপি-র প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর মুক্তিযোদ্ধা বিবেচিত হবেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডার। মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন একটি সেক্টরের কমান্ডার। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গভীর রাতে মুজিব স্বাধীনতার ডাক দেওয়ার অল্পকিছুক্ষণ পর পাকিস্তানি সেনা মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে। পরদিন নিয়ে যায় করাচিতে। পরের নয় মাস তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের জেলে বন্দি ছিলেন। অন্যদিকে, তাজউদ্দীন, সৈয়দ নজরুল ইসলামের মতো নেতারা কলকাতায় এসে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। তাঁরা সকলেই এতদিন বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে বিবেচিত হতেন। অধ্যাদেশে মহম্মদ ইউনুসের সরকার মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাঁচটি ভাগে ভাগ করেছে।

এক, যেসব বাংলাদেশি পেশাজীবী মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদেশে অবস্থানকালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশেষ অবদান রাখেন এবং বাংলাদেশের যেসব নাগরিক বিশ্বজনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন

দুই, যেসব ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত বাংলাদেশ সরকারের অধীন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা দূত, মুজিবনগর সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন

তিন, মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব এমএনএ বা এমপিএ, যাঁরা পরবর্তী সময়ে গণপরিষদের সদস্য হিসেবে গণ্য হয়েছিলেন

চার, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সব শিল্পী ও কলাকুশলী এবং দেশ ও দেশের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সব বাংলাদেশি সাংবাদিক

পাঁচ, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল

তাত্পর্যপূর্ণ বিষয় হল, যাঁর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিলেন শত শত মহিলা, সেই শেখ মুজিবুর রহমানই বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ ইউনুসের জমানায়। অনেকেই মনে করছেন, নয়া মানদণ্ড অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের সহযোগীর তালিকায় বহু নতুন নাম অম্তর্ভুক্ত করা হবে। তাঁদের অন্যতম হল মহম্মদ ইউনুস।

তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশে ছিলেন না। এমনকী দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও স্বাধীনতা যুদ্ধ বিষয়ক কোনও কিছুর সঙ্গেই তাঁর সম্পৃক্তকার প্রমাণ মেলেনি। এমনকী ঢাকার শহিদ মিনার, সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধও প্রথম পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পর।

এই সব বিষয় আলোচনায় আসার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে দাবি করা হতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বিদেশে অর্থ সংগ্রহের কাজ করেছেন। তিনি সেই সময় পড়াশুনোর জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশ প্রশাসনের অনেকেই মনে করছেন, তালিকাটি এমনভাবে সংশোধন করা হয়েছে, যাতে প্রথম তালিকায় প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস ও তাঁর মতো আরও অনেককে মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধুর সমতুল্য করে তোলা যায়।

গত বছরের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর পদ্মাপারের দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সেইসময় বঙ্গবন্ধুর মূর্তিও ভাঙতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। তারপর থেকেই বাংলাদেশে শেখ মুজিবর রহমানের অবদানকে অস্বীকার, তাঁর স্মৃতিকে মুছে ফেলার যে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে তার ধারাবাহিকতায় মুক্তিযোদ্ধার তালিকাও সংশোধন করে ফেলা হল। কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের টাকার নোট থেকেও মুজিবুরের ছবি সরানো হয়। এবার বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতিও কেড়ে নিল ইউনুসের সরকার।

About Post Author