Home » মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিই সার! বালি পাচারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ধূপগুড়িতে

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিই সার! বালি পাচারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ধূপগুড়িতে

সময় কলকাতা ডেস্ক:- গ্রামেগঞ্জে একদিকে নতুন রাস্তা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে ভারী ট্রাক ঢুকে রাস্তা ভেঙে দিচ্ছে। গত মাসে শিলিগুড়ির প্রশাসনিক সভায় এপ্রসঙ্গ তুলেছিলেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ বসুনিয়া। সেসময় বিষয়টি কানে আসতেই বেজায় চটেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর ভর্ৎসনার মুখে পড়েছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারও।

তবে ভারী ট্রাকের জন্য রাস্তা খারাপ হওয়ার বিষয়টি সেসময় শিরোনামে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি ফের একবার আলোচনায় এসেছিল নদীর চর থেকে অবৈধভাবে বালি-মাটি তোলার বিষয়টিও। সরকারকে কর ফাঁকি দিয়ে বালি মাফিয়ারা প্রশাসনের একাংশের সঙ্গে যোগসাজশে দিনের পর দিন নদী খাদ থেকে বালি উত্তোলন করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে।

প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের হলে, কিছুদিন চলে চোর পুলিশ খেলা, তারপর আবার সেই। অর্থাৎ সেটিংটা তখন আরও বেশি টাকায় হয়। মাঝে মাঝে প্রশাসনিক তৎপরতা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় সাধারণ মানুষের মনে ধারণা জন্মায়, যে এবার বুঝি বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে। কিন্তু সবই অন্তঃসারশূন্য। নিট ফল জিরো, কিন্তু প্রফিটের ফল মাফিয়াদের আর একশ্রেণীর প্রশাসনের পকেটে।

ধূপগুড়ির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নানাই, রাঙাতি, জলঢাকা, ডুডুয়া নদী থেকে দেদার বালি তোলার ছবি ধরা পরে। কার্যত নদীতে ট্রাক্টর-ট্রলি নামিয়ে চলে বালি উত্তোলনের কাজ। নজরে আসতেই বারবার সময় কলকাতার পর্দায় সেই খবর সম্প্রচারিত হতেই কিছুটা নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। কিন্তু সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আবার শুরু হয় মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য। প্রতিবাদ করাও দায় আজকাল।

আর এবার রাতের অন্ধকারে বালি পাচারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়াল এলাকারই দুপক্ষ। ঘটনায় দুপক্ষের অন্তত ১২ জন জখম। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ধূপগুড়ি মহকুমার বানারহাট থানার রাঙাতি নদীর চরে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় নদী থেকে বেআইনিভাবে বালি জায়গায় একটি ছাগল গেলে সেটাকে নিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে শুরু হয় গন্ডগোল। এর পরেই তুলতে গেলে, স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেন। অভিযোগ, তখনই বালি পাচারকারীরা লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়। কারও মাথা ফাটে, তো কারোর হাত-পা কেটে যায়। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা রাঙাতি এলাকায়। আক্রান্ত হন বেশ কয়েকজন মহিলা। জখমদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর। স্থানীয় হাসপাতালে তাঁদের ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। উত্তেজনা থাকায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকেই দায়ী করেছেন স্থানীয়দের একাংশ।

তাঁদের অভিযোগ, বালি পাচার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরেও প্রশাসনের একাংশ নিষ্ক্রিয়। তারই জেরে রাতের অন্ধকারে রাঙাতি নদী থেকে যথেচ্ছহারে বালি তোলা হচ্ছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বালি পাচার রুখতে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিলেও, তা বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না বলেই অভিযোগ।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ কি তবে প্রশাসনের নিচুতলার কর্মী-আধিকারিক পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে না? না কি নির্দেশ অমান্য করে চলছেন কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিক? কীভাবে এই পাচারকারীরা এমন সাহস পাচ্ছে বারবার?

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার জানিয়েছেন বেআইনিভাবে নদীর পাড় থেকে বালি তোলা যাবে না। এমন ঘটনা ঘটলে প্রশাসন তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ প্রশাসনের কিছু নিচু তলার কর্মী এবং নেতারা কতটা মানেন সে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। কারণ শাসকদলের নেতাদের প্রচ্ছন্ন মদত ছাড়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন কোনওভাবেই সম্ভব নয়।

About Post Author