Home » ভোটার লিস্ট সংশোধনে কোন রকম আপোষ নয় মনোভাব কমিশনের

ভোটার লিস্ট সংশোধনে কোন রকম আপোষ নয় মনোভাব কমিশনের

সময় কলকাতা ডেস্ক:- নির্দেশিকা মেনে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) পদে রাজ্য সরকারের স্থায়ী কর্মী নিয়োগের কাজ কতটা কার্যকর হয়েছে, তা ২০ জুনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন জানাতে বলল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (সিইও)।

নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের আগেই কমিশন এই কেন্দ্রে ভোটার তালিকা বিশেষ সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আাধিকারিক মনোজ আগরওয়াল ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ দেখতে এই বিধানসভা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।

সেখানেই দেখা যায়, একাধিক বিএলও-র ডায়েরিতে মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া বা নতুন ভোটারের নাম যুক্ত করার জন্য আবেদন জমা পড়েছে। তা সরেজমিনে তদন্ত করে পদক্ষেপ করতে বিএলও কোনও ব্যবস্থা নেননি।

মৃত ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ব্যাপারে কোনও ভূমিকাই নেন না বিএলও-রা, এমনও অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণেই মৃত ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় বছরের পর বছর থেকে যাচ্ছে বলে নজরে এসেছে কমিশনের। তাই নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা নির্ভুল করতে বিএলও পদে সংস্কারে কড়া অবস্থান নিয়েছে।

আগামী বছর রাজ্যে ভোট। তার আগে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে কমিশন কোনও ত্রুটি রাখতে চায় না। ভোটার তালিকা সংশোধনে বিএলও-দের ভূমিকায় কমিশন সন্তুষ্ট নয়। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রাজনৈতিক দলগুলি বিভিন্ন সময়ে তুলেছে।

কমিশনের নয়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা রয়েছে, সরকারি বা আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মী ছাড়া কেউ বিএলও থাকতে পারবেন না। রাজ্য সরকার বা রাজ্যের কোনও স্বশাসিত সংস্থার চতুর্থ শ্রেণির কর্মীকে এই পদে বসানো যাবে না।

লোকাভাব হলে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, চুক্তির ভিত্তিতে নিযুক্ত শিক্ষক বা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের এই পদে শর্তসাপেক্ষে নিয়োগ করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও)। তার আগে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছ থেকে রাজ্য সরকারি প্রতিষ্ঠান বা পঞ্চায়েত, পুরসভার স্থায়ী কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না— এই মর্মে শংসাপত্র নিতে হবে ইআরও-কে।

এরপরেও বিএলও পদে কোনও কর্মী না–পাওয়া গেলে ইআরও সম–মর্যাদাপূর্ণ পদে কোনও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অনুমতি নিয়ে নিয়োগ করবেন। এই ধরনের সব নিয়োগের ক্ষেত্রেই নির্বাচন কমিশন থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে।

বিএলও নিয়োগ নিয়ে এই গাইডলাইন কতটা কার্যকর হলো, তার অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট আগামী ২০ জুনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে সিইও–কে। কমিশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২৩ মে কমিশন রাজ্যের সিইও-দের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।

সূত্রের দাবি, কমিশনের এই নীতি কার্যকর হলে রাজ্যে কর্মরত বিএলও–দের ৮০ শতাংশই বাতিল হতে পারে। কিন্তু সম-সংখ্যক স্থায়ী সরকারি বা স্বশাসিত সংস্থার বা রাজ্যের আধা-সরকারি কর্মী পাওয়া মুশকিল হবে। জেলাগুলিতে এই সঙ্কট বেশি করে দেখা যাবে বলে আশঙ্কা।

About Post Author