Home » অনুগামীরা সঙ্গ ছারছে অনুব্রত’র!

অনুগামীরা সঙ্গ ছারছে অনুব্রত’র!

সময় কলকাতা ডেস্ক:- বীরভূমের রাজনীতি থেকে ক্রমশ ব্রাত্য হয়ে উঠেছেন তিনি। রাজনৈতিক ময়দানে তিনি ক্রমশ হয়ে উঠেছেন কোন ঠাঁসা। তিনি আর কেউ নন, তিনি অনুব্রত ওরফে কেষ্ঠ মণ্ডল। অথচ এই কেষ্ঠকেই বীরভূমের বাঘ বলেই অবিভূত করেছিলেন, রাজ্যের ক্ষমতাবান মন্ত্রী ফিরহাদ ওরফে ববি হাকিম। বহু আগেই গরু পাচার মামলায় নাম জড়িয়েছে অনুব্রত’র। কন্যা সুকন্যা নিয়ে কেষ্ঠ মণ্ডলকে দীর্ঘ সময় কাঁটাতে হয়েছে তিহার জেলে।

জেল বন্দী অনুব্রতর’র পাশে বরাবর তাঁর রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বরা ছিলেন। এমনকি রাজনৈতিক কারণেই গরু পাচার মামলায় কেষ্ঠ মণ্ডলকে ফাঁসানো হয়েছে বলে একাধিক বার দাবি করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। জেল বন্দী অবস্থাতেও ঘাসফুল শিবিরের বীরভূম জেলার সভাপতির পদ থেকে তাকে সরাননি তৃণমূল সুপ্রিমো। কিন্তু একটি ফোন কল। সব উলট পালট করে দিয়েছে।

এখন কার্যত স্বেচ্ছায় গৃহ বন্দী অনুব্রত মণ্ডলকে ছেড়ে যাচ্ছেন তাঁর একের পর এক অনুগামীরা। বুধবার জেলার, সাঁইথিয়া ব্লকের বনগ্রাম পঞ্চায়েতের অনুব্রত ঘনিষ্ঠ সদস্যরা দেখা করলেন কাজল শেখের সঙ্গে। বীরভূমের রাজনীতিতে যেই কাজল শেখ, কেষ্ঠ বিরোধী বলে পরিচিত। জেলায় কান পাতলেই শোনা যায় কাজল এবং কেষ্ঠ’র সম্পর্ক আদায় কাঁচকলায়। বনগ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তুষার মন্ডল দাবি করেছেন তিনি অনুব্রত মন্ডল অনুগামী ছিলেন। কিন্তু একাধিক বিষয় নিয়ে তাদের প্রিয় কেষ্ঠ দার কাছে গিয়েও সমস্যার সমাধান হয়নি। তাই তারা সঠিক নেতার খোঁজে কাজল শেখের সঙ্গে দেখা করলেন।

বনগ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তুষার মন্ডলের সুরেই কথা বলেছেন, অনুব্রত মন্ডল অনুগামী বলে পরিচিত, বনগ্রামের দাপুটে তৃণমূল নেতা সুকান্ত ঘোষ।

বীরভূম জেলা তৃণমূল এর কোর কমিটির অন্যতম সদস্য কাজল শেখ’র দাবি তাঁর বা দলের কোনও নেতা কর্মীর অনুগামী নেই। তারা সবাই দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়’র অনুগামী।

এদিন কেষ্ঠ মণ্ডলের নাম মুখে না এনে ফের কেষ্ঠকেই কটাক্ষ করেন, কাজল শেখ। বলেন, মমতা’র অনুগামী তৈরি করাই তার কাজ।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের একটি অডিও প্রকাশ্যে এনেছে বিজেপি। ভাইরাল সেই অডিওতে পুলিশ অফিসারকে কদর্য ভাষায় গালাগালি দিতে শোনা গিয়েছে কেষ্ঠকে। যদিও সেই ভাইরাল অডিও’র সত্যতা যাচাই করেনি সময় কলকাতা। কিন্তু সেই পুলিশ অফিসারকে কদর্য ভাষায় গালাগালির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন অনুব্রত।

জানা গিয়েছে, তাঁর পর থেকেই অনুব্রত বাড়িতে শুয়ে আছেন। পুলিশি তলব এড়িয়ে গিয়েছেন, জানিয়েছেন তিনি অসুস্থ। আরও জানা গিয়েছে, দলের উচ্চ নেতৃত্বের কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। এই আবহে অনুব্রত’র অনুগামীরাও তাঁর সঙ্গ ছাড়ছেন একে একে। বঙ্গ রাজনৈতিক মহলের এক অংশের দাবি, রাজনৈতিক ক্যরিয়ার কার্যত শেষ অনুব্রত ওরফে কেষ্ঠ মণ্ডলের।

About Post Author