Home » ৩০ লক্ষ টাকা ফেরত পেলেন প্রতারিত চিকিৎসক

৩০ লক্ষ টাকা ফেরত পেলেন প্রতারিত চিকিৎসক

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে এক কোটি টাকার প্রতারণা করা হয়েছিল এক চিকিৎসকের সঙ্গে। তার মধ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা বৃহস্পতিবার ওই চিকিৎসককে ফেরত দিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

সেই সঙ্গে এ দিন গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই চক্রের আরও তিন জনকে। এর আগে ওই চক্রের তিন জনকে গোয়েন্দারা গ্রেপ্তার করেছিলেন। পুলিশ সূত্রের খবর, ওই চিকিৎসকের নাম উৎপলকুমার বিট। তিনি ২০২৩ সালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে অবসর নেন। প্রতারণার ঘটনাটি ঘটে তার পরের বছর।

পুলিশ সূত্রের খবর, ওই ঘটনায় আগেই সুরজকুমার সিং, আরমান আখতার খান ও মহম্মদ জহিনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার আরও তিন অভিযুক্তকে উত্তর শহরতলির লেক টাউন ও বাঙুর থেকে তদন্তকারীরা গ্রেপ্তার করেন।

পুলিশ সূত্রের খবর, তাদের নাম: সুব্রত মল্লিক, পঙ্কজ মল্লিক ও বিষ্ণু আগরওয়াল। প্রথমে সুব্রতকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জেরা করে বাঙুর অ্যাভিনিউয়ের একটি অফিস থেকে গ্রেপ্তার করা হয় পঙ্কজ ও বিষ্ণুকে।

অফিস থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, টাকার নোট গোনার মেশিন, চেকবই এবং নগদ প্রায় ২৯ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রতারণার ওই বিপুল টাকা সুরজের অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল। সেই অ্যাকাউন্টের দেখভাল করত আরমান। তদন্তে জানা গিয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমেও টাকা পাচার করা হয়েছে।

চিকিৎসক তাঁর অভিযোগ দায়ের করার প্রায় সাত মাসের মধ্যে কলকাতা পুলিশ তাঁর ৩০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে তাঁকে ফেরত দিয়েছে। চিকিৎসকের টাকা যে সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল, তদন্তে নেমে সেগুলোকে ব্লক করেন গোয়েন্দারা। চিকিৎসকের খোয়া যাওয়া বাকি ৭০ লক্ষ টাকা তদন্তকারীরা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

উল্লেখ্য, সার্ভে পার্ক থানায় ২০২৪–এর ৯ নভেম্বর ওই চিকিৎসকের দায়ের করা অভিযোগে জানা যায়, মুম্বই পুলিশের নাম করে তাঁকে ফোন করে বলা হয়, তাঁর নামে একাধিক বেআইনি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে সিবিআই–তেও। তাঁর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বেরিয়েছে। তদন্ত করছে মুম্বই পুলিশ। সাদা পোশাকের পুলিশ তাঁর বাড়ি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে।

এ ব্যাপারে কাউকে জানাতে নিষেধ করা হয় তাঁকে। জানালে তাঁর সব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হবে এবং তিনি এক কোটি টাকা না–দিলে তাঁকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

তখন তিনি তাঁর সঞ্চিত ১ কোটি টাকা ফোনের ও প্রান্তে থাকা ব্যক্তির কথা মতো তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠান। কিছু দিন পরে ওই চিকিৎসক বুঝতে পারেন যে, তিনি প্রতারিত হয়েছেন।

About Post Author